বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি উচ্ছেদের দাবি জানাল সরকার বিরোধী জোট
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i39232-বাহরাইনে_মার্কিন_সামরিক_ঘাঁটি_উচ্ছেদের_দাবি_জানাল_সরকার_বিরোধী_জোট
বাহরাইনের স্বৈরসরকার জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন চালানোয় এবং আমেরিকার সবুজ সংকেতে প্রখ্যাত শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ ঈসা কাসিমকে গৃহবন্দী করে রাখায় সেদেশের জনগণের মধ্যে মার্কিন বিরোধী মনোভাব ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
জুন ০২, ২০১৭ ১৪:১২ Asia/Dhaka

বাহরাইনের স্বৈরসরকার জনগণের ওপর জুলুম নির্যাতন চালানোয় এবং আমেরিকার সবুজ সংকেতে প্রখ্যাত শিয়া ধর্মীয় নেতা শেখ ঈসা কাসিমকে গৃহবন্দী করে রাখায় সেদেশের জনগণের মধ্যে মার্কিন বিরোধী মনোভাব ক্রমেই জোরদার হচ্ছে।

বাহরাইনের জনগণের মার্কিন বিরোধী প্রতিবাদ আন্দোলন তীব্রতর হওয়ার একই সময়ে সরকার বিরোধী ফোরটিন ফেব্রুয়ারি আন্দোলনের নেতারা শেখ ঈসা কাসিমের বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার প্রতিবাদে ওই দেশ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। এই আন্দোলনের এক  নেতা ইসাম আল মানামি বলেছেন, আজ রমজানের প্রথম শুক্রবারকে মার্কিন সেনা বহিষ্কার এবং বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি খালি করার জাতীয় দিবস হিসাবে ঘোষণা করেছে ফোরটিন ফেব্রুয়ারি আন্দোলন।

প্রকৃতপক্ষে, বাহরাইনে সামরিক উপস্থিতির মাধ্যমে আমেরিকা কার্যত ওই দেশটির সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে চলেছে এবং এর বিরুদ্ধে সেদেশের জনগণ সোচ্চার। বাহরাইনের আলে খলিফা সরকার সম্প্রতি রিয়াদ সম্মেলনে আমেরিকার কাছ থেকে এ সংকেতই পেয়েছে যে, জনগণের বিরুদ্ধে সরকার অবাধে জুলুম নির্যাতন চালাতে পারবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাহরাইনের প্রখ্যাত শিয়া আলেম শেখ ঈসা কাসিমের বাড়িতে নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার ঘটনা ছিল রিয়াদে অনুষ্ঠিত আরব-মার্কিন ষড়যন্ত্রমূলক শীর্ষ সম্মেলনের প্রথম বার্তা। গত ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বাহরাইনের জনগণ স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যের অবসান এবং নির্বাচনের দাবিতে আলে খলিফা সরকারের বিরুদ্ধে গণআন্দোলন করে আসছে। কিন্তু আলে খলিফা সরকার সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিজ দেশের জনগণের ওপর নির্যাতনের স্টিম রোলার চালাচ্ছে। বাহরাইনের স্বৈরসরকারের প্রতি পাশ্চাত্য বিশেষ করে মার্কিন সরকারেরও সমর্থন থাকায় জনগণের ওপর দমনপীড়নে আলে খলিফা সরকার আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া, আমেরিকা বাহরাইনের আর্থ-রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করায় দেশটির জনগণ আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছে। আমেরিকা এমন সময় বাহরাইনে তাদের সামরিক ঘাঁটি আরো সম্প্রসারণ করার চেষ্টা করছে যখন আলে খলিফা সরকার মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় গণআন্দোলন দমনের চেষ্টা করছে।

‌১৯৭১ সালে বাহরাইন ও আমেরিকার মধ্যে সামরিক চুক্তি সই হয়। চুক্তি অনুযায়ী বাহরাইনের ৪০বর্গ কিলোমিটার এলাকা পুরোপুরি মার্কিন সেনাবাহিনীর হাতে ছেড়ে দেয়া হয়। এরপর ১৯৯৩ সালে বাহরাইন সমুদ্র উপকূলে আমেরিকার নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয় এবং ১৯৯৫ সালে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর মোতায়েন করা হয়। ২০১১ সাল থেকে বাহরাইনের জনগণ মার্কিন আধিপত্যকামী চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে যা কিনা সেদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। #               

পার্সটুডে/মো. রেজওয়ান হোসেন/২