‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পরিবেশিত রংধনু আসরটি ছিল সত্যিই অনবদ্য’
https://parstoday.ir/bn/news/letter-i114836-ঈদে_মিলাদুন্নবী_(সা.)_উপলক্ষে_পরিবেশিত_রংধনু_আসরটি_ছিল_সত্যিই_অনবদ্য’
সুপ্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। চিঠির শুরুতে রইল হেমন্তের ঋতুর শুভেচ্ছা। আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন।
(last modified 2026-04-10T03:25:29+00:00 )
অক্টোবর ২২, ২০২২ ২০:৪১ Asia/Dhaka
  • ‘ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে পরিবেশিত রংধনু আসরটি ছিল সত্যিই অনবদ্য’

সুপ্রিয় মহোদয়, আসসালামু আলাইকুম। চিঠির শুরুতে রইল হেমন্তের ঋতুর শুভেচ্ছা। আশা করি মহান আল্লাহর অশেষ মেহেরবাণীতে সবাই সুস্থ ও ভালো আছেন।

গত ১৩ অক্টোবর ২০২২ তারিখে রেডিও তেহরান থেকে প্রচারিত মহানবীর জন্মদিন ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে গাজী আবদুর রশিদ ও আকতার জাহানের উপস্থাপনায় ও আশরাফুর রহমানের গ্রন্থনা ও প্রযোজনায় বিশেষ রংধনুর আসরটি আমি ওয়েবসাইটে শুনলাম। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১২ রবিউল আওয়াল মতান্তরে ১৭ রবিউল আওয়াল তারিখে পৃথিবীতে এসেছিলেন। তাঁর আগমনে ধন্য হয়েছিল পৃথিবী ও মানব সমাজ। সে দিন গোটা পৃথিবীর থেকে অন্ধকারের ঘনঘটা দূর হয়ে হেরার আলোয় উদ্ভাসিত হযেছিল পাপ পংকিলতায় ভরপুর এই ধরণী। তিনি ছিলেন উত্তম চরিত্রের অধিকারী। তার জীবনাদর্শ মানব জাতির জন্য অনুকরণীয়। তাঁকে ভালোবেসে তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন উৎসর্গ করে যেতে পারলেই পারলৌকিক সুখ আর চিরসস্থায়ী শান্তির আশা করা যায়। আল্লাহ আমাদের সবাইকে মহানবীর জীবন আদর্শ মেনে জীবন পরিচালনার তৌফিক দান করুন। আমীন!

বিশেষ এই রংধনু অনুষ্ঠানটি শুনে জানতে পারলাম মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জন্ম দিনে পৃথিবীতে অনেক অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল। যেমন তাঁর জন্মের দিন ভোর বেলায় পৃথিবীর সবগুলো মূর্তি মাটির দিকে নত হয়ে পড়ে। বিশেষ করে বিশ্বনবীর জন্ম দিনে ইরানে কী কী অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল তা রংধনুর এই বিশেষ অনুষ্ঠানের মধ্যমে জানতে পারলাম।

 যেসব অলৌকিক ঘটনা ঘটেছিল তা হলো- মহানবী (সা.) এর জন্মের দিন ইরানি সম্রাটের প্রাসাদের খিলান আকৃতির তোরণ মাঝখান দিয়ে ভেঙ্গে যায় এবং ছাদের ১৪টি প্রাচীর ধসে পড়ে। ইরানের সভে অঞ্চলে একটি হ্রদ ছিল। বহু বছর ধরে ওই হ্রদে পুজা করা হতো। মহানবীর জন্মকালে ওই হ্রদটি শুকিয়ে যায়। কুফা ও সিরিয়ার মধ্যবর্তী সামাভে অঞ্চলটি বহু বছর ধরে প্রচণ্ড খরায় শুকিয়ে পানিশূন্য হয়ে পড়েছিল। নবীজীর জন্মের সময় সেখানে পানির প্রবাহ সৃষ্টি হয়। শুধু তাই নয়, রাসূল (সা.) এর জন্মের রাতে বর্তমান ইরানের শিরাজ শহর সংলগ্ন ফার্স অঞ্চলে অগ্নি উপাসনালয়ে আগুন নিভে গিয়েছিল। অথচ ওই আগুন এক হাজার বছর পর্যন্ত প্রজ্জ্বলিত ছিল। রাসুল (সা.)-এর জন্মের রাতে হিজাজ বা বর্তমান সৌদি আরব থেকে একটি আলো দেখা যায় এবং তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এই বিষয়ের উপর কবি কাজী নজরুল ইসলামের কল্পনারাজ্যের চিত্রায়িত সেই বিখ্যাত গানটি বাংলাদেশি শিশুশিল্পী রাইশার কণ্ঠে-

“তোরা দেখে যা আমিনা মায়ের কোলে......মধু পূর্ণিমারই সেথা চাঁদ দোলে...” খুব চমৎকার লাগলো।

বাংলাদেশের শিশু শিল্পী তাসমিয়া, অয়ন, ইরফান ও ইরানের অনাহিতার কণ্ঠে নবীজিকে ভালোসার কারণ সংক্রান্ত প্রাণবন্ত সাক্ষাৎকার ও কবিতা আবৃত্তি খুব ভালো চমৎকার হয়েছে। মহানবীকে নিয়ে ইরানি কবি শেখ সাদীর একটি ফার্সি কবিতা অনাহিতার কণ্ঠে ও চমৎকার বাচনভঙ্গিতে আবৃত্তি খুব সুন্দর ও মনোমুগ্ধকর হয়েছে। ইরফানুলের কণ্ঠে আরবী নাতের রাসুল খুব ভালো লেগেছে।

বাংলাদেশ ও ইরানের চারজন শিশুশিল্পীর মাধ্যমে সাজানো রংধনুর বিশেষ আসরটি সত্যি অনবদ্য ও মনে রাখার মতো একটি সুন্দর অনুষ্ঠান। এতো সুন্দর অনুষ্ঠান উপহার দেওয়ার জন্য গাজী আবদুর রশিদ, আকতার জাহান, আশরাফুর রহমান ও উক্ত চারজন শিশুশিল্পীসহ রেডিও তেহরানের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।

যদি সম্ভব হয় মহানবী (সা.) এর উপর রচিত ফার্সি ভাষায় কোনো ইরানি বিখ্যাত শিল্পীর কণ্ঠে নাতে রাসুল শোনানোর অনুরোধ রইল।

 

ধন্যবাদান্তে

মুহাম্মদ আব্দুল হাকিম মিঞা

গ্রাম: ছোট জামবাড়িয়া, ডাকঘর: বড়গাছীহাট

উপজেলা: ভোলাহাট, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ, বাংলাদেশ।

 

পার্সটুডে/আশরাফুর রহমান/২২

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।