ইরানের গোয়েন্দা শক্তি ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বড় হুমকি: ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞ
https://parstoday.ir/bn/news/west_asia-i156410-ইরানের_গোয়েন্দা_শক্তি_ক্ষেপণাস্ত্রের_চেয়েও_বড়_হুমকি_ইসরায়েলি_বিশেষজ্ঞ
পার্সটুডে- ইসরায়েলের এক নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের গভীরে ইরানের গোয়েন্দা প্রভাব ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি।
(last modified 2026-01-25T11:18:15+00:00 )
জানুয়ারি ২৫, ২০২৬ ১২:৪১ Asia/Dhaka
  • ইসরায়েলি টিভি: ইরানের গোয়েন্দা প্রভাব তার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির চেয়েও বেশি
    ইসরায়েলি টিভি: ইরানের গোয়েন্দা প্রভাব তার ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির চেয়েও বেশি

পার্সটুডে- ইসরায়েলের এক নেটওয়ার্ক বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের গভীরে ইরানের গোয়েন্দা প্রভাব ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশি।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১২-এর একজন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তা এবং সামাজিক কাঠামোর গভীরে ইরানের গোয়েন্দা প্রভাব দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির চেয়ে 'অনেক বেশি শক্তিশালী'।

পার্সটুডে-জানিয়েছে, এই ইসরায়েলি বিশেষজ্ঞের মতে ইসরায়েল সম্পর্কে ইরানের কাছে যে পরিমাণ তথ্য রয়েছে তা 'উদ্বেগজনক'। যদি ইসরায়েল এই তথ্যের পরিমাণের দিকে দৃষ্টি দেয় তবে তারা ভীষণভাবে অবাক হবে!

এই নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ আরো বলেছেন, ইসরায়েলের কিছু ব্যক্তির নাম, ছবি, পারিবারিক সংযোগ এবং কর্মক্ষেত্রসহ তাদের যাবতীয় বিষয়ে ইরানের অ্যাক্সেস রয়েছে। এমন সব তথ্য ইরানের কাছে রয়েছে যা তার মতে, ইসরায়েলের অভ্যন্তরে প্রকাশ্যে প্রকাশ করার অনুমতি নেই। তিনি এই স্তরের অ্যাক্সেসকে 'খুবই উদ্বেগজনক' বলে অভিহিত করেছেন।

নিরাপত্তা সংঘাতে মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরণের অভিযানের লক্ষ্য হল ইসরায়েলি সমাজের মনোবল দুর্বল করা এবং নাগরিকদের মধ্যে দেশত্যাগের আকাঙ্ক্ষা তৈরি করা। তার মতে, এই গোয়েন্দা তথ্য ইরানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং কার্যকারিতার দিক থেকে ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে।

ইসরায়েলি নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেছেন, ইরান টেলিগ্রামে একটি হিব্রু ভাষার পৃষ্ঠা পরিচালনা করে যেখানে ইসরায়েলবিরোধী সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং এই কার্যকলাপগুলি সাইবার ক্ষেত্রে সহযোগিতাকারী ইরানি নিরাপত্তা এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলি দ্বারা পরিচালিত হয়। তিনি এ বিষয়টিকে একটি 'সাইবার সেনাবাহিনী' হিসাবে বর্ণনা করেছেন এবং বলেছেন, তাদের অনেক ক্ষমতা রয়েছে। অন্যান্য শক্তিশালী দেশ থেকে তারা যে শক্তি পেয়েছে এবং তারা সাইবার প্রচারণায় তা ব্যবহার করে। তাদের এ বিষয়ক সরঞ্জাম এবং শক্তির ফলে বেশ  কিছু প্রত্যাশিত সাফল্যও রয়েছে।  এ বিষয়ে আমি একটি উদাহরণ উল্লেখ করতে পারি তা হল 'হানজালা' নামক হ্যাকিং গ্রুপ।

তিনি এক্ষেত্রে সক্রিয় উদাহরণগুলির মধ্যে হ্যাকিং গ্রুপ 'হানজালা' র কথা উল্লেখ করে বলেন, এই গ্রুপটি বছরের পর বছর ধরে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক সাইবার অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তার মতে, সাইবার আক্রমণ হল 'নীরব যুদ্ধের হাতিয়ার' যা ইসরায়েলের জনসাধারণের মানসিকতার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলে।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ঐ নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ বলেন, সেপ্টেম্বর এবং ডিসেম্বরে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইস্রায়েল কাটজের ফোন হ্যাক করা হয়েছিল এবং ইসরায়েলের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেটের টেলিগ্রাম অ্যাকাউন্টও হ্যাক করা হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর চিফ অফ স্টাফ এবং প্রাক্তন বিচারমন্ত্রীর মোবাইল ফোনও হ্যাক করা হয়েছিল। তিনি এই ক্ষমতাকে 'প্রযুক্তি এবং মানব বুদ্ধিমত্তার সংমিশ্রণ' বলে মনে করেন।

তার মতে, ডিজিটাল সিস্টেমে হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ঠিকানা, ফোন নম্বর, ট্র্যাকিং, কথোপকথন আড়িপাতা এবং ব্যক্তিদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোনে অবস্থান-ভিত্তিক সরঞ্জামের ব্যবহার অপারেশনাল তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখতে পারে। ইরানের এই স্তরের ক্ষমতাকে 'উদ্বেগজনক' বলে উল্লেখ করেছেন।#

পার্সটুডে/জিএআর/২৫