ইসরায়েলের লক্ষ্য আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা ধ্বংস করা: কাতার সম্মেলনে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/iran-i156814-ইসরায়েলের_লক্ষ্য_আরব_দেশগুলোর_নিরাপত্তা_ধ্বংস_করা_কাতার_সম্মেলনে_ইরানের_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: “কারও ভুল হিসাব নিকাশ করা উচিত নয়: কারণ আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি দিয়ে কোনও অঞ্চল স্থিতিশীল থাকবে না।” শুক্রবার, কাতারে আল জাজিরা ফোরাম ২০২৬”-এর উদ্বোধনী প্যানেলে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার বক্তৃতায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বর্তমান সংকট সম্পর্কে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
(last modified 2026-02-07T12:47:20+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ ১৮:৪৫ Asia/Dhaka
  • • ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি
    • ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি

পার্সটুডে- ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন: “কারও ভুল হিসাব নিকাশ করা উচিত নয়: কারণ আইনের বাইরে কাজ করার অনুমতি দিয়ে কোনও অঞ্চল স্থিতিশীল থাকবে না।” শুক্রবার, কাতারে আল জাজিরা ফোরাম ২০২৬”-এর উদ্বোধনী প্যানেলে বিশেষ অতিথি হিসেবে তার বক্তৃতায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ আব্বাস আরাকচি বর্তমান সংকট সম্পর্কে ইরানের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।

পার্সটুডে জানিয়েছে, আরাকচি তার বক্তৃতা শুরু করেন এই বলে: “ফিলিস্তিন আমাদের অঞ্চলের কৌশলগত এবং নৈতিক দিকনির্দেশনা। এটি আন্তর্জাতিক আইনের অর্থবহতা, মানবাধিকারের সার্বজনীন মূল্য আছে কিনা এবং দুর্বলদের রক্ষা করার জন্য আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলি আছে কিনা - নাকি কেবল শক্তিশালীদের শক্তিকে ন্যায্যতা দেওয়ার জন্য আছে তারই একটি পরীক্ষা।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন: “ফিলিস্তিন এবং গাজা কেবল একটি মানবিক সংকট নয়। এটি আরও বৃহত্তর এবং বিপজ্জনক কিছুর জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে। আর তাহলো নিরাপত্তারএর ব্যানারে পরিচালিত সম্প্রসারণবাদী প্রকল্প। তিনি জোর দিয়ে বলেন: “আজ আমরা গাজায় যা দেখছি তা কেবল যুদ্ধ নয়। এটি বেসামরিক ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ এবং গণহত্যা।”

এই সংকটের আঞ্চলিক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে আরাকচি বলেন: “ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী প্রকল্প এই অঞ্চলের সকল দেশের নিরাপত্তার উপর প্রত্যক্ষ ও অস্থিতিশীল প্রভাব ফেলেছে। ইসরায়েলি সরকার এখন প্রকাশ্যে সীমান্ত লঙ্ঘন করছে। তারা সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করছে। তারা কর্মকর্তাদের হত্যা করছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন: “যদি ধ্বংস এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে গাজা সমস্যা 'সমাধান' করা হয়, তাহলে পশ্চিম তীরই হবে পরবর্তী টার্গেট এবং সংযুক্তিকরণ আনুষ্ঠানিক নীতিতে পরিণত হবে।” ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তার বক্তৃতার অন্য অংশে, এই প্রকল্পের কাঠামোগত পরিণতির কথা উল্লেখ করে বলেন: “ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রতিবেশী দেশগুলিকে দুর্বল করা প্রয়োজন; সামরিক, প্রযুক্তিগত, অর্থনৈতিক এবং সামাজিকভাবে, যাতে ইসরায়েলি সরকার স্থায়ীভাবে শীর্ষস্থান দখল করতে পারে।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন: “এই প্রকল্পের কাঠামোর মধ্যে, ইসরায়েল কোনও বিধিনিষেধ ছাড়াই তার সামরিক অস্ত্রাগার সম্প্রসারণ করতে স্বাধীন, যার মধ্যে কোনও পরিদর্শন ব্যবস্থার বাইরে থাকা গণবিধ্বংসী অস্ত্রও অন্তর্ভুক্ত। একই সাথে, অন্যান্য দেশগুলিকে নিরস্ত্রীকরণের আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরাকচি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন এবং সম্মিলিত দায়িত্বের নীতির উপর ভিত্তি করে আমাদের একটি সমন্বিত আইনি, কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা কৌশল প্রয়োজন। তিনি "তাৎক্ষণিক অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা স্থগিতকরণ এবং ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের উপর বিধিনিষেধ আরোপের" আহ্বান জানান।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী "জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ঐক্যবদ্ধ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র" গঠনের আহ্বান জানান এবং মুসলিম বিশ্ব, আরব বিশ্ব এবং বিশ্বব্যাপী দক্ষিণের দেশগুলিকে "একটি ঐক্যবদ্ধ কূটনৈতিক ফ্রন্ট" তৈরি করার আহ্বান জানান।তিনি বলেন "এটি কোনো সংঘাতের বিষয় নয় বরং এটি বলপ্রয়োগের মাধ্যমে মাধ্যমে পুনর্গঠিত হওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়।" #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।