দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ: তেহরানের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i83089-দক্ষিণ_আফ্রিকায়_মার্কিন_রাষ্ট্রদূত_হত্যা_প্রচেষ্টার_অভিযোগ_তেহরানের_প্রতিক্রিয়া
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুরা বহুদিন ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ইরানের কথিত হস্তক্ষেপ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা, সন্ত্রাসবাদের প্রতি দেশটির কথিত সমর্থন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দেশটির শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরা প্রভৃতির মাধ্যমে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২০ ১৩:১৫ Asia/Dhaka

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের শত্রুরা বহুদিন ধরে এ অঞ্চলের দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ ব্যাপারে ইরানের কথিত হস্তক্ষেপ, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও সামরিক শক্তিকে হুমকি হিসেবে তুলে ধরা, সন্ত্রাসবাদের প্রতি দেশটির কথিত সমর্থন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, দেশটির শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচিকে বিপজ্জনক হিসেবে তুলে ধরা প্রভৃতির মাধ্যমে ইরান আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করে আসছে।

এই নীতির অনুসরণ করে শত্রুরা এবার নতুন করে ইরান বিরোধী প্রচারণা শুরু করেছে যা কিনা পলিটিকো সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়েছে, ইরান  দক্ষিণ আফ্রিকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন এ ধরনের দাবি মার্কিন ও ইহুদিবাদী ইসরাইলে যৌথ ষড়যন্ত্র ও চিন্তার ফসল এবং তা ইরান বিরোধী প্রচারণায় নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। এর আগে ২০১১ সালের ১১ অক্টোবর একজন মার্কিন পদস্থ কর্মকর্তা কোনো দলিল প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেছিলেন, ইরান সৌদি আরবে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্যার চেষ্টা করেছে। এরপর ইরান ওই অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে জাতিসংঘে লেখা চিঠিতে এ অভিযোগের আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিল। এবারও তারা আমেরিকার একটি প্রচার মাধ্যমের সহযোগিতায় হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগ এনেছে ইরানের বিরুদ্ধে।

এমন সময় তারা ইরানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছে যখন সবারই জানা আছে যে বহু চিহ্নিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে আমেরিকা তৈরি করেছে। খোদ মার্কিন কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন যে, আল কায়দা ও দায়েশ বা আইএস'র মতো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো সৃষ্টির পেছনে ইসরাইল ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হাত রয়েছে যাতে এদের মাধ্যমে মার্কিন লক্ষ্য বা পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করা যায়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সাঈদ খাতিবযাদেহ দক্ষিণ আফ্রিকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে হত্যা প্রচেষ্টার অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, বরং মার্কিন কর্মকর্তারাই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে বহু সন্ত্রাসী ও হত্যা পরিকল্পনার পাশাপাশি অন্য দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ করেছে। এমনকি তারা আন্তর্জাতিক চুক্তি ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে ইরানের আইআরজিসির কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যার মতো স্পর্ধা দেখিয়েছে। এভাবে আমেরিকা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত কাজ করে চলেছে এবং দেশটি গুণ্ডারাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।

ইরান বহুবার বলেছে, সোলাইমানি হত্যার ঘটনায় তারা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে এবং এ থেকে তারা কখনো পিছু হটবে না। এ অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বিরোধী ক্ষোভ ও ঘৃণা বেড়ে চলায় এবং আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সামনে আমেরিকার জনগণও সরকারের অন্যায় ও বৈষম্যমূলক নীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুটে ওঠায় জনমতকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য হোয়াইট হাউজ ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভিত্তিহীন অভিযোগ উত্থাপন করবে এটাই স্বাভাবিক। অতীতেও দেখা গেছে, নির্বাচনে জেতার জন্য ক্ষমতাসীনরা শত্রু দেশগুলোর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে নির্বাচনী ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে।#

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৫