ফিলিস্তিনিদের ধরে নিয়ে কারাগারে নির্যাতন চালানো ইসরাইলের চিরাচরিত নীতি
বন্দি মুক্তি বিষয়ক কমিটি, ফিলিস্তিন প্রিজনার্স এসোসিয়েশন, বন্দি সহযোগিতা সংস্থা 'আজ-জামির' এবং মানবাধিকার কেন্দ্র 'আল-মিজান' সম্প্রতি একটি যৌথ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গেল আগস্ট মাসে দখলদার ইসরাইলি বাহিনী ৫১৬ ফিলিস্তিনিকে ধরে নিয়ে গেছে। এদের মধ্যে ৭৩ শিশু, ১০ জন মহিলা এবং ২টি কিশোরী মেয়ে রয়েছে।
বন্দিদের ওপর ইসরাইলিদের পাশবিক নির্যাতন এবং ইসরাইলের কারাগারে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মানবেতর জীবন যাপনের পরিস্থিতি আগেকার যে-কোনো সময়ের চেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিশ্ববাসী তাই এখন ইসরাইলিদের বন্দি নির্যাতনের বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে। ইসরাইল মূলত বন্দিদের ওপর এই পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে ফিলিস্তিনিদের মাঝে ভীতি ও ত্রাস সৃষ্টি করতে চাচ্ছে যাতে ফিলিস্তিনিরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে আর আগের মতো দৃঢ়তার সঙ্গে না দাঁড়ায়।
ফিলিস্তিনের জনগণ মানবতার শত্রু অবৈধ ও দখলদার ইসরাইলের বিরুদ্ধে সেই শুরু থেকেই রুখে দাঁড়িয়েছে। এর ফলে ইসরাইলি কারাগারে লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনিকে বন্দি জীবন যাপন করতে হয়েছে। এখনও ওই বর্ণবাদীদের কারাগারে আটক আছে কমপক্ষে সাত হাজার ফিলিস্তিনি।
নারী ও শিশুদের ওপর এই পাশবিক অত্যাচার প্রমাণ করে ইসরাইল ফিলিস্তিনিদের নির্যাতনের ক্ষেত্রে মানবাধিকারসহ কোনো নিয়মনীতির ধার ধারে না। অপরাধের সীমা ছেড়ে গিয়ে তারা ফিলিস্তিনিদের ধরে নেয়া অব্যাহতভাবে চালিয়েই যাচ্ছে। তারা এমনসব আইন তৈরি করছে যাতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের অধিকার পুরোপুরি পদদলিত করে শারীরিক ও মানসিকভাবে তাদেরকে দুর্বল করে দিতে পারে। অন্তত তারা কারাগার থেকে মুক্তি পাবার পর যেন ইসরাইল বিরোধী সংগ্রামে যুক্ত হবার শক্তি হারিয়ে ফেলে। দেখা গেছে ইসরাইলি কারাগারে যেসব ফিলিস্তিনি দু:খজনকভাবে বন্দি হয়ে পড়েছে তাদের বেশিরভাগই ভয়াবহ নির্যাতন ও অত্যাচারের শিকার হয়ে পঙ্গু হয়ে গেছে কিংবা এমন সব রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে, যেসব রোগের কোনো চিকিৎসা নেই।
অবাক করার মতো ব্যাপার হলো ইসরাইল এতোসব নির্যাতন চালিয়েও ফিলিস্তিনি বন্দিদের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে বিন্দুমাত্রও লক্ষ্যচ্যুত করতে পারে নি। উল্টো বরং ইসরাইলের আসল ও ভয়ংকর চেহারা তারা বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরতে সক্ষম হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম ও দৃঢ় মনোবল ধুলিস্মাৎ করার ক্ষেত্রে ইসরাইলের এই যে ব্যর্থতা তা আবারও প্রমাণ হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা তাই ইসরাইলি কারাগারে বন্দিদের কথা এবং তাদের মুক্তির দাবি থেকে এক পাও পিছায় নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বরং ফিলিস্তিনি বন্দিদের প্রতি তাদের সংহতি প্রকাশের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব ঘটনা প্রমাণ করে বর্ণবাদী ইসরাইলের মোকাবেলায় ফিলিস্তিনিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম উত্তরোত্তর দৃঢ়তর হবে। ইসরাইলি কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের প্রতিবাদ বিক্ষোভের ঘটনা তাদের সেই দৃঢ় মনোবল ও সংগ্রামী চেতনারই বহি:প্রকাশ। এই ঘটনা আরও প্রমাণ করছে ইসরাইল যতই নির্যাতন চালাক ফিলিস্তিনিদেরকে তাদের প্রতিরোধ সংগ্রাম থেকে একচুলও নড়াতে পারবে না।*
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/২