ইয়েমেনের ৮০ শতাংশ মানুষের জরুরি ত্রাণ প্রয়োজন: জাতিসংঘ
-
অপুষ্টির শিকার ইয়েমেনের একটি শিশু
জাতিসংঘ বলেছে, ইয়েমেনের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। সৌদি আরবের বর্বরোচিত বিমান হামলায় যখন নারী ও শিশুসহ ইয়েমেনের অগণিত বেসামরিক মানুষ মারা পড়ছে এবং দেশটির অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে তখন এ তথ্য জানাল জাতিসংঘ।
সংস্থাটির আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল স্টিফেন ও’ব্রায়েন সোমবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে জানিয়েছেন, ইয়েমেনের দুই কোটি ২৪ লাখ নাগরিকের মধ্যে দুই কোটি ১২ লাখ মানুষেরই জরুরি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজন। তিন লাখ ৭০ হাজার শিশুসহ ইয়েমেনের অন্তত ২০ লাখ মানুষ ক্ষুধা ও অপুষ্টিতে ভুগছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
জাতিসংঘের এই পদস্থ কর্মকর্তা বলেন, ইয়েমেনে যুদ্ধরত পক্ষগুলো যদি অবিলম্বে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরে ব্যর্থ হয় তাহলে দেশটি যে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে তা গোটা মধ্যপ্রাচ্যের জন্য মারাত্মক পরিণতি বয়ে আনবে।
এদিকে জাতিসংঘের ইয়েমেন বিষয়ক বিশেষ দূত ওউল্দ শেইখ আহমেদ সোমবার বলেছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ইয়েমেনে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব পক্ষ সর্বোচ্চ সদিচ্ছা নিয়ে আলোচনার টেবিলে বসলে যুদ্ধবিরতি সম্ভব বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
মৌরিতানিয়ার এই কূটনীতিক সম্প্রতি ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি রোডম্যাপ তৈরি করেছেন। এতে ইয়েমেনে একটি জাতীয় ঐক্যমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে যেটি দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ক্ষেত্র সৃষ্টি করবে।
ইয়েমেনের সৌদি সমর্থিত পদত্যাগকারী প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি জাতিসংঘের বিশেষ দূতের এই শান্তি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, এটি বাস্তবায়িত হলে হুথি আনসারুল্লাহ আন্দোলন লাভবান হবে।
বর্তমানে রাজধানী সানাসহ ইয়েমেনের বিশাল অংশ আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/১