ইরান ও আইএইএর গঠনমূলক সহযোগিতা অব্যাহত: এখানেও থেমে নেই মার্কিন ষড়যন্ত্র
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি এ সংস্থার দায়িত্ব নেয়ার পর গত দেড় বছরে বিভিন্ন মহলের রাজনৈতিক চাপ ও ভিত্তিহীন অভিযোগের কারণে ইরানের সঙ্গে এ সংস্থার সম্পর্ক ইতিবাচক ছিল না।
সম্প্রতি আইএইএর প্রধানের তেহরান সফর এবং দু'পক্ষের মধ্যে কিছু বিষয়ে সমঝোতা হওয়ায় সম্পর্কে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এ ব্যাপারে তেহরানের বিবৃতি ও ভিয়েনায় ওই সংস্থার সদর দফতর থেকে দেয়া বিবৃতি থেকে ইরান ও আইএইএর মধ্যে সহযোগিতার নয়া অধ্যায় শুরুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। আইএইএ'র প্রধান রাফায়েল গ্রোসি গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ সংস্থার সাথে তেহরানের সমঝোতা এবং ইরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়েছেন।
গত ২৬ আগস্ট আইএইএর প্রধানের দুদিনের তেহরান সফর শেষে এক যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, ইরান স্বেচ্ছায় দু’টি পরমাণু স্থাপনায় এই সংস্থার পরিদর্শকদের প্রবেশাধিকার দিয়েছে। ভিয়েনায় ইরানের প্রতিনিধি কাজেম গারিব আবাদিও সাংবাদিকদের বলেছেন, এনপিটি বিষয়ে ইরানের সঙ্গে আইএইএর সমঝোতা এ দুপক্ষের মধ্যে সহযোগিতার নয়া অধ্যায়ের সূচনা করবে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ ব্যাপারে তেহরানের মতামত থেকে বোঝা যায়, বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে আইএইএর সঙ্গে ইরানের কোনো সমস্যা নেই। এ ব্যাপারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ বলেছেন, পরমাণু কর্মসূচির বিষয়ে আমাদের গোপনীয়তার কিছু নেই এবং যে কোনো বিষয়ে যৌক্তিক সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব। আমেরিকা ইরানের পরমাণু বিষয়ে সন্দেহ জিইয়ে রাখার যে চেষ্টা করছে তা এই সংস্থার সঙ্গে ইরানের সহযোগিতার মাধ্যমে আমেরিকার ওই প্রচেষ্টার অবসান ঘটবে।
ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার দু'টি লক্ষ্য রয়েছে। প্রথমটি হচ্ছে, ইরান ও আইএইএর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করা। বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসন ও মার্কিন কংগ্রেসের একদল কট্টর সিনেটররা এ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকার দ্বিতীয় লক্ষ্য হচ্ছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ইরানকে কোণঠাসা করা। বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকা এখন পর্যন্ত এ দুটি লক্ষ্যের একটিও অর্জন করতে পারেনি। নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের বিরুদ্ধে অস্ত্র নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ নবায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর এবং ইরানের বিরুদ্ধে স্ন্যাপব্যাক ম্যাকানিজম চালু করতে না পারায় অর্থাৎ কোনো দেশ এ ক্ষেত্রে আমেরিকাকে সমর্থন না করায় সর্বশেষ প্রচেষ্টা হিসেবে ইরানের সঙ্গে আইএইএর সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন। মার্কিন কর্মকর্তারা পরমাণু সমঝোতাকে ব্যর্থ প্রমাণ করার এবং তেহরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির যৌক্তিকতা প্রমাণের জন্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচির ব্যাপারে আইএইএর তদন্ত প্রতিবেদনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে।
প্রকৃতপক্ষে, ইরান এ পর্যন্ত সমস্ত আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি পালন করায় নিরাপত্তা পরিষদের মাধ্যমে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং দ্রুত ইরানের বিরুদ্ধে সমস্ত নিষেধাজ্ঞা বলবত করার মার্কিন চেষ্টা কার্যত বানচাল হয়ে গেছে। যাইহোক বর্তমানে আইএইএ ও ইরানের মধ্যে ভাল বোঝাপড়া এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা বজায় থাকায় সংস্থাটি নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে তেহরান আশা করছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৫