আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত: ইরাকি প্রতিরোধ
ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি গ্রহণযোগ্য নয়: সৌদি আরব
-
সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান
পার্সটুডে-মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধি এবং এ অঞ্চলে ইসরায়েলি হুমকি বৃদ্ধির পর ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরক্ষায় ইসলামী দেশগুলো সমর্থনমূলক এবং সতর্কীকরণ অবস্থানের একটি ঢেউ সৃষ্টি করেছে।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। কথোপকথনে প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ঘোষণা করেছেন, রিয়াদ ইরানের বিরুদ্ধে যে-কোনো হুমকি এবং উত্তেজনাকে অগ্রহণযোগ্য বলে মনে করে এবং স্থায়ী শান্তির জন্য ইরান এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর সাথে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। পার্সটুডে অনুসারে, বিন সালমান বলেছেন: সৌদি আরব তার ভূখণ্ড এবং আকাশসীমাকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনোরকম সামরিক পদক্ষেপের জন্য ব্যবহার করতে দেবে না। বিন সালমান আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদার করার জন্য সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির যে-কোনো প্রচেষ্টার প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের ওপরও জোর দিয়েছেন। এই টেলিফোনে, মাসুদ পেজেশকিয়ান ইসলামি দেশগুলোর সমর্থনের প্রশংসা করেছেন এবং আন্তর্জাতিক নীতিমালার মধ্যে এবং ইরানি জনগণের অধিকার রক্ষার শর্তে আলোচনা করাকে গ্রহণযোগ্য বলে মত দিয়েছেন।
আন-নুজাবা: ইরানের ওপর আক্রমণের প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিক হবে
এ প্রসঙ্গে, আন-নুজাবা রাজনৈতিক পরিষদের ফিরাস আল-ইয়াসির সতর্ক করে বলেছেন যে ইরানের ওপর মার্কিন যে-কোনো আক্রমণ এ অঞ্চলকে একটি বিস্তৃত সংঘাতের দিকে ঠেলে দেবে এবং ইরাকি প্রতিরোধ শক্তি প্রথম মুহূর্ত থেকেই পদক্ষেপ নেবে। লেবাননের হিজবুল্লাহর মহাসচিব শেখ নাঈম কাসেম আরও বলেছেন ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ পুরো অঞ্চলকে উস্কে দিতে পারে এবং সম্ভাব্য আগ্রাসনের মুখে হিজবুল্লাহ নিরপেক্ষ থাকবে না।
ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হুমকির পরিণতি সম্পর্কে পাকিস্তানের হুশিয়ারি
অপরদিকে, জমিয়াত উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের চেয়ারম্যান মাওলানা ফজলুর রহমান দেশটির সংসদে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হুমকি পাকিস্তান এবং এ অঞ্চলের জন্য সরাসরি নিরাপত্তা সংকট ডেকে আনতে পারে। তিনি বলেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে এবং আরব দেশগুলোই হবে প্রথম লক্ষ্যবস্তু।
ইরানের সাথে আফগান শিয়া ও সুন্নি পণ্ডিতদের একাত্মতা ঘোষণা
একইসাথে, উত্তর আফগানিস্তানের শিয়া ও সুন্নি পণ্ডিতরাও মাজার-ই-শরীফে এক সমাবেশে ইসলামী প্রজাতন্ত্রের জাতি ও ব্যবস্থার সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেছেন এবং মুসলমানদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়েছেন। এই অনুষ্ঠানে, বলখ প্রদেশের শিয়া ওলামা কাউন্সিলের প্রধান হুজ্জাতুলইসলাম ওয়ালমুসলিমিন হোসেইন আলী বায়ানি ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েল কর্তৃক আরোপিত ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন: যেসব মিডিয়ার রঙ ও রূপে মানবতা ও ইসলামের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই সেসব মিডিয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে মুসলিম জাতিগুলোর, বিশেষ করে ইরানি জাতির বিরুদ্ধে কাজ করছে, গুজব ও মিথ্যাচারের মাধ্যমে বিশ্বের মানুষের মনে বিশ্বাসযোগ্যতা সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। জনগণকে এভাবে মিডিয়া দ্বারা প্রতারিত করা উচিত নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
পরাজয়ের ভয়ে ট্রাম্প দ্রুত আত্মসমর্পণ করছেন: বেলায়াতি
এদিকে, বিশ্ব ইসলামী জাগরণ ফোরামের মহাসচিব আলী আকবর বেলায়াতি ইসলামী বিপ্লবের নেতাকে সম্বোধন করে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন: বিশ্ব ইসলামী জাগরণ ফোরাম প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নেতার কৌশলের অধীন। ক্ষমতা এবং বস্তুগত জিনিসপত্রের প্রতি ট্রাম্প যতই লোভী হোক না কেন, তিনি যখন দেখবেন তাঁর কৌশল ব্যর্থ হতে যাচ্ছে তখন তিনি যত দ্রুত সম্ভব হাত গুটিয়ে নিয়ে আত্মসমর্পণ করবেন।
দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ইরান পুরোপুরি প্রস্তুত
ইরান টেলিভিশনের “বিশেষ সংবাদ আলোচনা” অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদী এ অঞ্চলে মার্কিন সমরসজ্জার পরিস্থিতিকে অত্যন্ত জটিল বলে বর্ণনা করে বলেছেন: “সরল বিশ্লেষণের মাধ্যমে বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করা যায় না।” তিনি বলেছেন: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য কিছু দলের পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা তৈরি করার রাজনৈতিক ইচ্ছা আছে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও “গুরুতর সন্দেহের” দোলাচলে রয়েছেন । মোহাম্মদীর মতে, শত্রুরা তাদের সকল সক্ষমতা একত্রিত করে বিভিন্ন হুমকিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছে, তবে একইসাথে তারা উল্লেখযোগ্য ভয়-ভীতি এবং সন্দেহের মুখোমুখি হচ্ছে।#
পার্সটুডে/এনএম/২৮
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন