সৌদি-আগ্রাসী জোটের জন্য ইয়েমেনের ক্রমেই মরণ-ফাঁদ হয়ে ওঠার রহস্য
ইয়েমেনের স্বল্প-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আবারও আঘাত হেনেছে আগ্রাসী সৌদি-আমিরাতি বাহিনীর হামলা পরিচালনাকারী কমান্ডের অন্যতম মূল ঘাঁটি বা কেন্দ্রীয় অবস্থানে।
ইয়েমেনের সশস্ত্র ও গণ-বাহিনীর ক্ষেপণাস্ত্র বিভাগ এই খবর দিয়ে বলেছে, দেশীয় বা স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে আগ্রাসীদের এই অবস্থানে আঘাত হানে।
গত জুন মাস থেকে সৌদি নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী জোট ইয়েমেনের জনপ্রিয় বিপ্লবী সরকারকে নতজানু করা ও ইয়েমেনি জনগণের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত হুদাইদা বন্দর দখলের জন্য সব ধরনের আগ্রাসী হামলা তীব্রতর করেছে।
কিন্তু পাশ্চাত্যের সর্বাত্মক মদদপুষ্ট সৌদি জোট কৌশলগত দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ এই বন্দর দখলের চেষ্টায় প্রথম থেকেই ব্যাপক পরাজয় ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়। আর ব্যর্থতার এই ধারা এখনও অব্যাহত রয়েছে। অথচ আগ্রাসী সৌদি জোট কয়েক দিনের মধ্যেই হুদাইদা বন্দর দখল করবে বলে ঘোষণা করেছিল।
এদিকে মার্কিন, ব্রিটিশ, সৌদি ও আমিরাতি সরকার ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূল দখল করে নেয়ার ব্যাপারে এক সমঝোতায় পৌঁছেছে বলে নির্ভরযোগ্য নানা সূত্রে খবর এসেছে। আসলে তারা কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হুদাইদা বন্দর ছাড়াও 'বাবেল মান্দাব' প্রণালীর ওপরও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্যই ষড়যন্ত্র করছে।
এটা স্পষ্ট ২০১৫ সালের মার্চ মাসে ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসন শুরুর অন্যতম প্রধান লক্ষ্যই ছিল এ দুই গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল দখল করা।
পদত্যাগী ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট মানসুর হাদিকে পুনরায় ক্ষমতায় বসানোর অজুহাত দেখিয়ে ওই হামলা শুরু করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। এ হামলার পেছনে রয়েছে পাশ্চাত্য ও বিশেষ করে মার্কিন সরকার এবং ইসরাইলের সবুজ সংকেত ও প্রত্যক্ষ মদদ। কিন্তু সৌদির হাতের পুতুল মানসুর হাদিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনা তো দূরে থাক্ সৌদি জোট তার কোনো একটি সামরিক লক্ষ্য অর্জনে এখনও সফল হয়নি।
ইয়েমেনি জনগণের প্রবল প্রতিরোধের কারণে দেশটিতে সৌদি জোটের চার বছরের একটানা আগ্রাসন কোনো লক্ষ্য অর্জন ছাড়াই অব্যাহত রয়েছে। ইয়েমেন ক্রমেই সৌদি জোটের জন্য বিপজ্জনক বুমেরাং ও মরণ-ফাঁদে পরিণত হচ্ছে। আর এ চোরাবালি থেকে সৌদি জোটকে এই ফাঁদ থেকে উদ্ধার করতেও ব্যর্থ হচ্ছে মার্কিন সরকারের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা জোট।
নিজস্ব নানা ক্ষমতা ও শক্তির ওপর নির্ভর করে ইয়েমেনে জনপ্রিয় বিপ্লবী সরকার সৌদি আগ্রাসনের শুরু থেকেই সৌদি রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির নানা অঞ্চলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে। ফলে যুদ্ধের ভারসাম্য ঝুঁকে পড়েছে ইয়েমেনের দিকে এবং পূর্ণ হচ্ছে সৌদি জোটের ব্যর্থতার ষোলকলা।
মিশরের প্রখ্যাত বিশ্লেষক সামেহ আসকার দৈনিক আল-ওয়াতানকে বলেছেন, 'ইয়েমেনের জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি সরকার রাজনৈতিক, সামরিক ও নৈতিক দিক থেকে ব্যর্থ হয়েছে। 'আগ্রাসী সৌদি জোট ও তার মিত্ররা এই অবিশ্বাস্য পরাজয় ধামাচাপা দেয়ার জন্য ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণ বিশেষ করে শিশু, নারী ও বৃদ্ধদের ওপর গণহত্যার অভিযান এবং অমানবিক অবরোধ জোরদার করেছে।
সৌদি জোটের এসব যুদ্ধ-অপরাধ ও মানবতা-বিরোধী অপরাধযজ্ঞ বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২২
খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন