ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা নিয়ে হুক-নেতানিয়াহুর অলিক স্বপ্ন ও বাস্তবতা
ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইরান বিরোধী কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রশংসা করেছেন। গতকাল নেতানিয়াহু তার দপ্তরে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইরান বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ব্রায়ান হুকের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্পের প্রশংসা করেন।
হুক বলেন নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা আমরা পর্যবেক্ষণ করবো। এই নিষেধাজ্ঞা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের অগ্রযাত্রা রোধ করার পাশাপাশি তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকেও বাধাগ্রস্ত করবে বলে তিনি দাবি করেন।
হুক ও নেতানিয়াহুর আলোচনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, ইরান পশ্চিম এশিয়াসহ সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যে একটি শক্তিশালী দেশ। সেজন্যই আমেরিকা ও ইসরাইল যে-কোনো উপায়ে শক্তিশালী ইরানের প্রভাব বিনষ্ট করতে চাচ্ছে। সিরিয়া ও ইয়েমেনের বর্তমান পরিস্থিতি বলে দিচ্ছে আমেরিকা-ইসরাইল ও সৌদিআরবের চরম পরাজয় ঘটেছে। ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়েও তারা নিরীহ মানুষ মারা ছাড়া আর কোনো লক্ষ্যে পৌছতে পারে নি।সুতরাং এই দুই দেশে মার্কিন নীতি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে গেছে। এ কারণেই আমেরিকা, ইসরাইল এবং সৌদি আরব ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার পক্ষে যাতে ইরান মধ্যপ্রাচ্যে শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করতে না পারে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ ব্রিগে. জেনারেল আবদুর রাহিম মুসাভি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্য এখন বৃহৎ শয়তান আমেরিকার পরাজয়ের ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। অপরদিকে, শত শত কিলোমিটার দূর থেকে ইরান তাদের শত্রু ও সন্ত্রাসীদের টার্গেট করে ঘায়েল করেছে। এটা ইরানের সামরিক সক্ষমতার ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত।
শত্রুদের বিচিত্র ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও ইরানের বৈজ্ঞানিক, অর্থনৈতিক কিংবা সামরিক অগ্রযাত্রা থেমে থাকে নি এবং বহির্শক্তির বিচিত্র শত্রুতার পরেও ইরান চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে না। সুতরাং হুক-নেতানিয়াহু যাকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা বলে আত্মতৃপ্তি বোধ করছে ইরানের কাছে তার কোনো গুরুত্বই নেই। এটিই ইরানের স্বাধীন শক্তি ও সামর্থের নমুনা।
স্প্যানিশ রাজনীতি বিশ্লেষক আলেক্সান্দার নাগুই আমাদের স্প্যানিশ রেডিওর সঙ্গে আলাপকালে বলেছেন: 'ইরান পরমাণু বিজ্ঞান, ন্যানো টেকনোলজি, মৌলিক কোষ গবেষণাসহ সামরিক শিল্পে বহুদূর এগিয়ে গেছে।'সুতরাং নিষেধাজ্ঞা দিয়ে ইরানের অগ্রগতি রোধ করা যাবে না বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
পার্সটুডে/নাসির মাহমুদ/১৬