রুহানির জাপান সফর: সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা বিস্তারে আগ্রহী শিনজো অ্যাবে
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i76097-রুহানির_জাপান_সফর_সব_ক্ষেত্রে_সহযোগিতা_বিস্তারে_আগ্রহী_শিনজো_অ্যাবে
ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গতকাল (শুক্রবার) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের সঙ্গে সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি সেদেশ সফরে যান।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
ডিসেম্বর ২১, ২০১৯ ১৫:০২ Asia/Dhaka
  • জাপানের প্রধানমন্ত্রীর  সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত
    জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্টের সাক্ষাত

ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি গতকাল (শুক্রবার) জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবের সঙ্গে সাক্ষাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে তিনি সেদেশ সফরে যান।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির এ সফর ইরান-জাপান সহযোগিতা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। জাপানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের প্রেসিডেন্টের উপস্থিতিতে ব্যাপক সন্তোষ প্রকাশ করে সব ক্ষেত্রে ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও সহযোগিতা বিস্তারে তার দেশের গভীর আগ্রহের কথা জানান। পর্যবেক্ষকদের মতে, অর্থনৈতিক বিষয়টি ছাড়াও  রাজনৈতিক দিক দিয়েও আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে এবং প্রেসিডেন্ট রুহানি ও প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে পরমাণু সমঝোতা বিষয়ে কথাবার্তা বলেছেন।

এ সাক্ষাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি জাতীয় স্বার্থের দিকে লক্ষ্য রেখে পরমাণু সমঝোতা টিকিয়ে রাখার জন্য ইরানের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে বলেছেন,  "আমেরিকা পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর এবং ইউরোপও তাদের প্রতিশ্রুতি পালন না করায় ইরান পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতায় দেয়া নিজের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রাখার পদক্ষেপ নিয়েছে।" আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিষয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, "মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিবেশীসহ সব দেশকে সহযোগিতা দিয়ে এসেছে তেহরান। এ কারণে পশ্চিম এশিয়ার সব দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে ইরান এরই মধ্যে পত্র পাঠিয়েছে।"

বাস্তবতা হচ্ছে, পরমাণু সমঝোতা থেকে আমেরিকার বেরিয়ে যাওয়া এবং ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন বেআইনি নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। এমনকি জাপান, চীন, রাশিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নেরও নীতি এবং আন্তর্জাতিক অবাধ বাণিজ্য আইনের লঙ্ঘন। এ কারণে পরমাণু সমঝোতা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টিতে জাপান উদ্বিগ্ন। কারণ এ উত্তেজনার ক্ষতিকর প্রভাব জাপানসহ অন্যান্য দেশের ওপরও পড়বে।

জাপানের ৮০ শতাংশের বেশি জ্বালানি তেল হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে যায়। ফলে যে কোনো উত্তেজনার কারণে এ  প্রণালী অস্থিতিশীল বা নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়লে শিল্পোন্নত দেশ জাপান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। জাপান বর্তমানে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ  এবং আমেরিকা ও চীনের পর জাপান হচ্ছে তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানি কারক দেশ।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আমেরিকার একতরফা নীতির কারণে আন্তর্জাতিক সমাজকে মূল্য দিতে হয়েছে। এ কারণে আমেরিকার অন্ধ অনুসরণ আঞ্চলিক কিংবা আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ক্ষতিকর। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি যেমনটি বলেছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তাহীনতার শেকড় অবশ্যই উপড়ে ফেলা উচিত। তিনি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত দুই বছর ধরে পরমাণু সমঝোতাকে ধ্বংস করা কিংবা ইরানের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়েছে।

যাইহোক, পররাষ্ট্র ক্ষেত্রে জাপান সরকারও আন্তর্জাতিক রীতি মেনে চলে। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রকৃত হুমকির বিষয়টি উপলব্ধি করে জাপান সরকার ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইলের পথ অনুসরণ করা থেকে বিরত থাকবে বলে সকলের প্রত্যাশা। এ কারণে ইরানের প্রেসিডেন্টের জাপান সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#  

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/২১