কাবুল-ইসলামাবাদ সংকট সমাধানে তিন প্রভাবশালী মুসলিম দেশের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i154506-কাবুল_ইসলামাবাদ_সংকট_সমাধানে_তিন_প্রভাবশালী_মুসলিম_দেশের_কূটনৈতিক_প্রচেষ্টা
পার্সটুডে- আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির একই সাথে, তিনটি আঞ্চলিক শক্তি, ইরান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক, সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ একটি সংকট নিয়ন্ত্রণে মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
(last modified 2025-11-29T13:18:36+00:00 )
নভেম্বর ২৯, ২০২৫ ১০:২৩ Asia/Dhaka
  • • কাবুল-ইসলামাবাদ সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা
    • কাবুল-ইসলামাবাদ সংকট সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা

পার্সটুডে- আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনা বৃদ্ধির একই সাথে, তিনটি আঞ্চলিক শক্তি, ইরান, সৌদি আরব এবং তুরস্ক, সমগ্র অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ একটি সংকট নিয়ন্ত্রণে মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্ত সংকটকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক বিরোধ ও উত্তেজনা চরম পর্যায় পৌঁছেছে এবং আঞ্চলিক খেলোয়াড়দের মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এই সংকট নিরসনে ইরান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক সহযোগিতা দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

সঙ্কটের মূল

কাবুল ও ইসলামাবাদের মধ্যে উত্তেজনার তিনটি কারণ:

নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ: পাকিস্তান দাবি করে যে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এর সদস্যরা আফগানিস্তানের মাটিতে আশ্রয় নিয়েছে এবং তালেবানরা তাদের নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তবে তালেবান এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।

সীমান্ত বিরোধ: ডুরান্ড লাইন সমস্যাটি একটি অমীমাংসিত ঐতিহাসিক সমস্যা হিসেবে দুই দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে চলেছে।

অর্থনৈতিক সমস্যা: সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ফলে আফগান অর্থনীতির উপর উল্লেখযোগ্য চাপ পড়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় অসন্তোষ বেড়েছে।

আঞ্চলিক প্রভাবশালী দেশগুলোর লক্ষ্য

ইরান: পূর্ব ইরানকে সুরক্ষিত রাখার এবং আন্তঃআঞ্চলিক শক্তিশালী দেশগুলোর মাধ্যমে স্বাধীন নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে তেহরান একটি আঞ্চলিক বৈঠক আয়োজনের প্রস্তাব করেছে।

সৌদি আরব: রিয়াদ মধ্যস্থতার জন্য তার প্রস্তুতি ঘোষণা করেছে এবং দেশটি পাকিস্তানের সাথে তার কৌশলগত সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে এই অঞ্চলে রিয়াদের ঐতিহ্যবাহী ভূমিকা ও প্রভাব পুনরুদ্ধার করতে চায়।

তুরস্ক: তুরস্কও পাকিস্তানের সাথে ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা সম্পর্ক কাজে লাগিয়ে এবং আফগান ইস্যুতে অতীত অভিজ্ঞতার আলোকে এ অঞ্চলে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করতে চায়।

সামনে যেসব চ্যালেঞ্জ রয়েছে

এই সংকট সমাধানে সফল মধ্যস্থতার পথে বেশ কয়েকটি বাধা রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে তালেবান এবং পাকিস্তানের মধ্যে গভীর অবিশ্বাস, তালেবানের প্রতি আন্তর্জাতিক সমাজের স্বীকৃতির অভাব, তিনটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মধ্যে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সীমান্ত এলাকায় অব্যাহত নিরাপত্তাহীনতা এবং কাতার ও তুরস্কের পূর্ববর্তী উদ্যোগের ব্যর্থতা।

সম্ভাব্য পরিস্থিতি

আশাবাদী পরিস্থিতি: যদি তিনটি আঞ্চলিক শক্তি সমন্বয় করে চলে এবং পক্ষগুলো আন্তরিকভাবে ইচ্ছুক হয়, তাহলে এই মধ্যস্থতা কাজে দেবে এবং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আসতে পারে।

হতাশাবাদী পরিস্থিতি: যদি মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এবং পক্ষগুলির মধ্যে অবিশ্বাস অব্যাহত থাকে, তাহলে সংকট সমাধানতো হবে না বরং এটি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র হয়ে উঠবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে আরও হুমকির মুখে ফেলবে।

সবশেষে বলা যায়, বর্তমান সংকট নিরসনের চেষ্টা আঞ্চলিক দেশগুলোর ক্ষমতার জন্য পরীক্ষা। এই ত্রিপক্ষীয় মধ্যস্থতার সাফল্য আঞ্চলিক সংকট সমাধানের জন্য একটি নতুন মডেল তৈরি করতে পারে, কিন্তু তারা যদি ব্যর্থ হয় তাহলে দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই এই তিনটি আঞ্চলিক শক্তির সহযোগিতা বা প্রতিযোগিতা আগামী বছরগুলিতে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ভবিষ্যত নির্ধারণ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।#

পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৯