ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কয়েকটি আরব দেশ সফর: গাজা ইস্যু প্রাধান্য পাচ্ছে
গাজা উপত্যকার জনগণের বিরুদ্ধে যখন দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলের আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলো সফরের মাধ্যমে ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করার চেষ্টা করছেন।
তিনি গত ১২ অক্টোবর সর্বপ্রথম ইরাক সফর করেন এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ ও পরামর্শ করেন। আমির আবদুল্লাহিয়ান বাগদাদের পর গত শুক্রবার একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে লেবাননের রাজধানী বৈরুতে পৌঁছেন এবং প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ বু-হামিদ এবং হিজবুল্লাহ মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর সাথে দেখা করেন এবং এ অঞ্চলের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। তার সফর সূচিতে সিরিয়া সফরও রয়েছে। ইরাক ও লেবাননের কর্মকর্তাদের সাথে আমির আবদুল্লাহিয়ানের আলোচনার মূল বিষয় ছিল গাজার বিরুদ্ধে ইসরাইলের চাপিয়ে দেয়া যুদ্ধ পরিস্থিতি।
প্রথম কথা হচ্ছে, বায়তুল মোকাদ্দাস দখলদার ইসরাইল এখন গাজায় যে তাণ্ডব চালাচ্ছে তা স্পষ্ট যুদ্ধাপরাধ। গাজায় ইসরাইলি হামলায় এ পর্যন্ত দেড় হাজারের ওপরে মানুষ শহীদ এবং সাত হাজার জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে। জাতিসংঘ শিশু তহবিল ইউনিসেফ এর মতে, মৃতদের মধ্যে ৪৫০টি শিশুও রয়েছে। এছাড়া বিদ্যুৎ ও পানি বিচ্ছিন্ন থাকায় চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো আহতদের সেবা দিতে পারছে না এবং গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ইরাকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আবদুল্লাহিয়ান জোর দিয়ে বলেছেন, গাজায় ইসরাইল যে তাণ্ডব চালাচ্ছে তা যুদ্ধাপরাধের সুস্পষ্ট উদাহরণ। ইরাকের কর্মকর্তারা একই কথা বলেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ সফরের দ্বিতীয় গুরুত্বের বিষয়টি হচ্ছে, গাজা উপত্যকার বিরুদ্ধে যুদ্ধ অবসানের জন্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রচেষ্টা বাড়ানো উচিত এবং গাজা যুদ্ধকে আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হওয়া রোধ করা। হামাস যোদ্ধাদের আল-আকসা তুফান অভিযানে ৭৫ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হওয়া ইসরাইল গাজার বিরুদ্ধে ব্যাপক স্থল যুদ্ধ শুরু করার এবং লেবানন ও সিরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধ ফ্রন্ট খোলার চেষ্টা করছে।
এ প্রসঙ্গে, লেবাননের প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি, আমির আবদুল্লাহিয়ানের সাথে সাক্ষাতে, বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি মোকাবেলায় কূটনৈতিক যোগাযোগকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন এবং এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় ইরানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। তিনি আঞ্চলিক যুদ্ধ প্রতিরোধে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে আরব এই দেশগুলোর নেতারা এ অঞ্চলে মার্কিন ধ্বংসাত্মক ভূমিকারও সমালোচনা করেছেন। ইসরাইল এতোবড় অপরাধযজ্ঞ চালালেও আমেরিকা তেলআবিবকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে।
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।