জীবাণু গবেষণা
ইউক্রেন নিয়ে তাদের এত মাথা ব্যথা কেন?
-
একজন জার্মান সেনা এনবিসি পোষাক পরে আছেন
ইউক্রেনের মাটিতে গোপনে মার্কিন অর্থায়নে যে জীবাণু গবেষণা কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে তাতে ন্যাটো সামরিক জোটভুক্ত ইউরোপের কয়েকটি দেশ জড়িত রয়েছে। মস্কো বলছে, ইউক্রেনের জীবাণু গবেষণা কর্মসূচিতে আমেরিকার পাশাপাশি জার্মানি এবং পোল্যান্ড অংশ নিয়েছেন।
রাশিয়ায় তেজস্ক্রিয়তা, রাসায়নিক এবং জীবাণু সুরক্ষা বাহিনীর প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইগোর কিরিলভ গতকাল (বুধবার) এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, শুধুমাত্র আমেরিকা নয় বরং অন্য কয়েকটি ন্যাটো মিত্রদেশ ইউক্রেনের ভূখণ্ডে সামরিক জীবাণু গবেষণা কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এরমধ্যে ২০১৩ সাল থেকে আমেরিকার সমর্থন নিয়ে জার্মানি জীবাণু গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ইউক্রেনের মাটিতে মোট ১২টি দেশ এই জীবাণু গবেষণা কার্যক্রমে জড়িত।
কিরিলভ বলেন, জার্মানির রবার্ট কোচ ইনস্টিটিউট এবং ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোবায়োলজি অফ দ্যা জার্মান আর্মড ফোর্সেস এই গবেষণা কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিচ্ছে। তিনি জানান, মস্কোর হাতে এ পর্যন্ত যে সমস্ত তথ্য এসেছে সে অনুযায়ী, ইউক্রেনের ২৫ টি অঞ্চল থেকে ‘ইনস্টিটিউট অব মাইক্রোবায়োলজি অব জার্মান আর্মড ফোর্সেস’ জীবাণু গবেষণার জন্য সাড়ে তিন হাজার মানুষের ব্লাড সেরাম গ্রহণ করেছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এসব ব্লাড সেরাম গ্রহণ করা হয়।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল কিরিলভ বলেন, পোল্যান্ডও সক্রিয়ভাবে জীবাণু গবেষণা কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। এসংক্রান্ত তথ্যচিত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, পোল্যান্ড ইউক্রেনের পশ্চিমাঞ্চলীয় লাবিব শহরের ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইউনিভার্সিটিতে অর্থায়ন করেছে। ইউক্রেনে পোল্যান্ড যে জীবাণু গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করছে তাতে আমেরিকার ব্যাটেলে ইনস্টিটিউট যুক্ত রয়েছে। পেন্টাগনের সঙ্গে যে সমস্ত প্রতিষ্ঠান ঠিকাদার হিসেবে কাজ করে এই ব্যাটেলে ইনস্টিটিউট তার অন্যতম।
পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ইউক্রেন নিয়ে যেসব কারণে আমেরিকা ও তার ন্যাটো মিত্রদের এত মাথা ব্যথা তার অন্যতম হলো এই জীবাণু গবেষণা কার্যক্রম। #
পার্সটুডে/এসআইবি/১২