রেডিও তেহরানের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী
আমার দৃষ্টিতে রেডিও তেহরান এবং অর্জন
১৯৮৯ সালের ২৪শে জুলাই নৈশ অধিবেশনে কোরআন তেলাওয়াত ও বাংলায় তরজমা অনুষ্ঠানের মুগ্ধতায় অভিভুত হয়েই রেডিও তেহরানের সঙ্গে আমার প্রথম সম্পর্কের সূত্রপাত।
বহির্বিশ্ব প্রচার তরঙ্গের ১৬ টি বাংলা বিভাগের অনুষ্ঠান শ্রবণ ও মূল্যায়ন করে অনুষ্ঠানমালার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনান্তে নিঃসন্দেহে বলা যায় আইআরআইবি বাংলা সার্ভিস সত্যিই ব্যতিক্রম। বিশ্ব সমাজের সার্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে আমাদের মিলন সেতুবন্ধন রচনা করছে আইআরআইবি । রেডিও তেহরানের বিভিন্ন বিষয়কেন্দ্রীক অনুষ্ঠান সূচিতে নানা শাখা প্রশাখাতে বিভক্ত যা শ্রোতাদের মন জয় করতে সক্ষম। রাষ্টীয়ভাবে আইআরআইবি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র মুসলিম দেশের বেতার কেন্দ্র হওয়া সত্ত্বেও সকল ধর্মের শ্রোতাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও ধর্ম নিরপেক্ষতা বজায় রেখেই সকল ধর্ম বিশ্বাসী শ্রোতাদের আস্থা অর্জনে সদা তৎপর। সেইসাথে তামাম দুনিয়ার ইসলাম ও মুসলমানদের কথা বলিষ্টভাবে প্রচার করে রেডিও তেহরান দৃঢ়তা ও ন্যায়ের ভূমিকায় অগ্রগামী পদচারণা অব্যাহত রেখেছে, মার্কিন নেতৃত্বে সামাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে। ইরান হচ্ছে অন্ধকারাচ্ছন্ন পৃথিবীর ধ্রুবতারা, বিশ্বের অন্যান্য বেতারের কর্মীরা বড় বেশি যান্ত্রিক পক্ষান্তরে আইআরআইবি সংশ্লিষ্টদের আছে যথেষ্ট ঐকান্তিক আন্তরিকতাসহ পরম মমত্ববোধ। তাই শ্রোতাদের সহজেই কাছে টেনে নেয় রেডিও তেহরান।
ইরানের মুসলিম জাতির বিজয় যেকোনো নিপীড়িত জাতির সামনে নিঃসন্দেহে একটি বড় উদাহরণ। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের জাতিসমুহের কাছে ইরান আদর্শ মডেল। ইরান দেখিয়ে দিয়েছে একটি জাতি কিভাবে ইসলামের বৈপ্লবিক চিন্তা দ্বারা পরাশক্তিকে পরাস্ত করেছে। ইমাম খোমেনী (রহ) শুধু ইরানি জাতিকেই ঝাঁকুনি দিয়ে জাগিয়ে দেননি, গোটা বিশ্বের মুসলমান নির্যাতিত মানুষের হৃদয়ে নতুন করে নবজাগরণ জাগিয়েছেন। বিংশ শতাব্দির শেষ প্রান্তে এসে পৃথিবীর দেশে দেশে মুসলমানদের গণজাগরণ জাগিয়েছে। শ্রোতাদের সময়ের আর্বতে কালের পরিক্রমায় অনুষ্ঠান সূচিতে রদবদল হয়ে শ্রোতানন্দিত “চিঠিপত্রের আসর প্রিয়জন” অনুষ্ঠানটি শ্রোতাদের পরম কাক্ষিত প্রতিক্ষার প্রহর পেরিয়ে সমালোচনা, মতামত, প্রস্তাব, পরামর্শসহ সাপ্তাহিক পরিক্রমার শুরুতেই চমৎকার হাদিস নিয়ে হাজির হন উপস্থাপকগণ। প্রিয়জন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের শ্রোতাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও মৈত্রীর সেতুবন্ধন।
বিশ্ব সংবাদে আছে বস্তুনিষ্ঠ তরতাজা তামাম দুনিয়ার হালচাল, যে সংবাদে নেই কোন উস্কানিমূলক প্ররোচনা, নেই কোন পক্ষপাতদুষ্টতা। অথচ মার্কিন নেতৃত্বে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে ইরান যে সাহসী ও বলিষ্ট ভূমিকা অব্যাহত রেখেছে তা প্রশংসার দাবিদার। পাশ্চাত্য সরকারগুলো ইসরাইলের বর্ণবাদী ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করলেও ফিলিস্তিনিদের মাতৃভূমি ও আত্মরক্ষার সংগ্রামকে সন্ত্রাসী তৎপরতা হিসেবে প্রচার করছে। বিগত ০৩/০৬/২০০৪ ইং ইমাম খোমেনী (রহ.)-এর জন্মবার্ষিকী নিয়ে বিশেষ পরিবেশনায় জেনেছি- ইমাম খোমেনীর ব্যাক্তিত্ব শুধু ইরানি জাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, তিনি সারা বিশ্বের মানবতার সম্পদ। তাঁর উন্নত নৈতিক চরিত্র ও ব্যাক্তিত্বকে সবাই সন্মান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখে। তিনি নিপীড়িত সাম্রাজ্যবাদী আমেরিকার কবল থেকে মুসলিম জাতিকে রক্ষা করার এক লৌহ কঠিন প্রতিরোধকারী ব্যাক্তিত্ব ছিলেন। ১৬/০১/২০০১ইং প্রচারিত অনুষ্ঠান ‘বিশ্ব সভ্যতায় ইসলামের অবদান’ অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও তথ্য বহুল পরিবেশনা ছিল। ১১/০২/২০০৯ ইং ‘বাংলাদেশে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন ও তার প্রভাব’ নিয়ে ড. সাদেক খানের বিশেষ সাক্ষাৎকার চমৎকার ছিল। সর্বোপরী বলতে হয় রাজনৈতিক সামাজিক ও আন্তজাতিক প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে প্রণয়নকৃত বিশেষ অনুষ্ঠান সময়ের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে তথ্য ও তত্ত্ব সরবরাহে যথেষ্ট ভূমিকা রেখেছে অনিস্বীকার্য। যে বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠানে নেই পক্ষপাতদুষ্ট অভিমত, আছে শিক্ষা প্রসারের ধারণা, সমাজের প্রত্যেক স্তরের কল্যাণ চিন্তা ও আদর্শ পথের নির্দেশনা তার নাম হলো রেডিও তেহরান।
রেডিও তেহরান বাংলা বিভাগের উপস্থাপক/উপস্থাপিকাগণ যথার্থই উপলব্ধি করেন অনুষ্ঠানের জন্য শ্রোতারা নন, শ্রোতাদের জন্য অনুষ্ঠান।
প্রেরক
খন্দকার এইচ আর হাবিব
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, মৌলভীর ডাঙ্গা বিশ্ব বেতার শ্রোতা সংঘ
মধ্যপাড়া খনিজ শিল্পাঞ্চল, মধ্যপাড়া, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।
পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/১৮