ইসলামোফোবিয়া: ইসলাম বিরোধীদের একটি নয়া প্রজেক্ট
ইংল্যান্ডে ইসলামভীতি বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ‘এক্স’ সোশ্যাল নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীরা ইসলামভীতি প্রতিরোধে কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতার নিন্দা জানিয়েছেন।
এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে অভিবাসন বিরোধী স্লোগানে সহিংস বিক্ষোভে জড়িয়েছে ইংল্যান্ড। ডানপন্থী কর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে তিন মেয়েকে হত্যাকারীর পরিচয় সম্পর্কে ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার পর অস্থিরতা শুরু হয়েছিল। ইংল্যান্ডের সাউথপোর্ট শহরে অ্যালকোহল সেবন করার পর ১৭ বছর বয়সী এক যুবক তার হাতে ছুরি নিয়ে ৩ শিশুকে হত্যা করেছে। এছাড়া আরো দুই প্রাপ্তবয়স্ক এবং আট শিশুকে মারাত্মকভাবে আহত করার পর দেশটিতে একটি সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
পার্সটুডে রিপোর্ট অনুসারে ইংরেজি সংবাদপত্র 'গার্ডিয়ান' এই বিষয়ে ঘোষণা করেছে যে সামাজিক নেটওয়ার্ক পোস্টগুলো মিথ্যা গুজব ছড়াচ্ছে যে সন্দেহভাজন একজন মুসলিম অভিবাসন প্রার্থী এই কাণ্ড ঘটিয়েছে এবং এর পরিপ্রেক্ষিতে সাউথপোর্ট শহরের একটি মসজিদকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।
পশ্চিমের জন্য পশ্চিমকে চ্যালেঞ্জ করা
ইসলাম ও মুসলমানদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানোর প্রতিক্রিয়ায় এক্স সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ব্যবহারকারীরা পশ্চিমা দেশগুলোকে ভৌগোলিকভাবে চ্যালেঞ্জিং পরিস্থিতি হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
এ প্রসঙ্গে ‘ডেভিড মায়ার্স’ নামের একজন ব্যবহারকারী একটি পোস্ট প্রকাশ করে জোর দিয়ে বেন যে ইংল্যান্ডে সাম্প্রতিক হামলার সঙ্গে মুসলমানদের কোনো সম্পর্ক নেই।
আরেক ব্যবহারকারী ইংল্যান্ডে মুসলমানদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করেছেন,
তার পোস্টের কিছু অংশ এখানে তুলে ধরা হল, ইংল্যান্ডের মুসলমানরা সাবধান! আগামী কয়েক সপ্তাহে ইংল্যান্ড জুড়ে প্রধানত ইসলাম বিরোধী দাঙ্গা হচ্ছে। "এটা একেবারেই ভয়াবহ। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না যে মুসলমানদের লুকিয়ে থাকতে হবে।'
ইসলামোফোবিয়া প্রকল্প
মজিদ তাফারশি সমসাময়িক ইতিহাসের একজন গবেষক এবং X এর একজন সক্রিয় ব্যবহারকারী যিনি ইসলামোফোবিয়াকে একটি প্রকল্প হিসাবে বিবেচনা করেন তিনি লিখেছেন:
"ইসলামফোবিয়া অবশ্যই একটি প্রকল্প এবং কোথাও থেকে একে অনবরত ইন্ধন দেয়া হচ্ছে।"।
সোরেনা" হল আরেকটি এক্স ব্যবহারকারী যিনি উল্লেখ করেছেন:
বিশ্বের মানুষ মিথ্যাবাদী শাসকদের এবং তাদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে বিরক্ত, তাই যারা সত্যের সন্ধান করছে তাদেরকে ইসলামের দিকেই ফিরে যেতে হবে। এটি স্বাভাবিক যে ইসলাম বিরোধীরা ইসলাম ভীতি নামক এই প্রকল্পটি চালু করেছে। কিন্তু ঈশ্বরের হাত সবার হাতের উপরে।"
পাশ্চাত্যে ইসলামের প্রতি ঝোঁক বাড়ছে
ইংরেজ সাংবাদিক রবার্ট কার্টার তার ইসলাম ধর্ম গ্রহণ সম্পর্কে লিখেছেন,
"আমার যৌবনে, আমি ইংরেজ জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামফোবিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলাম। আমি রাগান্বিত, বিপথগামী এবং অশিক্ষিত ছিলাম। আমি এখন মুসলিম। আলহামদুলিল্লাহ! আমি জীবনকে ভালোবাসি এবং জীবনের সর্বস্তরে, ফলস্বরূপ আমি আরও শক্তিশালী হয়েছি। 'ইসলাম ব্রিটিশদের জন্য কোন বিপদ ডেকে আনছে না।'
এদিকে, সম্প্রতি টেল মামা ইনস্টিটিউট যেটি ইংল্যান্ডে ইসলামোফোবিয়া পর্যবেক্ষণ করে তারা আবারও চরম ডানপন্থী মুসলিম বিরোধীদের দ্বারা সন্ত্রাস সৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করেছে।
টেল মামার একটি প্রতিবেদন অনুসারে সাউথপোর্ট, হার্টলপুল এবং লিভারপুলের ১০টি মসজিদে মুসলিম বিরোধী বক্তব্য তিনগুণ বেড়েছে এবং এতে অনেক মুসলমানরা তাদের বাড়িঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছেন বিশেষ করে হিজাব পরা নারীরা রাস্তায় হামলার ঘটনায় চরমভাবে উদ্বিগ্ন।#
পার্সটুডে/এমবিএ/১০
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।