ইয়েমেনকে খণ্ডবিখণ্ড করার চেষ্টা; নেপথ্যে সৌদি আরব: জাতিসংঘের সায়
ইয়েমেনের জনপ্রিয় আনসারুল্লাহ সংগঠনের সুপ্রিম কাউন্সিল এক বিবৃতিতে সেদেশের বর্তমান বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য সৌদি আরব ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে দায়ী করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির ছত্রছায়ায় সেদেশকে খণ্ডবিখণ্ড করার ষড়যন্ত্র করছে শত্রুরা। এ ছাড়া, জাতিসংঘসহ মানসুর হাদির অন্য সমর্থকরা সময় ক্ষেপণের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমাজকে বিভ্রান্ত করার এবং সংকট অবসানে রাজনৈতিক সংলাপ বন্ধের চেষ্টা করছে।
ইয়েমেনের জাতীয় ঐকমত্য সরকারের প্রধানমন্ত্রী আব্দুল আজিজ বিন হাবতুরও জানিয়েছেন, সৌদি ডলারের বিনিময়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ একের পর এক ইয়েমেনের বিরুদ্ধে প্রস্তাব পাশ করছে। তিনি অভিযোগ করেন, রাজতন্ত্র শাসিত অন্য আরব দেশগুলোর পূর্ণ সহযোগিতায় সৌদি আরব অত্যন্ত বর্বরোচিতভাবে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বিরাজমান সংকট সমাধানে জাতিসংঘ কেন ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে তার কারণ অনুসন্ধান করা উচিত।
প্রকৃতপক্ষে, জাতিসংঘের ওপর বৃহৎ শক্তিগুলোর কর্তৃত্ব এবং সৌদি আরবের মতো ধনী দেশগুলোর বিদ্বেষী নীতির বাস্তবায়ন ও বিপুল অর্থ সহায়তা লাভের আশায় জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক কোনো সমস্যারই সমাধান করতে পারেনি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে সৌদি আরবের ভয়াবহ অপরাধযজ্ঞের ব্যাপারে জাতিসংঘ পুরোপুরি নীরব রয়েছে। ইয়েমেনের ব্যাপারে জাতিসংঘ প্রতিনিধির নিষ্ক্রিয় ভূমিকা থেকে এই সংস্থার ব্যর্থতার বিষয়টি পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ইয়েমেনের ব্যাপারে ভুল করেই চলেছেন। ইয়েমেন বিষয়ক জাতিসংঘের প্রতিনিধি ইসমাইল বালাদ আশ্ শেইখ আহমাদের কার্যক্রম থেকেই তা বোঝা যায়। ইয়েমেন সংকট সমাধান করা তো দূরে থাক দেশটিকে খণ্ডবিখণ্ড করার ষড়যন্ত্রের ব্যাপারেও জাতিসংঘ নীরব রয়েছে। এ থেকে বোঝা যায় ওই ষড়যন্ত্রের প্রতি জাতিসংঘেরও সমর্থন রয়েছে। সৌদি আরব প্রতিদিন বিমান হামলা চালিয়ে নারী ও শিশুসহ এ পর্যন্ত ১২ হাজারের বেশি সাধারণ মানুষকে হত্যা করলেও জাতিসংঘ রিয়াদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। বরং এই সংস্থা শিশু হত্যাকারী দেশের তালিকা থেকে সৌদি আরবের নাম বাদ দিয়েছে। এর ফলে সৌদি আরব আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে এবং ইয়েমেনে গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে।
জাতিসংঘ দ্বিমুখী নীতি নিয়ে একদিকে সৌদি আরবের অপরাধযজ্ঞের নিন্দা জানাচ্ছে অন্যদিকে মানবতা বিরোধী কর্মকাণ্ড থেকে সৌদিকে বিরত রাখারও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ থেকে আমেরিকার রাজনৈতিক শক্তি ও সৌদি আরবের টাকার কাছে জাতিসংঘের দুর্বলতা ও অসহায়ত্বের প্রমাণ পাওয়া যায়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে, সৌদি আরব ইয়েমেনে ভয়াবহ যুদ্ধাপরাধে লিপ্ত। কিন্তু তারপরও দেশটি পাশ্চাত্যের সহযোগিতায় জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছে যা কিনা ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, জাতিসংঘের এ কর্মকাণ্ড থেকে সৌদি আরবের জন্য এ বার্তায় পৌঁছে গেছে যে, তারা নির্বিঘ্নে ইয়েমেনে নারী ও শিশু হত্যা করতে পারবে এবং এমনকি খোদ সৌদি আরবেও মানুষের অধিকার পদদলিত করতে পারবে। যাইহোক, ইয়েমেনে এ বিপর্যয়কর পরিস্থিতির জন্য জাতিসংঘ ও সৌদি আরব তাদের দায় এড়াতে পারে না যা কিনা ইয়েমেনের কর্মকর্তারাও বহুবার বলে এসেছেন।#
পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/১৯