মার্কিন সেনা প্রত্যাহার, কিছু উপদেষ্টার ব্যাপারে সরকার বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i101928-মার্কিন_সেনা_প্রত্যাহার_কিছু_উপদেষ্টার_ব্যাপারে_সরকার_বিরোধীদের_প্রতিক্রিয়া
ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য যে চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছিল আজ ৩১ ডিসেম্বর ছিল তার শেষ দিন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত জুনে ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। তবে এও বলা হয়েছিল যে মার্কিন সেনারা চলে গেলেও ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কিছু সংখ্যক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ইরাকে থাকবে।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ডিসেম্বর ৩১, ২০২১ ১৬:১৬ Asia/Dhaka

ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের জন্য যে চূড়ান্ত সময়সীমা বেধে দেয়া হয়েছিল আজ ৩১ ডিসেম্বর ছিল তার শেষ দিন। ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত জুনে ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছিলেন। তবে এও বলা হয়েছিল যে মার্কিন সেনারা চলে গেলেও ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য কিছু সংখ্যক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ইরাকে থাকবে।

জুনের সমঝোতা অনুযায়ী সেনা প্রত্যাহারের শেষ দিনে আজ ইরাকের প্রধানমন্ত্রী মোস্তফা আল কাজেমি জানিয়েছেন, এরই মধ্যে সব মার্কিন সেনা ইরাক ত্যাগ করেছে তবে সামরিক উপদেষ্টা হিসেবে কিছু মার্কিনী ইরাকে প্রবেশ করেছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের আর কোনো বিদেশি সেনা ইরাকে নেই উল্লেখ করে ইরাকের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়কের মুখপাত্র ইয়াহিয়া রাসুল বলেছেন, যে স্বল্প সংখ্যক মার্কিন সামরিক উপদেষ্টা ইরাকে রয়েছে তাদের প্রধান কাজ হবে ইরাকি সেনাদেরকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেয়া। ইরাকের  যৌথ সামরিক অভিযান বিষয়ক দফতরের মুখপাত্র তাহসিন আল খাফাজি বলেছেন, আইন আল আসাদ সামরিক ঘাঁটিতে আর কোনো মার্কিন সেনা অবশিষ্ট নেই এবং সেখানে কেবল মার্কিন সামরিক উপদেষ্টারা রয়েছে।

এদিকে, ইরাকের কর্মকর্তারা যখন সেদেশ থেকে মার্কিন সেনারা চলে গেছে বলে খবর দিয়েছেন তখন কিছু দিন আগে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড বা সেন্টকমের প্রধান ইব্রাত ম্যাক গুরাক বলেছিলেন, তাদের কোনো সেনাই ইরাক ত্যাগ করবে না বরং তারা কেবল সামরিক পরিচিতিকে পাল্টে উপদেষ্টা বা প্রশিক্ষক হিসেবে ইরাকে থেকে যাবে।

তবে সেনা প্রত্যাহার সংক্রান্ত ঘোষণা দেয়া সত্বেও সেদেশ থেকে মার্কিন সেনাদের চলে যাওয়ার খবর খুব কম মানুষই বিশ্বাস করেছে। কেননা ইরাকে মার্কিন সেনা উপস্থিতির বিরোধীরা মনে করেন, সেনা প্রত্যাহার নিয়ে সরকার যা বলছে তার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে এ নিয়ে জনরোষ কমিয়ে আনা এবং ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে পার্লামেন্টে যে প্রস্তাব পাশ হয়েছিল সে সম্পর্কে জনগণকে ধোঁকা দেয়া। ওই প্রস্তাবে সব মার্কিন সেনাকে ইরাক ছাড়ার কথা বলা হয়েছিল। সামরিক উপদেষ্টা বা প্রশিক্ষক হিসেবে কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে কেউ ইরাকে থাকবে এমন কোনো কথা ছিল না। তাই প্রধানমন্ত্রী কাজেমি সামরিক প্রশিক্ষক হিসেবে কিছু সংখ্যক মার্কিনী ইরাকে থাকবে বলে যে ঘোষণা দিয়েছেন তা পার্লামেন্টে পাশ হওয়া ওই প্রস্তাবের লঙ্ঘন।

ইরাকের জনপ্রিয় প্রতিরোধ বাহিনী ইরাক থেকে সব মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের যে দাবি জানাচ্ছে তার পেছনে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ রয়েছে। প্রথমত, যে কিছু সংখ্যক মার্কিন সেনা ইরাকে থাকবে তা ইরাকের সেনাবাহিনীর স্বার্থকে রক্ষা করবে না। বাস্তবতা হচ্ছে আমেরিকা কখনোই চায় না পশ্চিম এশিয়ায় মুসলমানদের শক্তিশালী কোনো সেনাবাহিনী গড়ে উঠুক। এ অবস্থায় তারা ইরাকি সেনাবাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেবে এ ধারণা সম্পূর্ণ মিথ্যা। দ্বিতীয়ত, ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি মানেই শহীদদের রক্তকে অবমাননা করা। তাই উপদেষ্টা হিসেবে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।    

যাইহোক, বর্তমানে মার্কিন সেনাদের ব্যাপারে ইরাক সরকার যে নীতি নিয়েছে তাতে আগামীতে ইরাকের সেনাবাহিনী ও প্রতিরোধকামী যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাতের সূচনা করতে পারে। ইরাকের প্রতিরোধকামী গ্রুপগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, যে উদ্দেশ্যেই হোক কোনো মার্কিন সেনা যদি ইরাকে অবস্থান করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। #    

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩১ 

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।