যেসব কারণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর গুরুত্বপূর্ণ
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আর্থ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রে সম্পর্ক বিস্তার করা ইরানের পররাষ্ট্র নীতিতে অগ্রাধিকার পেয়ে আসছে। প্রতিবেশী পাকিস্তানের সঙ্গে ইরানের নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাওয়াদ জারিফ আজ ইসলামাবাদ সফরে যাওয়ার প্রাক্কালে এক টুইটবার্তায় বলেছেন, এ সফরকালে তিনি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কোরেশি, সেনা প্রধান জেনারেল বাজওয়া এবং প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক নানা বিষয় নিয়ে মতবিনিময় করবেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, প্রধান দুটি কারণে ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমত, ভৌগোলিক দিক দিয়ে দুটি দেশই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় কিংবা বহুপক্ষীয় সহযোগিতা বিস্তারের সুযোগ রয়েছে। পাকিস্তানসহ ১৫টি দেশ ইরানের প্রতিবেশী। কোনটির সঙ্গে ভূমি আবার কোনটির সঙ্গে সমুদ্র সীমানা রয়েছে ইরানের। এ অঞ্চলে অভিন্ন হুমকি মোকাবেলা ও নিরাপত্তা রক্ষার ক্ষেত্রেও ইরান ও পাকিস্তানের মধ্যে সহযোগিতার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।
দুদেশের সীমান্তে কয়েকটি সন্ত্রাসী গ্রুপ খুবই তৎপর। সন্ত্রাসীদের হামলায় প্রায় ইরানের সীমান্ত রক্ষী নিহতের ঘটনা ঘটছে। সন্ত্রাসীরা ইরান, পাকিস্তানসহ সমগ্র এ অঞ্চলের নিরাপত্তাকে টার্গেট করেছে। কিন্তু ইরান সরকার বিশ্বাস করে বাইরের কোনো দেশের সহযোগিতা ছাড়াই প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতায় এ অঞ্চলে নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব এবং যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা দীর্ঘ মেয়াদে অর্থনৈতিক সহযোগিতা গড়ে তোলার সুযোগ এনে দেবে যা কিনা এ অঞ্চলের জনগণের অভিন্ন স্বার্থ রক্ষা করবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী গত বছর তেহরান সফরকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতে দুদেশের সম্পর্ককে অনেক গভীর উল্লেখ করে বলেছিলেন, 'পাকিস্তানের ব্যাপারে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে সুপ্রতিবেশী ও ভ্রাতৃসূলভ।' তিনি আরো বলেন, "দু'দেশ সম্পর্ককে আরো ঘনিষ্ঠ করার পাশাপাশি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার এবং যৌথ গ্যাস পাইপ লাইন দ্রুত চালু করতে পারে।''
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং অভিন্ন হুমকি মোকাবেলায় নিজেদের সামর্থ্যকে কাজে লাগানোর জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পাকিস্তান সফর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ ক্ষেতে বড় বাধা হয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র এ অঞ্চলের দেশগুলোকে খণ্ডবিখণ্ড করার পাশাপাশি আইএস ও আল কায়দার মতো উগ্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তুলেছে এবং এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা সৃষ্টিতে তাদেরকে ব্যবহার করছে। আমেরিকার এ নীতির সরাসরি প্রভাব পড়েছে ইরাক ও আফগানিস্তানে যেখানে ভয়াবহ সন্ত্রাসবাদের বিস্তার ঘটেছে। সেকারণে এ অঞ্চলের অন্য দেশও এটা উপলব্ধি করতে পেরেছে যে তারাও হুমকির মুখে রয়েছে।
মোটকথা বলা যায়, এসব কারণে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ইসলামাবাদ সফর গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০