জি টুয়েন্টি গ্রুপ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করা উচিত:বাইডেন
রুশ-বিরোধী নিষেধাজ্ঞা, বাইডেনের আবদার ও প্রচার-যুদ্ধ জোরদারের রহস্য
ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে তীব্র উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ন্যাটো জোট, ইউরোপীয় জোট ও জি-সেভেন গ্রুপের বৈঠকে যোগ দিতে গত বুধবার ব্রাসেলসে পৌঁছেছেন।
বাইডেনই হলেন প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট যিনি ইউরোপীয় জোটের শীর্ষ বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন। তিনি গতকাল (বৃহস্পতিবার) ন্যাটোর শীর্ষ বৈঠকে যোগ দিয়ে বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ হামলার প্রেক্ষাপটে ন্যাটো জোট নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল গ্রহণ করবে। ইউক্রেনের প্রতি এ জোটের ক্রমবর্ধমান সমর্থন ও সামরিক সহযোগিতাও অব্যাহত থাকবে বলে বাইডেন জানান। পূর্ব ইউরোপে চারটি নতুন যুদ্ধ-গ্রুপ গঠনের পরিকল্পনার কথাও তিনি জানান যাতে ন্যাটোর মদদপুষ্ট দেশগুলো এই জোটের জোরালো সহায়তা পেতে পারে।
বাইডেন জি টুয়েন্টি গ্রুপ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কার করা উচিত বলে মন্তব্য করেন এবং এ দাবি ব্রাসেলসে নানা দেশের শীর্ষ নেতাদের কাছে তুলে ধরেছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে দেয়া প্রসঙ্গে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো কখনও প্রতিরোধক নয় তবে এগুলোর অব্যাহত প্রয়োগ পুতিনকে থামিয়ে দেবে। তিনি ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার প্রতি চীনের সম্ভাব্য সহায়তার ব্যাপারে বেইজিংকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এ ধরনের সহায়তার কঠোর অর্থনৈতিক পরিণতি সম্পর্কে চীন সচেতন।
রাশিয়া যদি ইউক্রেনে ব্যাপক-বিধ্বংসী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করে তাহলে ওয়াশিংটন পরিস্থিতির মাত্রা বুঝে এর জবাব দেবে বলেও বাইডেন উল্লেখ করেন।
ইউরোপে বাইডেনের সফর ও তার নানা বক্তব্য থেকে বোঝা যায় ওয়াশিংটন মস্কোর ওপর চাপ ও নিষেধাজ্ঞা জোরদার করলেও মস্কোর সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে জড়াতে চায় না। মস্কোর ওপর নতুন নতুন নানা নিষেধাজ্ঞায় শরিক হচ্ছে ইউরোপীয় জোট, কানাডা ও ব্রিটেন। আর এতে রাশিয়ার পুতিনকে শিক্ষা দিতে পশ্চিমা শক্তিগুলোর ঐক্য ফুটে উঠেছে। আসলে ইউক্রেন ইস্যুকে অজুহাত করে ইউরোপকে আরও বেশি ঘনিষ্ঠ করতে সক্ষম হয়েছে মার্কিন সরকার।
গেলো বছর মার্কিন সরকারের নিরাপত্তা বিষয়ক নীতিতে রাশিয়াকে মার্কিন স্বার্থের প্রতি হুমকি বলে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে রাশিয়ার ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ প্রয়োগের মার্কিন নীতি এখন অনেক বেশি তীব্র ও বহুমুখী হয়ে উঠেছে। মস্কোর ওপর ওয়াশিংটনের চাপ কেবল সামরিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই বাড়েনি! ওয়াশিংটন পুতিনের অবমাননাও শুরু করেছে যা কূটনৈতিক রীতির খেলাপ।
অন্য কথায় রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রচারণা ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধও জোরদার করেছে আমেরিকা। ওয়াশিংটন রাশিয়াকে আগ্রাসী হিসেবে তুলে ধরছে এবং বিশ্ব-সমাজকেও রাশিয়ার বিরুদ্ধে মিত্র হিসেবে দেখতে চায়। তাই জি-টুয়েন্টি গ্রুপ থেকে রাশিয়াকে বহিষ্কারের আবদার জানিয়েছেন বাইডেন। কিন্তু রাশিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন এর কঠোর বিরোধিতা করেছে। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/২৫