নিকারাগুয়া কেন ইসরায়েলকে অস্ত্র দিতে জার্মানির প্রতি আহ্বান জানাল?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i157354-নিকারাগুয়া_কেন_ইসরায়েলকে_অস্ত্র_দিতে_জার্মানির_প্রতি_আহ্বান_জানাল
পার্সটুডে- নিকারাগুয়া ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান বন্ধের জন্য জার্মানির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
(last modified 2026-02-27T12:19:48+00:00 )
ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২৬ ১৬:৫৬ Asia/Dhaka
  • নিকারাগুয়া কেন ইসরায়েলকে অস্ত্র দিতে জার্মানির প্রতি আহ্বান জানাল?

পার্সটুডে- নিকারাগুয়া ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা প্রদান বন্ধের জন্য জার্মানির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

পার্সটুডে'র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড জবরদখলের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মামলায় জার্মানির প্রাথমিক আপত্তির জবাবে নিকারাগুয়া সরকার তাদের লিখিত উত্তর আন্তর্জাতিক বিচার আদালত বা আইসিজে-তে জমা দিয়েছে এবং ১৯৪৮ সালের গণহত্যা প্রতিরোধ কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে বার্লিনকে ইসরায়েলের প্রতি সামরিক সহায়তা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

নিকারাগুয়া সরকার বলেছে, জার্মানির প্রাথমিক আপত্তির বিষয়ে তাদের জবাব ওই আবেদনের অংশ হিসেবে জমা দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইহুদিবাদী ইসরায়েলের প্রতি বার্লিনের সামরিক সহায়তা স্থগিতের দাবি জানানো হয়েছে। সরকারের প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এবং আন্তর্জাতিক আদালতের সব আনুষ্ঠানিক শর্ত মেনে যুক্তিগুলো উপস্থাপন করা হয়েছে।

নিকারাগুয়া জোর দিয়ে বলেছে, এই মামলা “দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড সম্পর্কিত কিছু আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পালন না করা”-র সঙ্গে সম্পর্কিত এবং নিকারাগুয়ার পদক্ষেপ “ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইনের সবচেয়ে মৌলিক নীতিমালা লঙ্ঘন বন্ধে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ”-এর অঙ্গীকার থেকে নেওয়া হয়েছে। নিকারাগুয়া সরকার আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের প্রতি তাদের প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

প্রথমত, নিকারাগুয়ার দৃষ্টিতে জার্মানি গণহত্যা কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে। হেগে শুনানিতে নিকারাগুয়ার আইনজীবীরা এই যুক্তি দেন যে, সম্ভাব্য গণহত্যার ঝুঁকি সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও বার্লিন ইসরায়েলে অস্ত্র পাঠানো অব্যাহত রেখেছে। তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের পর জার্মানি ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অস্ত্র সরবরাহকারী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ইসরায়েলের সামরিক আমদানির ৩০ শতাংশ জার্মানি থেকে এসেছে। নিকারাগুয়া জানিয়েছে, এসব অস্ত্র গাজায় বেসামরিক হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দ্বিতীয়ত, মানবিক সহায়তার বিষয়ে জার্মানির নীতিকে নিকারাগুয়া স্ববিরোধী বলে অভিহিত করেছে। তাদের ভাষায়, একদিকে গাজার মানুষের জন্য খাদ্য সহায়তা পাঠানো, অন্যদিকে একই মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে এমন গোলাবারুদ সরবরাহ করা “অযৌক্তিক”। পাশাপাশি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ইউএনআরডব্লিউএ-র অর্থায়ন স্থগিতের সিদ্ধান্ত বেসামরিক দুর্ভোগ বাড়ানোর পদক্ষেপ এবং গণহত্যায় সহায়তার সামিল বলে তারা দাবি করেছে।

তৃতীয়ত, ইসরায়েলের সঙ্গে জার্মানির তথাকথিত “বিশেষ দায়িত্ব ও সম্পর্ক” প্রসঙ্গটি তুলে ধরা হয়েছে। নিকারাগুয়ার মতে, জার্মানি সবসময় ইসরায়েলের নিরাপত্তা রক্ষার ওপর জোর দিয়েছে। নিকারাগুয়া মনে করে, এই বিশেষ সম্পর্ক জার্মানির দায়িত্ব কমায় না; বরং তেল আবিবের ওপর তাদের প্রভাব ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন রোধ করা উচিত ছিল, সংঘাত তীব্র করা নয়।

ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা ও ফিলিস্তিনি জনগণের প্রতি নিকারাগুয়ার সংহতিও এই পদক্ষেপে ভূমিকা রেখেছে। নেদারল্যান্ডসে নিযুক্ত নিকারাগুয়ার রাষ্ট্রদূত কার্লোস আর্গুয়েলো গোমেস আন্তর্জাতিক আদালতে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নিজের দেশে সামরিক হস্তক্ষেপের ইতিহাস উল্লেখ করেন এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি নিকারাগুয়ার জনগণের সহমর্মিতার কথা তুলে ধরেন।#

পার্সটুডে/এসএ/২৬