জীবাণু অস্ত্রের গবেষণা চালিয়ে হিটলারের অনুসরণ করছে আমেরিকা: রাশিয়া
https://parstoday.ir/bn/news/world-i106104-জীবাণু_অস্ত্রের_গবেষণা_চালিয়ে_হিটলারের_অনুসরণ_করছে_আমেরিকা_রাশিয়া
জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার উপরাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি বলেছেন, ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র বিষয়ক মার্কিন সামরিক তৎপরতা এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের লঙ্ঘন। তিনি নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন। 
(last modified 2026-05-09T13:18:37+00:00 )
এপ্রিল ০৩, ২০২২ ১৫:২২ Asia/Dhaka
  • জীবাণু অস্ত্রের গবেষণা চালিয়ে হিটলারের অনুসরণ করছে আমেরিকা: রাশিয়া

জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার উপরাষ্ট্রদূত দিমিত্রি পলিয়ানস্কি বলেছেন, ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র বিষয়ক মার্কিন সামরিক তৎপরতা এ সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কনভেনশনের লঙ্ঘন। তিনি নিউইয়র্কে এক সংবাদ সম্মেলনে এই মন্তব্য করেছেন। 

পলিয়ানস্কি ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র বিষয়ক মার্কিন সামরিক তৎপরতা সম্পর্কে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংগ্রহ করা দলিল প্রমাণের বক্তব্য তুলে ধরে বলেছেন: মার্কিন সরকার ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্র বিষয়ক তৎপরতায় যে অর্থ যুগিয়েছে আমরা সে সংক্রান্ত নানা তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে দেখছি। তিনি আরও বলেন,  রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এমন সব তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে যা থেকে বোঝা যায় ইউক্রেনের কর্মকর্তারা মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সরাসরি মদদ ও দিক-নির্দেশনায় জীবাণু অস্ত্র বিষয়ক নানা প্রকল্প ও বিপজ্জনক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জড়িত ছিলেন। রাশিয়ার সীমান্তের কাছে ও পূর্ব ইউরোপে বহু বছর ধরে চলা এসব তৎপরতা রাশিয়া ও এ অঞ্চলের জীবাণু নিরাপত্তার প্রতি মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে। 

সামরিক সহযোগিতার আড়ালে জীবাণু অস্ত্রের বিস্তার ও গবেষণায় ইউক্রেনের প্রতি মার্কিন সহযোগিতার নানা নতুন দিক ফাঁস হওয়া থেকে ওয়াশিংটনের আসল ও অমানবিক চেহারা প্রকাশ হয়ে পড়েছে।

যদিও মার্কিন সরকার ইউক্রেনে জীবাণু অস্ত্রের কোনো গবেষণাগার পরিচালনার কথা অস্বীকার করে আসছে কিন্তু নানা সাক্ষ্য প্রমাণে দেখা যাচ্ছে পেন্টাগন এসব ল্যাবরেটরি পরিচালনায় সরাসরি জড়িত এবং সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররাও এ ধরনের নানা প্রকল্প চালিয়ে এসেছেন। 

রাশিয়ার নিরাপত্তা কাউন্সিলের সচিব নিকোলাই পেট্রোশেফ বলেছেন, সভ্য জগত শেষ পর্যন্ত এটা দেখবে যে মার্কিন সরকার এখনও জার্মান নাৎসিদের এবং তৃতীয় রাইশ তথা হিটলারের নানা রীতি অব্যাহত রেখেছে ও মানুষের ওপর নানা ধরনের অমানবিক পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে।  

মার্কিন সরকার সত্তুরের দশকে স্বাক্ষরিত পরমাণু বিষয়ক আন্তর্জাতিক কনভেনশনের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর স্বাধীন হয়ে যাওয়া সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্রগুলোতে জীবাণু অস্ত্র সংক্রান্ত নানা গবেষণাগার প্রতিষ্ঠার কার্যক্রমকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। রাশিয়া ও চীনের খুব কাছে এ ধরনের ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা আমেরিকার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচিত এ দুই রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।  

মার্কিন সরকার বিশ্বের নানা অঞ্চলে জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষাগার গড়ে তুলে মানবতা ও পৃথিবীর মানবজাতির অস্তিত্বের প্রতি চরম অশ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছে এবং ব্যাপক গণ-বিধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরির চেষ্টা করে আসছে। বলা হয় বিশ্বের নানা অঞ্চলে মার্কিন সরকারের দুইশরও বেশি জীবাণু অস্ত্রের গবেষণাগার রয়েছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও এ ধরনের বহু  গবেষণাগার রয়েছে। অতীতের কোনো কোনো অভিজ্ঞতার আলোকে স্বদেশের জীবাণু অস্ত্রের পরীক্ষাগারগুলো থেকে যাতে কোনো বিপর্যয় ছড়িয়ে না পড়ে সে জন্য  মার্কিন কর্তৃপক্ষ এসব পরীক্ষাগার দেশের বাইরে স্থানান্তর করেছে।  #

পার্সটুডে/এমএএইচ/৩