ফ্রান্সে নারী আইনপ্রণেতাকে ধর্ষণ চেষ্টা, সিনেটর গ্রেফতার
https://parstoday.ir/bn/news/world-i156536-ফ্রান্সে_নারী_আইনপ্রণেতাকে_ধর্ষণ_চেষ্টা_সিনেটর_গ্রেফতার
পার্সটুডে - ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে সহকর্মী নারী আইন প্রণেতাকে মাদক খাওয়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে একজন ফরাসি সিনেটরের বিরুদ্ধে।
(last modified 2026-01-29T10:39:32+00:00 )
জানুয়ারি ২৯, ২০২৬ ১০:৩৯ Asia/Dhaka
  • সাবেক ফরাসি সিনেটর জুয়েল গুয়েরিয়ো 
    সাবেক ফরাসি সিনেটর জুয়েল গুয়েরিয়ো 

পার্সটুডে - ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে সহকর্মী নারী আইন প্রণেতাকে মাদক খাওয়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে একজন ফরাসি সিনেটরের বিরুদ্ধে।

২০২৩ সালের নভেম্বরে অপরাধের সময় গুয়েরিয়ো একজন মধ্যপন্থী সিনেটর ছিলেন। ফরাসি রাজনীতিবিদকে মাদক এক্সট্যাসি মিশিয়ে এক গ্লাস শ্যাম্পেনে মিশিয়ে যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে মধ্যপন্থী মডেম পার্টির সংসদ সদস্য ৫০ বছর বয়সী স্যান্ড্রিন জোসোকে পরিবেশন করার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। যদিও গুয়েরিয়ো আদালতে জোসোকে যৌন নির্যাতনের ইচ্ছার কথা অস্বীকার করেছেন। 

অন্যদিকে, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এটিকে ‘যৌন উদ্দেশ্যে মাদক প্রয়োগ’ হিসেবে অভিহিত করে অভিযুক্তের তিন বছরের কারাদণ্ড দাবি করেছেন। ৫০ বছর বয়সী স্যান্ড্রিন জোসো আদালতে জানান, গুয়েরিয়োর দেওয়া শ্যাম্পেনে চুমুক দেওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তিনি অস্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া অনুভব করতে থাকেন।

তার হৃদস্পন্দন দ্রুত হতে শুরু করে এবং শরীর ক্রমশ অবশ হয়ে আসছিল। তিনি লক্ষ্য করেন, গ্যারিও অস্বাভাবিক আচরণ করছেন এবং বারবার ঘরের বাতি জ্বালাচ্ছেন ও নেভাচ্ছেন। একপর্যায়ে গ্যারিওকে হাতে একটি ছোট প্যাকেটসহ রান্নাঘরে যেতে দেখে জোসো বুঝতে পারেন যে তাকে কৌশলে মাদক দেওয়া হয়েছে।

অত্যন্ত ভীতি ও আতঙ্কের মধ্যে থেকেও তিনি নিজের অসুস্থতা গোপন রাখার চেষ্টা করেন এবং কোনোমতে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ট্যাক্সি নিয়ে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে জোসো বলেন, “সেসময় আমি শুধু আমার সন্তানদের কথা ভাবছিলাম এবং মনে হচ্ছিল আমি হয়তো আজই মারা যাব।”

পরবর্তী সময়ে ডাক্তারি পরীক্ষায় তার রক্তে অত্যধিক মাত্রায় মাদকের উপস্থিতি পাওয়া যায়, যা সাধারণ সেবনের মাত্রার চেয়েও অনেক বেশি ছিল। ঘটনার পর থেকে তিনি গুরুতর মানসিক ট্রমা, ঘুমের সমস্যা এবং প্যানিক অ্যাটাকে ভুগছেন। অতিরিক্ত মানসিক চাপের কারণে তিনি দাঁতে দাঁত ঘষতেন, যার ফলে তার বেশ কয়েকটি দাঁত তুলে ফেলতে হয়েছে।

অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাবেক সিনেটর গুয়েরিয়ো আদালতে নিজেকে ‘বিধ্বস্ত’ হিসেবে উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তিনি দাবি করেন, সেসময় তিনি বিষণ্নতায় ভুগছিলেন এবং আত্মহত্যার চিন্তায় আগের রাতে নিজের গ্লাসে মাদক মিশিয়ে রেখেছিলেন, যা ভুলবশত জোসোকে পরিবেশন করা হয়েছিল।

তদন্তকারীরা সাক্ষ্য দিয়েছেন যে গুয়েরিয়ো আক্রমণের প্রায় এক মাস আগে যৌন নির্যাতনের সাথে সম্পর্কিত মাদক যার মধ্যে এক্সট্যাসিও অন্তর্ভুক্ত ছিল এ সম্পর্কে তথ্যের জন্য অনলাইনে অনুসন্ধান করেছিলেন। তবে গুয়েরিয়ো দাবি করেছেন যে গবেষণাটি একজন সিনেটর হিসেবে তার কাজের অংশ ছিল।

রাষ্ট্রীয় প্রসিকিউটর বেনিয়ামিন কুলন বিশ্বাস করেন যে গুয়েরিয়ো "ইচ্ছাকৃতভাবে" জোসোর শ্যাম্পেনে এক্সট্যাসি মিশিয়েছিলেন "তাকে ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যে"।

কোলন বলেছেন যে আসামী যিনি ২০১১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সিনেটর ছিলেন তিনি নিজেই এমন একটি আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন যা "ধর্ষণ বা যৌন নির্যাতনের উদ্দেশ্যে ক্ষতিকারক পদার্থ প্রয়োগের" বিষয় ছিল ।#

পার্সটুডে/এমবিএ//২৯

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।