হিজবুল্লাহ কেন ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে?
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i160828-হিজবুল্লাহ_কেন_ইসরায়েলের_সাথে_লেবানন_সরকারের_চুক্তি_প্রত্যাখ্যান_করেছে
পার্সটুডে- লেবাননে হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম এবং হিজবুল্লাহর কিছু প্রতিনিধি লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার সমালোচনা করেছেন এবং কথিত চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।
(last modified 2026-06-28T12:29:09+00:00 )
জুন ২৮, ২০২৬ ১৮:২৫ Asia/Dhaka
  • • ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের চুক্তি
    • ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের চুক্তি

পার্সটুডে- লেবাননে হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম এবং হিজবুল্লাহর কিছু প্রতিনিধি লেবানন সরকার ও ইসরায়েলের মধ্যে আলোচনার সমালোচনা করেছেন এবং কথিত চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শুক্রবার ঘোষণা করেন, ওয়াশিংটনে আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে একটি চুক্তির কাঠামো ঠিক করা হয়েছে। এই চুক্তির কাঠামো স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রুবিও বলেন যে, এই কাঠামোতে পৌঁছানো (প্রাথমিক চুক্তি) হলো কাজের সূচনা। রুবিওর এই খবর ঘোষণার পর লেবাননের হিজবুল্লাহ প্রতিক্রিয়া জানায় এবং এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে। প্রশ্ন হলো, হিজবুল্লাহ কেন ইসরায়েলের সাথে লেবানন সরকারের চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছে?

হিজবুল্লাহর বিরোধিতার প্রধান কারণ হলো, এই চুক্তিটিতে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে উপেক্ষা করা হয়েছে এবং ইসরায়েলকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। হিজবুল্লাহর দাবি হচ্ছে, যেকোনো চুক্তির ফলে লেবাননের অধিকৃত অঞ্চলগুলো থেকে ইসরায়েলিদের প্রত্যাহার নিশ্চিত করতে হবে, কিন্তু এই চুক্তিতে ইসরায়েলের দাবি অনুযায়ী লেবাননের প্রতিরোধ বাহিনীকে নিরস্ত্রীকরণের ওপর জোর দেয়া হয়েছে  যা হিজবুল্লাহ কখনোই মেনে নেবে না। প্রকৃতপক্ষে, হিজবুল্লাহ মনে করে এই চুক্তিটি লেবাননে তেল আবিবের দখলদারিত্বকে বৈধতা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে, হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম সতর্ক করে বলেছেন, লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারকে প্রতিরোধ বাহিনীকেও নিরস্ত্রীকরণের শর্ত আরোপ করা সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে এবং লেবাননকে শত্রুর হাতে একটি খেলনায় পরিণত করছে। তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননে দখলদারদের অবস্থানকে বৈধতা দেওয়া হলে তা ইসরায়েলের দ্বারা এই অঞ্চলগুলোর দীর্ঘমেয়াদী দখলদারিত্ব এবং এমনকি সংযুক্তিকরণের দিকেও নিয়ে যেতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো, হিজবুল্লাহ বিশ্বাস করে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমর্থনে ক্ষমতায় আসা বর্তমান লেবানিজ সরকারের ইসরায়েলের সাথে আলোচনা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় ও আইনগত কর্তৃত্ব নেই। লেবাননের সংসদে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি হাসান ফজলুল্লাহ এই কথিত চুক্তির সমালোচনা করে বলেছেন, নেতানিয়াহু আসলে নিজের সাথেই আলোচনা করছেন, কারণ এই লেবানিজ সরকারের সাংবিধানিক ও চুক্তি করার বৈধতা নেই এবং নিজেদের দাবি চাপিয়ে দেওয়ার মতো সামর্থ্যও তাদের নেই।

আরেকটি কারণ হলো, এই চুক্তিটি ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া ইসলামাবাদ চুক্তির সাথে সাংঘর্ষিক। ইসলামাবাদ চুক্তিতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে যেকোনো চুক্তির জন্য ইরানের শর্ত ছিল লেবাননের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের যুদ্ধের অবসান এবং লেবাননের দখলকৃত এলাকা থেকে ইসরায়েলের প্রত্যাহার, যে শর্তটি ইসরায়েল মেনে নেয়নি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে।  

এখন, লেবানন এবং ইসরায়েলের মধ্যে পৃথক আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে দেয়া প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করেছে এবং কার্যত ইসরায়েলকে লেবাননের ওপর হামলা চালিয়ে যেতে ও দেশটি দখল করতে স্বাধীনতা দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে লেবাননের সংসদে হিজবুল্লাহর প্রতিনিধি হাসান ফজলুল্লাহ জোর দিয়ে বলেন: "ওয়াশিংটনে যা ঘটেছে তা ইসলামাবাদের সমঝোতাকে ব্যর্থ করার একটি প্রচেষ্টা এবং এই চুক্তিগুলোর কোনোটিই বিনা প্রতিরোধে বাস্তবায়িত হবে না।" লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেমও বলেছেন, "ওয়াশিংটনের চুক্তিটি একটি অপমানজনক, লজ্জাজনক এবং অকার্যকর চুক্তি, এবং এর পরিবর্তে লেবাননে যুদ্ধ বন্ধ করার বিষয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া সমঝোতার বিধানগুলো বাস্তবায়ন করা উচিত।" #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৮

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।