পরমাণু সমঝোতা রক্ষার সকল প্রচেষ্টা চালাচ্ছে ইউরোপ: জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i71077-পরমাণু_সমঝোতা_রক্ষার_সকল_প্রচেষ্টা_চালাচ্ছে_ইউরোপ_জার্মান_পররাষ্ট্রমন্ত্রী
আমেরিকা ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো এটি রক্ষা করতে দৃঢ় সংকল্প বলে জানিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘হেইকো মাস’ ইরাক সফরে এসে বাগদাদে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পরমাণু সমঝোতা প্রধান ভূমিকা পালন করছে।
(last modified 2026-02-17T13:30:44+00:00 )
জুন ০৯, ২০১৯ ১৮:৩৯ Asia/Dhaka
  • শনিবার বাগদাদে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বামে)
    শনিবার বাগদাদে ইরাকি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী (বামে)

আমেরিকা ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গেলেও এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী বাকি পাঁচ দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো এটি রক্ষা করতে দৃঢ় সংকল্প বলে জানিয়েছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ‘হেইকো মাস’ ইরাক সফরে এসে বাগদাদে বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় পরমাণু সমঝোতা প্রধান ভূমিকা পালন করছে।

তিনি বলেন, এ সমঝোতার ভবিষ্যত নিয়ে টানাপড়েন এ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ, তবে আমরা ইউরোপীয়রা ভিয়েনায় স্বাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।

জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বার্লিন পরমাণু সমঝোতার প্রতি অটল রয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে পরমাণু সমঝোতা রক্ষা করার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে ইউরোপীয়দের দৃষ্টিভঙ্গি ফুটে উঠেছে। এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী তিন ইউরোপীয় দেশ জার্মানি, ফ্রান্স ও ব্রিটেন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন মনে করে, পরমাণু সমঝোতা বাতিল হয়ে গেলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

ইউরোপীয়রা পরমাণু সমঝোতাকে এমন একটি বহুপক্ষীয় সমঝোতা মনে করে যাকে অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংকট নিরসনে মডেল হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ব্যাপারে এ সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী অপর দুই দেশ চীন ও রাশিয়াও অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২০১৮ সালের মে মাসে ইরানের পরমাণু সমঝোতা থেকে তার দেশকে বের করে নেন

২০১৮ সালের মে মাসে আমেরিকা অন্যায়ভাবে পরমাণু  সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করার মাধ্যমে এ সমঝোতা টিকিয়ে রাখার সংকল্প ব্যক্ত করে। এসব দেশ এখন পর্যন্ত আমেরিকার বাগাড়ম্বরের বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা প্রদর্শন করলেও বাস্তবে ইরানের স্বার্থ রক্ষায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

ইউরোপের এ ভূমিকার বিরুদ্ধে তেহরান শক্ত অবস্থান নিয়েছে। গত ৮ মে ইরান ঘোষণা করেছে, দেশটি পরমাণু সমঝোতার ২৬ ও ৩৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী এ সমঝোতায় দেয়া কিছু কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। তেহরান বলেছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানের তেল রপ্তানি ও ব্যাংকিং লেনদেন সচল করার ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে ব্যর্থ হলে ইরান আরো কিছু প্রতিশ্রুতি থেকে বেরিয়ে যাবে। ইরানের ওই চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষিত হওয়ার পর একমাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ইউরোপের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কোনো আলামত চোখে পড়ছে না।

কিন্তু ইউরোপীয়রা ইরানের জন্য কিছু করতে না পারলেও পরমাণু সমঝোতার প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করায় ইরানকে এ সমঝোতায় ধরে রাখার চেষ্টা করছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ লক্ষ্যে ইরান সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এদিকে ইরান বহুবার ঘোষণা করেছে, দেশটির ধৈর্য ও সহ্যের একটা সীমা আছে এবং ইউরোপীয়দের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার জন্য তেহরান চিরকাল অপেক্ষা করতে পারবে না। ইরানের পক্ষ থেকে ইউরোপের জন্য ৬০ দিনের চূড়ান্ত সময়সীমা ঘোষিত হওয়ার পর বল এখন ইউরোপের মাঠে রয়েছে। তারা যদি সত্যিই পরমাণু সমঝোতাকে রক্ষা করতে চায় তাহলে এ সময়সীমার মধ্যে তাদেরকে এ সমঝোতা রক্ষার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। তা না হলে ইরান আর একতরফাভাবে এ সমঝোতায় দেয়া প্রতিশ্রুতি মেনে চলতে বাধ্য থাকবে না।#

পার্সটুডে/মো. মুজাহিদুল ইসলাম/৯