বিশ্বে মার্কিন প্রভাব হ্রাসের ও প্রতিদ্বন্দ্বী শক্তিগুলোর প্রভাব বৃদ্ধির রহস্য
https://parstoday.ir/bn/news/world-i120714-বিশ্বে_মার্কিন_প্রভাব_হ্রাসের_ও_প্রতিদ্বন্দ্বী_শক্তিগুলোর_প্রভাব_বৃদ্ধির_রহস্য
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে যে বিশ্বে ওয়াশিংটনের প্রভাব কমে যাচ্ছে এবং ইরান, চীন ও রাশিয়াসহ অন্য শক্তিগুলোর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। 
(last modified 2026-03-14T11:23:49+00:00 )
মার্চ ১৪, ২০২৩ ১৬:৪২ Asia/Dhaka

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো স্বীকার করেছে যে বিশ্বে ওয়াশিংটনের প্রভাব কমে যাচ্ছে এবং ইরান, চীন ও রাশিয়াসহ অন্য শক্তিগুলোর প্রভাব ক্রমেই বাড়ছে। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিষয়ক গোয়েন্দা এন্টারপ্রাইজ বা ডিআইই'র এক গোপন প্রতিবেদন বা নথিতে বলা হয়েছে বৃহৎ শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ক্রমেই হেরে যাচ্ছে। সামরিক ক্ষেত্রে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি অর্থ ব্যয় করা  সত্ত্বেও ওয়াশিংটন তার কৌশলগত লক্ষ্যগুলো অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে বলে ওই নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। যেসব দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করে সেসব দেশকে ধ্বংস করতে অভ্যস্ত মার্কিন সরকার। কিন্তু বড় শক্তিগুলোর ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন তা করতে পারছে না মোটেই।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মার্কিন সরকারের কৌশলগত ব্যর্থতার কারণ হল দেশটি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবর্তে তার নীতি-পরিচালিত গোয়েন্দা কার্যক্রমের আশ্রয় নিয়ে থাকে! অন্য কথায় মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ৭৫ শতাংশই এমনসব গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে যা তাদের নীতি-নির্ধারকদের প্রত্যাশার অনুকূল।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সামরিক ক্ষেত্রে বিপুল অংকের অর্থ ব্যয় করা সত্ত্বেও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো অন্ধের মত মার্কিন নীতি-নির্ধারক ও কংগ্রেস সদস্যদের ভুয়া খোরাক যুগিয়ে থাকে সেসবের মূল্য ও যথার্থতার মান যা-ই হোক না কেন!  বাইডেন সরকারের ক্রমাগত ব্যর্থতার পেছনেও গোয়েন্দা ব্যর্থতাই দায়ি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আরও বলা হয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নীতি-নির্ধারকদের চাঙ্গা রাখতে রাজনৈতিক-উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও প্রতারণাময় প্রতিবেদন দাখিল করে থাকে। এভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিশ্ব-পরিস্থিতি বুঝতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং বিশ্ব পরিস্থিতিকে তাদের নিজের মত করে তুলে ধরছে।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্ব অঙ্গনে কোনো গতিশীল পরিবর্তন আনতে পারছে না মার্কিন নেতৃবৃন্দ অন্যদিকে চীন, রাশিয়া ও ইরান নতুন সুযোগগুলোকে কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে নানা পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে যাতে মার্কিন সুযোগ-সুবিধা ও হাতগুলোকে বিচ্ছিন্ন করে দেয়া যায়। 

পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সরকারের অনুগত কোনো কোনো দেশ এখন স্বাধীনচেতা হয়ে উঠছে। যেমন চীনের সঙ্গে ক্রমেই সম্পর্ক জোরদার করছে সৌদি আরব এবং বাইডেন সরকার তেলের দাম নির্ধারণের বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষকে বাগে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। চীনের মোকাবেলায় অর্থনীতি ও রাজনীতি উভয় ক্ষেত্রেই মার্কিন সরকার ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। 

মার্কিন সরকারের প্রতিদ্বন্দ্বীরা দেশটির ওপর ও দেশটির মিত্র শক্তিগুলোর ওপর প্রায়ই সাইবার হামলা চালাতেও সক্ষম হচ্ছে। মোটকথা মার্কিন নেতৃত্বের অযোগ্যতা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে তার প্রতিদ্বন্দ্বী নেতৃবৃন্দের মোকাবেলায়। #

পার্সটুডে/এমএএইচ/১৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।