পশ্চিম এশিয়ার জন্য ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কেন হাস্যকর?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i153568-পশ্চিম_এশিয়ার_জন্য_ট্রাম্পের_শান্তি_পরিকল্পনা_কেন_হাস্যকর
পার্সটুডে - ট্রাম্পের আমলে আমেরিকার শান্তিকামী হওয়ার দাবি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলিতে বারবার দাবি করেছেন যে তিনি পশ্চিম এশিয়াকে যুদ্ধ এবং নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষা করতে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান।
(last modified 2026-03-01T10:43:34+00:00 )
অক্টোবর ৩১, ২০২৫ ১৬:১৭ Asia/Dhaka
  • পশ্চিম এশিয়ার জন্য ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কেন হাস্যকর?
    পশ্চিম এশিয়ার জন্য ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা কেন হাস্যকর?

পার্সটুডে - ট্রাম্পের আমলে আমেরিকার শান্তিকামী হওয়ার দাবি স্পষ্ট স্ববিরোধিতা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সাম্প্রতিক বক্তৃতাগুলিতে বারবার দাবি করেছেন যে তিনি পশ্চিম এশিয়াকে যুদ্ধ এবং নিরাপত্তাহীনতা থেকে রক্ষা করতে এবং এই অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চান।

কিন্তু এই দাবি, যতটা না ওয়াশিংটনের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত তার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, আমেরিকার ভাবমূর্তি পুনর্নির্মাণ করা এবং ওই অঞ্চলে স্বার্থ হাসিলের প্রচেষ্টা যেখানে আমেরিকা নিজেই অস্থিতিশীলতার প্রধান কারণ। মেহর নিউজের উদ্ধৃতি দিয়ে পার্সটুডে জানিয়েছে, আসলে, ট্রাম্প যে শান্তির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার অর্থ ন্যায়বিচার বা ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা নয় বরং এই অঞ্চলের দেশগুলির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়া।

হস্তক্ষেপকামী নীতি এবং মার্কিন যুদ্ধের উত্তরাধিকার

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর, আমেরিকান পররাষ্ট্রনীতি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা থেকে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপে রুপান্তরিত হয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের স্লোগানে ওয়াশিংটন এই অঞ্চলে বিশাল সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলে। ২০০১ সালে আফগানিস্তান আক্রমণ এবং ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণ ছিল এই নীতির দুটি প্রধান অক্ষ; যেখানে সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং গণতন্ত্র সম্প্রসারণের লক্ষ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে তাদের ওই পদক্ষেপ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ধ্বংস, সামাজিক কাঠামোর পতন এবং চরমপন্থার জন্ম দিয়েছিল।

এই তিক্ত অভিজ্ঞতাগুলি থেকে বোঝা যায় যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা তৈরি করতে ব্যর্থ হয়েছে তাই নয় একইসাথে তাড়াহুড়ো করে সিদ্ধান্ত এবং গোপন লক্ষ্যের মাধ্যমে স্থায়ী নিরাপত্তাহীনতার একটি চক্রও তৈরি করেছে। এমনকি আমেরিকান কর্মকর্তারাও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে স্বীকার করেছেন যে পশ্চিম এশিয়ায় তাদের দীর্ঘমেয়াদী সামরিক উপস্থিতি এই অঞ্চলের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা দুর্বল করা ছাড়া আর কোনও প্রভাব ফেলেনি।

এই হস্তক্ষেপগুলি ছাড়াও, ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রতি সর্বাত্মক সমর্থন সহিংসতা ছড়িয়ে দেওয়ার আরেকটি কারণ। ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে কোটি কোটি ডলারের অস্ত্র দিয়ে ওয়াশিংটন কার্যত ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে অপরাধে জড়িত।

ট্রাম্প এবং তার শান্তিকামী হওয়ার ভান

এখন ট্রাম্প একটি ত্রাণকর্তার বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন এবং "মধ্যপ্রাচ্য শান্তি"র কথা বলেছেন। তবে, তার কথা এবং আচরণের নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে দেখা যায় যে এই দাবিটি আসলে একই হস্তক্ষেপকামী নীতির ধারাবাহিকতা যার চেহারা আরও কুৎসিত। তিনি বিদ্যমান সংকটগুলিকে ব্যবহার করে আমেরিকার ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্নির্মাণ করার চেষ্টা করছেন এবং মধ্যস্থতার নামে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য নতুন ক্ষেত্র তৈরি করার চেষ্টা করছেন।

প্রকৃতপক্ষে, ট্রাম্প যে শান্তি চান তা ন্যায়বিচারবিহীন শান্তি। তিনি এমন সময় আরব ও ইহুদিবাদী ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে চান, যখন ফিলিস্তিনি জনগণ এখনও অবরুদ্ধ এবং গাজা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। এমনকি মাঝেমধ্যে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বক্তব্যও ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করে না, বরং এমন একটি মিত্রকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য যার চরম আচরণ এই অঞ্চলে আমেরিকার কাঙ্ক্ষিত শৃঙ্খলাকে বিপন্ন করতে পারে। এই রাজনৈতিক খেলায়, ট্রাম্প উভয় পক্ষের কাছ থেকে ছাড় পেতে নিজেকে একজন ত্রাণকর্তা হিসেবে উপস্থাপন করেন।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৩১

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।