চীন কেন ইরানের পারমাণু অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিচ্ছে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156818-চীন_কেন_ইরানের_পারমাণু_অধিকারের_পক্ষে_অবস্থান_নিচ্ছে
পার্সটুডে- চীন আবারও ইরানের পারমাণু অধিকারের প্রতি সমর্থন জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।
(last modified 2026-02-07T14:01:21+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬ ১৯:৩৩ Asia/Dhaka
  • গারিবাবাদি (বামে) ও লিউ বিন (ডানে)
    গারিবাবাদি (বামে) ও লিউ বিন (ডানে)

পার্সটুডে- চীন আবারও ইরানের পারমাণু অধিকারের প্রতি সমর্থন জোরালোভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী লিউ বিন বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্টের বিশেষ প্রতিনিধি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি'র সঙ্গে সাক্ষাতে আবারও তেহরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকারের প্রতি সমর্থন জানান এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই চীনা কর্মকর্তা বলেছেন- বেইজিং সবসময় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উপায়ে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর শান্তিপূর্ণ সমাধানকে সমর্থন করে এসেছে। তিনি শক্তি প্রয়োগের হুমকি ও নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বলেন, চীন ইরানের শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের বৈধ অধিকারকে সমর্থন করে। লিউ বিন স্মরণ এটা করিয়ে দেন যে, ইরান বারবার বলেছে-পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির কোনো ইচ্ছা নেই এবং চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত, যাতে ইরানের পারমাণবিক ইস্যুর জন্য একটি উপযুক্ত ও টেকসই সমাধান এগিয়ে নেওয়া যায়।

এই বৈঠকে গারিবাবাদি ইরানের পারমাণবিক ইস্যুতে চীনের নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং বেইজিংয়ের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ ও সমন্বয় বজায় রাখার ব্যাপারে তেহরানের আগ্রহের কথা জানান।

চীন সাধারণত তার অবস্থানকে কোনো নির্দিষ্ট দেশের প্রতি নিছক রাজনৈতিক সমর্থন হিসেবে নয়, বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার সাধারণ নীতিসমূহ—যেমন শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের অধিকার, বহুপাক্ষিকতা এবং একতরফা চাপের বিরোধিতা—রক্ষার অংশ হিসেবে তুলে ধরতে চায়।

আন্তর্জাতিক কাঠামোর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক অধিকার রক্ষা করা মানে এমন একটি আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করা, চীন নিজেও এর অংশীদার।

ইরানের পারমাণবিক ইস্যু চীনের কাছে পশ্চিমা শক্তিগুলোর ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে নিষেধাজ্ঞা ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার ব্যবহার করার একটি স্পষ্ট উদাহরণ। ফলে ইরানের পক্ষে অবস্থান নেওয়া একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার প্রতি একটি প্রতীকী বার্তা। যে বার্তাটি বলে দেয় যে, চীন সংকট ব্যবস্থাপনায় একতরফা মডেল গঠনের পক্ষে নয়।

তৃতীয় কারণ হলো- অর্থনৈতিক ও জ্বালানি স্বার্থ। ইরান জ্বালানি বাজারে একটি প্রভাবশালী দেশ এবং একই সঙ্গে “বেল্ট অ্যান্ড রোড” উদ্যোগেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ইরানের স্থিতিশীলতা এবং পারমাণবিক ইস্যুর কূটনৈতিক সমাধান চীনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করে। বেইজিংয়ের দৃষ্টিতে, পারমাণবিক ও নিরাপত্তাজনিত চাপ শুধু আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাই দুর্বল করে না, বরং জ্বালানি ও বাণিজ্য পথের অস্থিতিশীলতাও বাড়ায়—যা সরাসরি চীনের কৌশলগত স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়।

ইরানের পারমাণবিক অধিকারের পক্ষে অবস্থান নিয়ে চীন নিজেকে একটি দায়িত্বশীল শক্তি ও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। বেইজিং সাধারণত কূটনৈতিক সমাধান, সংলাপ ও বহুপাক্ষিক চুক্তিতে ফিরে যাওয়ার পক্ষে কথা বলে এবং এই দৃষ্টিভঙ্গিকে প্রতিরোধমূলক নীতির বিপরীতে তুলে ধরে। এই অর্থে চীনের অবস্থান শুধু ইরানের পক্ষে সমর্থন নয়; বরং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক ব্যবস্থায় নিজের ভূমিকা নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ—যে ব্যবস্থায় চীন একদিকে নিয়মের রক্ষক হতে চায়, আবার অন্যদিকে সেগুলোর বাছাইকৃত প্রয়োগের সমালোচক হিসেবেও থাকতে চায়।#

পার্সটুডে/এসএ/০৭

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।