ইরানে করোনার বিস্তারে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব: ট্রাম্পের লোক দেখানো সহমর্মিতা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। এমনকি বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারীর বিস্তার ঘটলেও ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরান একদিকে বাইরে থেকে ওষুধ আমদানি করতে পারছে না অন্যদিকে করোনা মহামারী মোকাবেলায়ও হিমশিম খাচ্ছে। এ অবস্থায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প করেনা পরিস্থিতিতে ইরানে জনগণের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যুরগ্যান অর্থাগাস দাবি করেছেন, ইরানে করোনার বিস্তারে তারা উদ্বিগ্ন। তিনি আরো বলেছেন, ইরানে করোনার আরো ভয়াবহ বিস্তার ঘটতে পারে বলে যুক্তরাষ্ট্র চিন্তিত। তিনি গত ফেব্রুয়ারিতে দেয়া মার্কিন সহায়তা প্রস্তাবেরও পুনরাবৃত্তি করেন। এমন সময় তিনি এসব বক্তব্য দিলেন যখন মার্কিন অন্যায় নিষেধাজ্ঞার কারণে করোনা মোকাবেলায় ইরান মারাত্মক সংকটে পড়েছে। এমনকি বহু দেশ ওয়াশিংটনের এ পদক্ষেপকে অমানবিক হিসেবে অভিহিত করে ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এদিকে, মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ম্যুরগ্যান অর্থাগাস এমন সময় ইরানের করোনা পরিস্থিতিকে ভয়াবহ বলে উল্লেখ করলেন যখন তারা নিজেরাই চরম অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক করোনা সংকটে জর্জরিত। করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে শীর্ষে অবস্থান করছে।
ধারণা করা হচ্ছে ২৬টি দেশ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নীতির তীব্র সমালোচনা করার পর ইরানের করোনা পরিস্থিতির ব্যাপারে লোক দেখানো সহমর্মিতা ও উদ্বেগ প্রকাশ করল ওয়াশিংটন। ইরানে করোনা ভাইরাসের বিস্তার ঘটায় চীন ও রাশিয়ার মতো দেশগুলো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যাতে করোনা মোকাবেলায় ইরান প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী আমদানি করতে পারে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা তো উঠিয়ে নেয়নি বরং আরো বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে। মার্কিন সরকারের ইরান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি অ্যলিওত অবরামাজ সম্প্রতি বলেছেন, আগামী সপ্তাহ ও মাসগুলোতে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা আরো তীব্রতর করা হবে।
তাই এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, করোনা মোকাবেলায় ইরানের যখন ওষুধের প্রয়োজন এবং অবিলম্বে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়া দরকার তখন মার্কিন সরকার আরো বেশি নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেয়া থেকে বোঝা যায় তারা ইরানকে তো সহযোগিতা করতে চায় না বরং নিষেধাজ্ঞাকে ইরানের জনগণের বিরুদ্ধে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়। প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প প্রশাসন বর্তমানে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের পাশাপাশি চিকিৎসা ক্ষেত্রেও সন্ত্রাসবাদ চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে এ আচরণ নিঃসন্দেহে মানবতা বিরোধী অপরাধ।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৭