মানবাধিকারের নামে পশ্চিমা সরকারগুলোর ভণ্ডামি ও প্রচারণার স্বরূপ!
https://parstoday.ir/bn/news/world-i117040-মানবাধিকারের_নামে_পশ্চিমা_সরকারগুলোর_ভণ্ডামি_ও_প্রচারণার_স্বরূপ!
আজ দশই ডিসেম্বর জাতিসংঘের ঘোষিত মানবাধিকার দিবস। দুঃখজনক বিষয় হল বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মত মহান বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
(last modified 2026-06-24T09:59:37+00:00 )
ডিসেম্বর ১০, ২০২২ ১৪:০৪ Asia/Dhaka

আজ দশই ডিসেম্বর জাতিসংঘের ঘোষিত মানবাধিকার দিবস। দুঃখজনক বিষয় হল বর্তমান বিশ্বে মানবাধিকার, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার মত মহান বিষয়গুলোকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

আর এ লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদী দেশগুলোর বিরোধী সরকারগুলোর বিরুদ্ধে ব্যাপক মিথ্যাচার ও প্রচারণার জোয়ার বইয়ে দেয় পাশ্চাত্যের নিয়ন্ত্রিত ও প্রভাবিত সংবাদমাধ্যমগুলো। সম্প্রতি আফগানিস্তানের তালেবান সরকারও এ ধরনের মিথ্যাচারের জবাবে দু'টি পশ্চিমা সংবাদ মাধ্যমকে সেদেশ নিষিদ্ধ করেছে। এ দু'টি সংবাদ মাধ্যম হল ভয়েস অব অ্যামেরিকা ও রেডিও ফ্রি ইউরোপ। জানা গেছে এ দুটি সংবাদ মাধ্যমের একটি প্রচার করেছে যে আফগানিস্তানের একটি বিশেষ এলাকায় শিশু বিক্রির হাট বসানো হয়েছে। অথচ বাস্তবতা ছিল সেখানে শিশুদের টিকা দিতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল! এ ছাড়াও ওই দুই সংবাদ মাধ্যমের একটিতে প্রচার করা হয় যে আফগানিস্তানে সমকামিতার কারণে কোনো একটি এলাকার অমুক নামের এক যুবককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করা হয়েছে ও তার ছবিও প্রচার করা হয়েছে। কিন্তু ওই যুবক নিজেই সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছেন যে আমি অমুক ব্যক্তি জীবিত রয়েছি এবং আমার ব্যাপারে যা বলা হয়েছে তা মোটেই সত্য নয়!   ইরানের ব্যাপারেও এ ধরনের আকাশ-কুসুম বা আষাঢ়ে নানা গালগল্প বেশ কয়েক মাস ধরে প্রচার করা হচ্ছে!

সম্প্রতি মানবাধিকারকে  লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে ইরান ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে কানাডা।  শুক্রবার এই নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।

অথচ বিস্ময়ের ব্যাপার হল কানাডা নিজেই মানবাধিকার লঙ্ঘন কারী দেশ ; এ দেশে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত ১৫৬ বছর ধরে ক্যাথোলিক চার্চ পরিচালিত বোর্ডিং স্কুলগুলো ছিল আসলে কসাই খানা!  সে সব স্কুলে হাজার হাজার আদিবাসী শিশুকে তাদের পরিবার ও গোত্র থেকে জোর করে ধরে এনে সভ্য ও শিক্ষিত করার নামে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করে গোপনে গণ কবরগুলোতে দাফন করেছে। গত দুই দশকে হাজার হাজার আদিবাসী নারীকে কানাডা সরকার গুম করেছে যাদের হদিস আজ পর্যন্ত পাওয়া যায় নি। অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ না দিয়েই কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো শুধু মৌখিক ক্ষমা চেয়েই ক্ষান্ত থেকেছে ২০১৯ সালের জুনে। গত তিন চার শতাব্দি ধরে কানাডার আদিবাসীদের মেরে কেটে গণহত্যা চালিয়ে প্রায় নিশ্চিহ্ন করেছে কানাডার বহিরাগত জবরদখলকারী শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় অভিবাসীদের বর্ণবৈষম্যবাদী সরকার। একই ধরনের কাজ হয়েছে অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায়ও।

তাই নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরা মনে করেন তাদের মুখে মানবতা ও মানবাধিকারের কথা মোটেও শোভা পায় না। এটা শয়তানের মুখে আল্লাহর নাম নেয়ার মতই! আজ পর্যন্ত কানাডায় মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী তথা গণহত্যাকারীদের কোনো সাজা দেয়াই হয় নি। আসলে কানাডার বহিরাগত শ্বেতাঙ্গ অভিবাসীরা সবাই অবৈধ ভাবে দেশটি জবরদখলকারী। এতই যদি মানবতা ও মানবাধিকারের জন্য কানাডা সরকার ও শ্বেতাঙ্গ বহিরাগত জবরদখলকারী ইউরোপীয় অভিবাসীদের হৃদয় পুড়ে ও দরদ উথলায় তাহলে তাদের উচিত গোটা কানাডাকে বেঁচে থাকা অবশিষ্ট আদিবাসীদের কাছে হস্তান্তর করে সে দেশ ত্যাগ করে ইউরোপে প্রত্যাবর্তন করা। কারণ ঐ হতভাগ্য আদিবাসীরাই কানাডার প্রকৃত বাসিন্দা ও মালিক। আর শ্বেতাঙ্গ ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত অভিবাসীরা অবৈধ জবর দখল কারী, হানাদার দখলদার গোষ্ঠী !! কিন্তু কানাডার সরকার কি তা করবে?

লক্ষণীয় বিষয় হল মানবাধিকারের নামে দরদ দেখাতে অভ্যস্ত পশ্চিমা সরকারগুলো ফিলিস্তিনে ইহুদিবাদী ইসরাইলের মানবাধিকার লঙ্ঘন, শিশু হত্যা, নারী হত্যা ও গণহত্যার মত বিষয়গুলোতে প্রায়ই নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছে। ইসরাইলের বিরুদ্ধে কোনো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া তো দুরের কথা বরং তারা নানাভাবে বর্ণবাদী ও দখলদার এই ফ্যাসিস্ট শাসকগোষ্ঠীকে সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।  # 

পার্সটুডে/এমএএইচ/ এমএইচকে/১০