ইসরাইলি হামলার জবাবে বিশটি রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর লেবাননে বিমান হামলা চালানোর ইসরাইলি দুঃসাহসের রহস্য
-
ইসরাইলে হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের দৃশ্য (ফাইল ছবি)
ইহুদিবাদী ইসরাইল দীর্ঘ ১৫ বছর পর দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি গ্রামে বিমান হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখিয়েছে। গতকাল (বৃহস্পতিবার) ভোরবেলায় ইসরাইলের কয়েকটি জঙ্গি বিমান এসব হামলা চালিয়েছে।
ইসরাইলি বিমান থেকে নিক্ষিপ্ত ফসফরাস বোমার আগুনে ফসলের ক্ষেত পুড়ে গেছে বলে খবর এসেছে।
গত এপ্রিল মাস থেকেই দখলদার ইসরাইলের যুদ্ধংদেহী তাণ্ডব আর ঔদ্ধত্য ছিল লক্ষণীয়। জেরুজালেম আলকুদস অঞ্চলে ও পশ্চিমতীরে ফিলিস্তিনিদের ভূমি এবং ঘরবাড়ি দখলও এ সময় বেশ তীব্র হয়ে ওঠে। আর শেষ পর্যন্ত ইসরাইলের ওইসব অপরাধ গাজায় বারো দিনের যুদ্ধ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। গাজার ওই যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইসরাইল ঐ যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের শর্তগুলো মেনে নিয়েই যুদ্ধ-বিরতি ঘোষণা করতে তথা পরাজয় মেনে নিতে বাধ্য হয়।
যুদ্ধ শেষে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী পদে নেতানিয়াহুর ১২ বছরের দৌরাত্ম্যেরও অবমাননাকর সমাপ্তি ঘটে। শুরু হয় নাফতালি বেনেটের প্রধানমন্ত্রীত্ব। প্রধানমন্ত্রী পদে নতুন ব্যক্তি আসলেও ইসরাইলের পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে বলে মনে হচ্ছে না। বরং ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি অপরাধযজ্ঞ এবং লেবাননের ইসরাইল বিরোধী জনপ্রিয় প্রতিরোধ আন্দোলন হিজবুল্লাহ ও ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে প্রচার যুদ্ধও জোরদারের লক্ষণই ফুটে উঠছে। আর এ অবস্থায় ইসরাইল দীর্ঘ ১৫ বছর পর এই প্রথম দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে বিমান হামলা চালাল।
ইসরাইল দাবি করেছে লেবানন থেকে কতগুলো রকেট হামলার জবাবেই এ হামলা চালিয়েছে তার বিমান বাহিনী। কিন্তু হানাদার ইসরাইল রকেট হামলার কোনো ছবি বা প্রমাণ দেখায়নি। লেবাননের যেসব এলাকা থেকে ইসরাইলে রকেট ছোড়া হয়েছে সেসব এলাকাতেই আঘাত হানার দাবি করেছে হানাদার বাহিনী।
আসলে লেবাননে এখন চলছে এক জটিল পরিস্থিতি। আর এ সময়ই সেখানে হামলা চালিয়ে ইসরাইল হিজবুল্লাহর অবস্থানকে দুর্বল করতে চাইছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সম্প্রতি বৈরুতে গত বছরের মহা-বিস্ফোরণের বার্ষিকী উপলক্ষে ওই ঘটনার যথাযথ তদন্ত না হওয়ায় অনেকেই প্রতিবাদ মিছিল করেছে। ওই বিস্ফোরণের পরপরই সৌদি ও ইসরাইলি মিডিয়াগুলো হিজবুল্লাহকে দায়ী করে ও লেবাননে হিযবুল্লাহ বিরোধী মনোভাব উসকে দেয়ার চেষ্টা করে। এখন ওই বিস্ফোরণের বার্ষিকী উপলক্ষে লেবাননের কোনো কোনো অঞ্চলে ইরান ও হিযবুল্লাহর নেতা সাইয়্যেদ হাসান নাসরুল্লাহর বিরোধী শ্লোগান দিয়ে পরিকল্পিত সহিংসতা ঘটিয়েছে একদল জনতা।
আর ইসরাইলি যুদ্ধবাজ নেতারা ভাবছে অন্যের ঘরে ঢিল মারার এটাই সবচেয়ে ভালো সময়। কিন্তু ইসরাইলি সামরিক বিশ্লেষকরা হিজবুল্লা'র প্রবল প্রত্যাঘাতের আশঙ্কায় বলেছেন, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার লক্ষ্য বা টার্গেট হিজবুল্লাহ নয় এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা বিভাগগুলো মনে করে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরাইলে রকেট নিক্ষেপের ঘটনাতেও হিজবুল্লাহ জড়িত নয়। ওই সূত্রগুলো বলেছে, এমনকি হিজবুল্লাহ অন্য কোনো গ্রুপকেও এ ধরনের রকেট হামলা চালানোর সবুজ-সংকেত দেয়নি বলে হিজবুল্লাহকে টার্গেট করা হয়নি ইসরাইলের কথিত পাল্টা হামলায় এবং ইসরাইলের এসব হামলা কেবল সতর্ক সংকেত মাত্র। আর লেবাননের যেসব অবস্থানে হামলা চালানো হয়েছে সেসবই গুরুত্বহীন টার্গেট মাত্র।
যাই হোক ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননের গ্রামে হামলা চালিয়ে ২০০৬ সালে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ থেকে ঘোষিত যুদ্ধ-বিরতি সংক্রান্ত ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘন করেছে। আর তাই লেবানন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ইসরাইলের বিরুদ্ধে নালিশ করেছে। লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইসরাইলের এই নতুন আগ্রাসন অত্যন্ত বিপজ্জনক ও তা দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকার শান্ত অবস্থার জন্য হুমকি। লেবাননের আকাশ সীমা ব্যবহার করে ইসরাইল সিরিয়ায় প্রায়ই যেসব বিমান বা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে এসেছে বিগত কয়েক বছরে তারই প্রেক্ষাপটে ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে এসব হামলা চালাল বলে হাসান দিয়াব উল্লেখ করেছেন।
ইসরাইলি আগ্রাসনের বিষয়ে জাতিসংঘ যদি নীরব থাকে তাহলে তা পশ্চিম এশিয়ায় বিপজ্জনক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে এবং এ অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ ও সহিংসতার দামামা বেজে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন। সর্বশেষ পাওয়া খবরে জানা গেছে হিজবুল্লাহ এরিমধ্যে ইসরাইলি হামলার জবাবে অধিকৃত শেবা অঞ্চলে ইসরাইলি অবস্থানে অন্তত বিশটি রকেট নিক্ষেপ করেছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৬