কেন যুক্তরাষ্ট্রের আচরণের ধরণ ইরানের সাথে বিরাজমান সংকট জিইয়ে রেখেছে?
https://parstoday.ir/bn/news/world-i161928-কেন_যুক্তরাষ্ট্রের_আচরণের_ধরণ_ইরানের_সাথে_বিরাজমান_সংকট_জিইয়ে_রেখেছে
পার্সটুডে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের ধরণ এমন যে, তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের সংকটকে অব্যাহত রাখছে।
(last modified 2026-08-04T13:24:00+00:00 )
আগস্ট ০৪, ২০২৬ ১৯:২১ Asia/Dhaka
  • • পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সেনারা
    • পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে সেনারা

পার্সটুডে- ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আচরণের ধরণ এমন যে, তা ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সম্পর্কের সংকটকে অব্যাহত রাখছে।

গত কয়েকদিনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অবকাঠামোর ওপর একটি বড় ও ব্যাপক হামলার ঘোষণা দিলেও, তিনি আবারও দাবি করেছেন যে, এই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের অনুরোধে এবং ইরান আলোচনায় সম্মত হওয়ায় তিনি হামলাটি স্থগিত করেছেন। যদিও ইরান ট্রাম্পের আলোচনার অনুরোধের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে এবং অন্যদিকে সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলো ইরানের সাথে আলোচনার এবং অবকাঠামোতে হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষিত মাত্রায় কোনো নতুন হামলা হবে কি না? অথবা নতুন আলোচনা হবে কি না?- তা নির্বিশেষে, প্রমাণ এটাই প্রমাণ করে যে আমেরিকার আচরণের ধরণ ইরানের সাথে সম্পর্কের সংকটকে অব্যাহত রাখছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এখনও তার কৌশলগত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি এবং বর্তমানে ইরানকে নিয়ে তিনটি লক্ষ্য অনুসরণ করছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম লক্ষ্য হলো ইরানের উপর তার রাজনৈতিক ইচ্ছাকে চাপিয়ে দেওয়া। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র শুধু তার সামরিক লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থই হয়নি, বরং এখন দেখছে যে ইরান হরমুজ প্রণালী পরিচালনার জন্য নতুন নিরাপত্তা ব্যবস্থার উপর জোর দিচ্ছে। এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি সামরিক পরাজয়ের চেয়েও খারাপ, কারণ যুদ্ধের আগেও হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত ছিল। এই প্রসঙ্গে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে ও বাইরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও ব্যাপক সমালোচনা উঠছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের দৃষ্টিতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য হলো এই অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের প্রয়োজনীয়তা। ইসরায়েল পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে প্রভাবশালী সামরিক শক্তি হয়ে উঠতে চাইছে। এই অঞ্চলে ইসরায়েলের শ্রেষ্ঠত্ব যুক্তরাষ্ট্রের জন্যও সর্বোত্তম স্বার্থের অনুকূল। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের কৌশল হলো এই অঞ্চলে ইসরায়েলের আধিপত্য বজায় রাখার লক্ষ্যে ইরানের ক্ষমতা ও প্রতিরোধের উৎসগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া।

আমেরিকার তৃতীয় লক্ষ্যও হলো ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সক্ষমতা ধ্বংস করে তাকে একটি দুর্বল ইরানে পরিণত করা। প্রকৃতপক্ষে, আমেরিকার জন্য বিষয়টি কেবল একটি "পারমাণবিক ইরান" নয়, বরং একটি "সক্ষম ইরান"। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারণা হলো, পশ্চিম এশীয় অঞ্চলে একমাত্র ইরানই স্বাধীনতা ও নিজস্ব প্রতিরক্ষা ক্ষমতার অধিকারী দেশ এবং এটি এই অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য একটি মডেল হয়ে উঠতে পারে, যার ফলে অন্যান্য দেশও আমেরিকার ওপর নিরাপত্তা নির্ভরতা থেকে নিজেদের মুক্ত করতে চাইবে। #

পার্সটুডে/এমআরএইচ/৪

বিশ্বসংবাদসহ গুরুত্বপূর্ণ সব লেখা পেতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।