পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আইএইএ প্রধানের বক্তব্য ইউরোপ ও মার্কিন নীতিরই অনুসরণ
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i85437-পরমাণু_সমঝোতা_নিয়ে_আইএইএ_প্রধানের_বক্তব্য_ইউরোপ_ও_মার্কিন_নীতিরই_অনুসরণ
ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা সব পক্ষকেই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ফের আলোচনায় বসে পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে না।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ডিসেম্বর ১৯, ২০২০ ১৩:২৫ Asia/Dhaka

ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা সব পক্ষকেই বাস্তবায়ন করতে হবে এবং এ চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে ফের আলোচনায় বসে পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করা যাবে না।

ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোতে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি কাজেম গারিবাবাদি এ ব্যাপারে বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা নিয়ে আর কোনো আলোচনা হবে না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন সরকার আসার পরও তা নিয়ে আলোচনার প্রয়োজন নেই। তিনি আরো বলেছেন, আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএ'র দায়িত্ব হচ্ছে পরমাণু সংক্রান্ত তৎপরতা পর্যবেক্ষণ, ন্যায্যতা প্রতিপাদন এবং এ সংক্রান্ত বাস্তব পরিস্থিতির বিষয়ে সর্বশেষ তথ্যসম্বলিত প্রতিবেদন উপস্থাপন। তিনি বলেন, পরমাণু সমঝোতা কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে বা হবে সে সংক্রান্ত কোনো বক্তব্য দেওয়া আইএইএ'র দায়িত্ব নয়।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আইএইএ'র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জেনেভায় ইরানের প্রতিনিধি এসব কথা বলেছেন। গ্রোসি দাবি করেছেন, 'মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে পরমাণু সমঝোতাকে পুনরুজ্জীবিত করতে নতুন সমঝোতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে।' এদিকে ইরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক সাঈদ জালাল সাদাতিয়ান বলেছেন, 'ইরান নয় বরং ইউরোপ ও আমেরিকাই পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন করেনি।'

পরমাণু সমঝোতার এক বছর পর মার্কিন সরকার এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানও এ সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্থগিত রাখে। ইরান জানিয়ে দিয়েছে নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলে তেহরান ফের পরমাণু সমঝোতায় ফিরে আসবে।

যাইহোক, আইএইএ'র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বক্তব্য থেকে দুটি বিষয় উঠে এসেছে। প্রথমত, পরমাণু সমঝোতা বাস্তবায়নে আইএইএ'র নজরদারি যথেষ্ট নয় এবং গ্রোসির সাম্প্রতিক বক্তব্যে ইরান ও আইএইএর মধ্যকার সহযোগিতার বিষয়টিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আইএইএ'র মহাপরিচালক ইরানের ওপর নতুন করে যে শর্ত জুড়ে দিয়েছেন তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের  নীতিরই অনুসরণ। তাদের এটা ভুলে গেলে চলবে না যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামতো নতুন করে চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার জন্য ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির ঘোষণা দিয়েছিলেন। যদিও ট্রাম্প ক্ষমতা থেকে বিদায় নিতে চলেছেন এবং তিনি ইরানের ব্যাপারে কোনো লক্ষ্যেই পৌছতে পারেননি। 

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আইএইএ'র মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসির বক্তব্যের বিষয়টি বাদ দিয়ে বলা যায় ভিয়েনায় ইরানের প্রতিনিধি যেমনটি বলেছেন, পরমাণু সমঝোতা পুনরুজ্জীবিত করার জন্য নতুন করে আলোচনার কোনো প্রয়োজন নেই।#     

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৯