একটি নতুন ব্যবস্থা পুনর্নির্ধারণ হবে
দক্ষিণ ককেশাস ও মধ্যএশিয়ার ব্যাপারে ইরান ও আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের কৌশলগত পদক্ষেপ
-
• ইরান ও আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর
পার্সটুডে- ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের উপ-প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন।
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য যৌথ কমিশনের ১৭তম অধিবেশনের সমঝোতা স্মারক ১০টি প্রধান শিরোনামে সংকলিত হয় এবং ইরানের সড়ক ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী "ফারজানেহ সাদেক" এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের উপ-প্রধানমন্ত্রী "শাহিন মুস্তাফায়েভ" দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার এই নথিতে স্বাক্ষর করেছেন।
এই নথিতে অবকাঠামো, জ্বালানি, পানি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে ইরান ও আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার কাঠামোর রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। পরিবহন ক্ষেত্রে, সড়ক পরিবহন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং রেল পরিবহনের উন্নয়নের মতো বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা এবং একমত হয়েছে।
এই নথির গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল কালালেহ-আকবন্দ সেতু, আস্তারা সেতু, কালালেহ-জোলফা সড়ক প্রশস্তকরণ, কালালেহ-সিয়ারুদ রেল সংযোগ এবং দুই দেশের সীমান্তে আস্তারা রেলওয়ে টার্মিনাল স্থাপন, এই নথির গুরুত্বপূর্ণ দিক। দুই দেশই তাদের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার উপর জোর দিয়েছে।
জ্বালানি খাতে, তেল ব্লক এক এবং দুই-এ সহযোগিতা এবং প্রাসঙ্গিক সমঝোতা স্মারক অনুসরণ এবং বাস্তবায়নের জন্য একটি যৌথ কর্মী গোষ্ঠী গঠন অনুমোদিত হয়েছে। বিদ্যুৎ খাতে, ইরান, আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র এবং রাশিয়া এই তিন দেশের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্কের সংযোগ, সেইসাথে আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র থেকে ইরানে বিদ্যুৎ রপ্তানি, সম্মত বিষয়গুলির মধ্যে ছিল।
পানির ক্ষেত্রে, খোদা আফরিন এবং কিজ কালা সি বাঁধ এবং বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কিত সহযোগিতা, সেইসাথে মারাজাদ-ওরদুবাদ বিদ্যুৎ কেন্দ্র সম্পর্কিত বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা এবং পর্যালোচনা করা হয় এবং এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় চুক্তিতে পৌঁছায় দুই দেশ। এছাড়াও, ক্রীড়া ও যুব, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্র, পর্যটন, কৃষি, শুল্ক, শিল্প, বিনিয়োগ এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক ক্ষেত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে উভয় পক্ষের মধ্যে প্রয়োজনীয় সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে।
১০টি প্রধান বিষয়ের উপর ইরান এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা দলিল স্বাক্ষর আঞ্চলিক মিথস্ক্রিয়া জোরদার এবং আন্তঃসীমান্ত অর্থনৈতিক মিথস্ক্রিয়া পুনর্গঠনের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ।
ইরান এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্র পূর্ব ও পশ্চিম, পাশাপাশি উত্তর ও দক্ষিণের সংযোগস্থলে অবস্থিত। সাম্প্রতিক সমঝোতা ইরানকে উত্তর-দক্ষিণ করিডোরে "ট্রানজিট এবং শক্তি কেন্দ্র" হিসাবে তার ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নেওয়ার একটি অভূতপূর্ব সুযোগ প্রদান করে। পারস্য উপসাগর থেকে কৃষ্ণ সাগর এবং ককেশাস থেকে মধ্য এশিয়ায় পরিবহন রুট সংযুক্ত করার পাশাপাশি ট্রানজিট রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বিকল্প রুটের উপর নির্ভরতা হ্রাস করার মাধ্যমে, ইরানের অবস্থান ও গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে।
বিদ্যুৎ গ্রিড সংযোগ, যৌথ তেলক্ষেত্র ব্যবহার এবং সীমান্ত বাঁধ ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের মতো ক্ষেত্রে ইরান এবং আজারবাইজান প্রজাতন্ত্রের মধ্যে সহযোগিতা কেবল অর্থনৈতিক অভিন্নতার সূচকই নয়, বরং দক্ষিণ ককেশাস অঞ্চলে একটি নতুন শক্তি-ভিত্তিক ভারসাম্য গঠনের লক্ষণও বটে। ভাষাগত, ধর্মীয় এবং ঐতিহাসিক মিলের কারণে, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক দক্ষিণ ককেশাস এবং মধ্য এশিয়ায় ইরানের অর্থনৈতিক কূটনীতির জন্য একটি নরম এবং স্থিতিশীল ভিত্তি প্রদান করতে পারে; এটি দীর্ঘমেয়াদে সহযোগিতার স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। ইরান-আজারবাইজান সহযোগিতা দলিল কেবল একটি প্রযুক্তিগত চুক্তির চেয়েও বেশি কিছু; এটি অর্থনৈতিক কূটনীতি, অবকাঠামোগত অগ্রাধিকার এবং আঞ্চলিক সম্পৃক্ততার উপর ভিত্তি করে তেহরানের একটি নতুন অর্থনৈতিক পদ্ধতির প্রতীক।#
পার্সটুডে/এমআরএইচ/২৪
বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।