ইয়েমেনে আসলে কী হচ্ছে?
সৌদি আরবের আজব দাবি: ইয়েমেনের পলাতক প্রেসিডেন্ট হাদি ইরানের সেবাদানকারী!
-
আব্দ রাব্বু মানসুর হাদি
ইয়েমেনে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল-জাবের দাবি করেছেন, ইয়েমেনের পদত্যাগকারী ও পলাতক প্রেসিডেন্ট আব্দ রাব্বু মানসুর হাদির দফতরের অর্থনীতি বিষয়ক উপপ্রধান আহমাদ আল আইসি ইরানের তেলের কাছে বিক্রি হয়ে গেছেন।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সৌদি আরব আসলে ইয়েমেন যুদ্ধের চোরাবালিতে আটকা পড়েছে। দরিদ্র এ দেশটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর কারণ হিসেবে রিয়াদ দাবি করেছিল, আনসারুল্লাহ সরকার ইরানের খুব ঘনিষ্ঠ এবং দেশটির ক্ষমতা আনসারুল্লাহর হাতে থাকলে সৌদি আরবের নিরাপত্তার জন্য তা হবে বিরাট হুমকি। প্রকৃতপক্ষে, আনসারুল্লাহ হচ্ছে ইয়েমেনের জনপ্রিয় শিয়া সংগঠন এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিষয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে তাদের নীতির কোনো মিল নেই। আনসারুল্লাহ কেবল একটি জনপ্রিয় শিয়া সংগঠনই নয়, একইসঙ্গে ইয়েমেনের সুন্নি মুসলিমরাও সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়েছে এবং একসঙ্গে সৌদি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
সৌদি আরব মনে করেছিল মাজহাবগত বিভেদকে উস্কে দিয়ে ইয়েমেনের সুন্নি জনগোষ্ঠীকে শিয়া আনসারুল্লাহর বিরুদ্ধে দাঁড় করাতে পারবে। কিন্তু তাদের এ চিন্তা ছিল সম্পূর্ণ ভুল। এমনকি নিহত সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ'র অধীনস্থ সেনাবাহিনীও আনসারুল্লাহর পাশে দাঁড়িয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে।
গত পাঁচ বছর ধরে একটানা আগ্রাসন চালিয়েও সৌদি আরব আনসারুল্লাহকে পরাজিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় এবং ইয়েমেন যুদ্ধে কোনো সাফল্য অর্জন করতে না পারায় এখন রিয়াদ কর্তৃপক্ষ ইয়েমেনে ইরানের হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলছে। তারা ইয়েমেনের আনসারুল্লাহকে ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র দেয়ার জন্য ইরানকে অভিযুক্ত করছে। অথচ সৌদি আরবের প্রতি আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং তাদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জাম কিনছে। ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘে সেসময়কার মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি ওয়াশিংটনে এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষেপণাস্ত্রের কিছু টুকরা দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, রিয়াদের ছোঁড়া এ ক্ষেপণাস্ত্র ইরানের তৈরি।
এরপর সৌদি আরবও গত বছর মে মাসে মক্কায় এক প্রদর্শনীর আয়োজন করে নিকি হ্যালির পথ অনুসরণ করেন। সেখানে বেশ কিছু অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের টুকরা রেখে দিয়ে দাবি করেন এসব অস্ত্র ইরানই ইয়েমেনের আনসারুল্লাহকে সরবরাহ করেছিল। এ প্রদর্শনীর মাধ্যমে সৌদি সরকার বিশ্ববাসীকে ধোঁকা দেয়ার জন্য আনসারুল্লাহকে একটি দুর্বল শক্তি এবং ইরানকে উস্কানিদাতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালায় যাতে সৌদি অন্যায় আগ্রাসনের ব্যাপারে কেউ মাথা না ঘামায়।
সব কিছুতে ব্যর্থ হয়ে বর্তমানে সৌদি আরব মানসুর হাদির দফতরের সঙ্গে ইরানের সহযোগিতার অভিযোগ তুলছে। সৌদি রাষ্ট্রদূত এমন সময় মানসুর হাদির দফতরের মাধ্যমে ইরানের তেল বিক্রির অভিযোগ তুললেন যখন রিয়াদের সঙ্গে মানসুর হাদি সরকারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য শুরু হয়েছে। গত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিয়ন্ত্রিত দক্ষিণাঞ্চলীয় অন্তর্বর্তী পরিষদের মোকাবেলায় মানসুর হাদি সরকারের ব্যর্থতার পর রিয়াদের সঙ্গে হাদির বিরোধ তুঙ্গে উঠেছে। এমনকি হাদি সরকারের অনেক সদস্য সৌদি আরবের তীব্র সমালোচনা করেছে।
এ অবস্থায় হাদির দফতরের সঙ্গে ইরানের সখ্যতার অভিযোগ তুলে সৌদি আরব আসলে ইয়েমেন যুদ্ধে নিজের ব্যর্থতাকে ঢাকার চেষ্টা করছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন।#
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৬