ইরান-চীন কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায়
-
চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর মধ্যে বৈঠক
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান ও চীনের মধ্যে ২৫ বছরের জন্য কৌশলগত অংশীদারিত্বের ব্যাপারে একটি রোড ম্যাপ চূড়ান্ত করতে সম্মত হয়েছে বেইজিং ও তেহরান। এ রোডম্যাপের বিষয়ে ১৯৯০’র দিকে প্রথম চিন্তা করা হয় কিন্তু দুই পক্ষ এখনো তা বাস্তবায়নের ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারে নি।
প্রাচীন সিল্ক রোডের আমল থেকেই ইরান এবং চীনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল তবে পাশ্চাত্যের দেশগুলো ইরান এবং চীনের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে অস্বীকৃতি জানানোর পর এই সম্পর্ক কৌশলগত সম্পর্কে রূপ নেয়। ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব সফল হওয়ার পর আমেরিকা তেহরানের সঙ্গে মার্কিন ব্যবসায়ীদের বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে।
অন্যদিকে ইউরোপের দেশগুলো মার্কিন চাপের মুখে ইরানের সঙ্গে লেনদেন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়। এই শূন্যস্থান পূরণ করেছে চীন এবং দিনে দিনে দু'দেশের সম্পর্ক এমন মজবুত অবস্থায় পৌঁছেছে যা ভেঙে দেয়া অন্য কোন দেশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
মার্কিন নেতৃত্বাধীন পাশ্চাত্যের নানামুখী নিষেধাজ্ঞার সত্ত্বেও এখনো ইরানি তেলের বৃহত্তম ক্রেতা। এছাড়া ইরানের বহু প্রকল্পে চীন বিপুল অঙ্কের বিনিয়োগ রয়েছে।
সম্ভাব্য কৌশলগত চুক্তি সম্পর্কে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গতকাল (সোমবার) জানিয়েছে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি এখনো চূড়ান্ত হয় নি তবে এর খসড়া লেখার কাজ সম্পন্ন হলে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে।
চলতি মাসের প্রথম দিকে ইরান সরকারের মুখপাত্র আলী রাবিয়ি সম্ভাব্য কৌশলগত চুক্তিকে ‘সহযোগিতার উইন-উইন পরিকল্পনা’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানকে আমেরিকা একঘরে করার চেষ্টা করছে তখনই সহযোগিতামূলক চুক্তি হতে যাচ্ছে।#
পার্সটুডে/এসআইবি/৩০