যে কারণে কাতারের আমিরের যুক্তরাষ্ট্র সফর গুরুত্বপূর্ণ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i103184-যে_কারণে_কাতারের_আমিরের_যুক্তরাষ্ট্র_সফর_গুরুত্বপূর্ণ
কাতারের আমির শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানি ওয়াশিংটন সফরে গেছেন এবং আজই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে কাতারের আমিরের এটাই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
জানুয়ারি ৩১, ২০২২ ১৮:১৯ Asia/Dhaka
  • শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানি
    শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানি

কাতারের আমির শেইখ তামিম বিন হামদ আলে সানি ওয়াশিংটন সফরে গেছেন এবং আজই মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের সঙ্গে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। জো বাইডেন প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো শীর্ষ নেতা হিসেবে কাতারের আমিরের এটাই প্রথম যুক্তরাষ্ট্র সফর।

এখন পর্যন্ত এ অঞ্চলের কোনো দেশের কোনো শীর্ষ নেতা জো বাইডেনের সঙ্গে সাক্ষাতে মিলিত হননি। অবশ্য গত এক বছরে প্রেসিডেন্ট বাইডেন কাতারের আমিরের সঙ্গে কয়েকবার টেলিফোনে কথা বললেও সরাসরি তারা সাক্ষাতে মিলিত হননি। মার্কিন পররাষ্ট্র নীতিতে কাতারের বিশেষ স্থান রয়েছে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শাসনামলে কাতার-মার্কিন সম্পর্কের ওপর রিয়াদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের প্রভাব পড়েছিল। বর্তমানে কাতারের আমিরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের উদ্দেশ্য হচ্ছে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরো শক্তিশালী করা। কাতার ও আমেরিকার মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রয়েছে। কাতারের আল আদিদে আমেরিকার বড় বিমান ঘাঁটি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে এটিই তাদের সবচেয়ে বড় বিমান ঘাঁটি।

কাতারের আমিরের যুক্তরাষ্ট্র সফরের আরেকটি উদ্দেশ্যও রয়েছে। হোয়াইট হাউজ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, কাতারের আমিরের এ সফর আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে মতবিনিময় করার সুযোগ এনে দেবে। এ ছাড়া, পারস্য উপসাগর ও মধ্যপ্রাচ্য এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা, বিশ্বে জ্বালানি ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা এবং আফগান জনগণকে সহায়তা করাসহ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও পুঁজিবিনিয়োগের বিষয়ে কথাবার্তা হবে।

হোয়াইট হাউজের বিবৃতিতে বলা হয়েছে দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়টি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে। কেননা বিষয়টি সম্প্রতি ইউক্রেন-রাশিয়ার মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার সঙ্গেও সম্পর্কিত। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, রাশিয়া ইউক্রেনে হামলার পায়তারা করছে। এ অবস্থায় আমেরিকা সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, রাশিয়া যদি ইউক্রেনে হামলা চালায় তাহলে মস্কোর কাছ থেকে ইউরোপের গ্যাস কেনা কমে যাবে অথবা বন্ধ হয়ে যাবে। ইউরোপ তাদের প্রয়োজনীয় ৪০ শতাংশের বেশি গ্যাস রাশিয়া থেকে আমদানি করে। এ অবস্থায় আমেরিকা ইউরোপের গ্যাসের চাহিদা মেটানোর জন্য রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে কাতারকে ব্যবহার করতে চাইছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইউরোপে গ্যাস রপ্তানির মাধ্যমে যদিও কাতার রাজনৈতিকভাবে লাভবান হবে কিন্তু তারপরও এ দেশটি চায় না এশিয়ার কোনো দেশকে বিপদে ফেলতে। আরেকটি বিষয় হচ্ছে ইউরোপে রাশিয়ার গ্যাস রপ্তানি যদি বন্ধ হয়ে যায় তাহলে কাতারের একার পক্ষে ওই বিশাল অঞ্চলের গ্যাসের চাহিদা মেটানো কঠিন হবে।

কাতারের আমিরের যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে আফগানিস্তান প্রসঙ্গও গুরুত্ব পাবে। কাতারে তালেবান প্রতিনিধিদের সাথে মার্কিন সরকারের বহুবার বৈঠক হয়েছে। কাতার বৈঠকে সর্বশেষ ২০২০ সালে সমঝোতা অনুযায়ী আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে চুক্তি হয়েছিল। আফগানিস্তানের সংকট এখনো অব্যাহত রয়েছে এবং কাতার তুরস্কের সহযোগিতায় আফগানিস্তানের বেশ কয়েকটি বিমান বন্দর পরিচালনার চেষ্টা করছে। প্রেসিডেন্ট বাইডেনের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়টিও উত্থাপিত হবে। এ বৈঠকে ভিয়েনায় চলমান চার যোগ এক গ্রুপের সাথে ইরানের পরমাণু আলোচনা নিয়েও কথা হবে। ধারণা করা হচ্ছে কাতারের আমির পরমাণু সমঝোতার বিষয়ে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি ওয়াশিংটনকে অবহিত করবেন। #

পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/৩১           

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।