'মৃত্যুমুখী ইসরাইলের সঙ্গে গাঁটছড়া মানে পরাস্ত ঘোড়া নিয়ে জুয়া খেলা'
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i128910-'মৃত্যুমুখী_ইসরাইলের_সঙ্গে_গাঁটছড়া_মানে_পরাস্ত_ঘোড়া_নিয়ে_জুয়া_খেলা'
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জুয়া খেলায় জড়িত হয়েছে যেসব সরকার তারা এ খেলায় হেরে যাবে, কারণ তারা পরাজিত ঘোড়া নিয়ে জুয়া খেলছে। 
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
অক্টোবর ০৪, ২০২৩ ১০:৩৩ Asia/Dhaka

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার জুয়া খেলায় জড়িত হয়েছে যেসব সরকার তারা এ খেলায় হেরে যাবে, কারণ তারা পরাজিত ঘোড়া নিয়ে জুয়া খেলছে। 

তিনি এ ধরনের পদক্ষেপকে অপ্রত্যাশিত হিসেবে তুলে ধরে বলেছেন, তাদের উচিত নয় এমন ভুল করা। পরাজয় তাদের জন্য অপেক্ষা করছ –এমন মন্তব্য করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, কারণ ফিলিস্তিনি আন্দোলন এখন অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি অগ্রসর ও প্রাণবন্ত এবং ইসরাইল বিদায়ের পথে ও মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

দখলদার বিরোধী, নির্যাতন-বিরোধী ও ইহুদিবাদ-বিরোধী সংগ্রামে জড়িত ফিলিস্তিনি তরুণদের অতীতের তুলনায় বেশি প্রস্তুতি ও প্রফুল্লতার কথা তুলে ধরে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন,  ইসরাইল নামক ক্যান্সারটি আল্লাহর ইচ্ছায় ফিলিস্তিনি জনগণ ও গোটা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলের প্রতিরোধকামী শক্তিগুলোর হাতে নির্মূল হবে।

এটা স্পষ্ট ইহুদিবাদী ইসরাইল এখন অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি দুর্বল। প্রথমত: ইসরাইল বিরোধী প্রতিরোধ শক্তিগুলো এখন অতীতের তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। ইসরাইল বার বার তাদের মোকাবেলায় ব্যর্থ হচ্ছে এবং পরাজয়ের স্বাদ পেতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে ইসরাইলি দখলদারদের এক বিপুল অংশ ইসরাইল থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীরাও হতাশ হয়ে সেখানে তাদের প্রকল্প বাতিল করছে।

দ্বিতীয়ত: ইসরাইলি শাসক-গোষ্ঠীর মধ্যে ঘরোয়া দ্বন্দ্বের কারণেও হতাশা ছড়িয়ে পড়ছে ইহুদিবাদী দখলদারদের মধ্যে।  এ অবস্থায় নিরাপত্তার আশায় ইসরাইলের সঙ্গে আপোস-রফা করা মানে বিলুপ্ত হতে যাওয়া কোনো কিছুর সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করা অথবা সাগরের উত্তাল জোয়ারকে ঠেকানোর জন্য বালির বাঁধ দেয়ার মতই মারাত্মক বোকামি ছাড়া অন্য কিছু নয়।

স্বার্থপর কোনো কোনো আরব সরকার সামান্য কিছু সুবিধা পাওয়ার আশায় ইসরাইলের মত চরম মুসলিম-বিরোধী শক্তির সঙ্গে গাঁটছড়া বাধলেও শিগগিরই বুঝতে পারবে যে ইসরাইল একটি অবিশ্বস্ত অবৈধ সরকার ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠী ওয়াদা ভঙ্গ করতে অভ্যস্ত এবং তাদের মধ্যে থাকা চরমপন্থীরা নীল নদ থেকে ফোরাত পর্যন্ত ইসরাইলি শাসন বিস্তৃত করার ষড়যন্ত্র বা নীল-নক্সা ত্যাগ করতে প্রস্তুত নয়।

অন্যদিকে সংগ্রামী ফিলিস্তিনিরাও তাদের অধিকার পুরোপুরি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চালিয়ে যাবেই। ফলে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সচেষ্ট এইসব স্বার্থপর গোষ্ঠী মুসলিম জাতিগুলোর কাছে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে এক সময় শাস্তি পাবে অথবা রাজ্য ও ক্ষমতা হারিয়ে ইতিহাসের  কেবল আস্তাকুড়ে ঠাঁই পাবে। 

সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি সরকার ইহুদিবাদী ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/০৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।