বিশ্ব-সংবাদ-বিশ্লেষণ
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস: গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ব্যর্থতার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে
-
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস: গাজা যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ব্যর্থতার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে
পার্স টুডে - পশ্চিমা কূটনীতিকরা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহারের পর্বে সম্ভাব্য ইসরায়েলি তালবাহানা বা গড়িমসি এবং এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিস্তারিত পর্যায়গুলো সম্পর্কে অস্পষ্টতার কারণে গাজার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ পরিকল্পনা ভেঙে পড়ার গুরুতর ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের মতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ, যার মধ্যে রয়েছে "গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার" এবং "হামাসের নিরস্ত্রীকরণ", পরিকল্পনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত। কূটনীতিকরা সতর্ক করে দিচ্ছেন যে এই পর্যায়ে, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা খুবই বেশি।
ইরানি স্টুডেন্টস নিউজ এজেন্সি (ISNA) এর উদ্ধৃতি দিয়ে পার্স টুডে জানিয়েছে, একজন পশ্চিমা কূটনীতিক এই ঝুঁকিটি ব্যাখ্যা করে বলেছেন:এমনটা হতে পারে যে হামাসের নিরস্ত্রীকরণে ব্যর্থতার অজুহাত দেখিয়ে ইসরায়েল পুনরায় আক্রমণ শুরু করবে, অন্যদিকে ইসরায়েল প্রত্যাহার না করলে হামাস নিরস্ত্রীকরণে অস্বীকৃতি জানাবে।
ট্রাম্পের পরিকল্পনার একটি কেন্দ্রীয় বিষয় হল ইসরায়েলের প্রত্যাহারের ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা-শূন্যতা পূরণের জন্য একটি "আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী" (ISF) গঠন করা। তবে, এই বাহিনীর আকার, গঠন এবং ক্ষমতা সহ বিস্তারিত তথ্য রহস্যের আড়ালে রয়ে গেছে।
একজন পশ্চিমা কূটনীতিকের মতে, কেউই আশা করে না যে আন্তর্জাতিক বাহিনী হামাসের সাথে যুদ্ধে জড়াবে। আইএসএফের প্রাথমিক লক্ষ্য হবে অবস্থান বজায় রাখা, মানবিক সাহায্য সরবরাহে সহায়তা করা এবং যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করা।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোও জানিয়েছে যে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পের পরিকল্পনার মূল সংস্করণে পরিবর্তন করেছেন। এই পরিবর্তনগুলির মধ্যে রয়েছে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা পরিবর্তন করা এবং ফিলিস্তিনি স্বশাসন কর্তৃপক্ষের ভূমিকা হ্রাস করা যা আরব সরকারগুলোর অসন্তোষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যদিও তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার মতো দেশগুলো গাজায় সেনা পাঠাতে তাদের প্রস্তুতির কথা প্রকাশ করেছে, তবুও অনেক আরব সরকার সতর্কতার সাথে কাজ করছে, ইসরায়েলি আদেশেই তারা কাজ করছে- এমনটি তারা দেখাতে চায় না। তারা তাদের অংশগ্রহণকে দুই-রাষ্ট্র-ভিত্তিক সমাধানের লক্ষ্যে এ সংক্রান্ত একটি বিশ্বাসযোগ্য রাজনৈতিক কাঠামোর সংজ্ঞা নির্ধারণের শর্তযুক্ত করেছে।
মনে হচ্ছে এই পরিকল্পনার সাফল্য বা ব্যর্থতা নির্ভর করছে এই মৌলিক চ্যালেঞ্জগুলো সমাধানের ওপর, বর্তমানে কোনও স্পষ্ট সম্ভাবনার আলো এসব বিষয়ে দেখা যাচ্ছে না। #
পার্স টুডে/এমএএইচ/১৩
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।