সৌদির অনুরোধে সাড়া দিল যুক্তরাজ্য, আকাশপথে দেবে জ্বালানি সহায়তা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i163304-সৌদির_অনুরোধে_সাড়া_দিল_যুক্তরাজ্য_আকাশপথে_দেবে_জ্বালানি_সহায়তা
ইয়েমেনে আগ্রাসনে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে একটি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। বিমানটি সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে।
(last modified 2026-09-22T12:09:55+00:00 )
সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬ ১৮:০৭ Asia/Dhaka
  • RAF Voyager বিমান
    RAF Voyager বিমান

ইয়েমেনে আগ্রাসনে সৌদি আরবকে সহায়তা করতে একটি সামরিক বিমান মোতায়েন করতে যাচ্ছে ব্রিটেন। বিমানটি সৌদি আরবের যুদ্ধবিমানকে আকাশে জ্বালানি সরবরাহে সহায়তা করবে।

ব্রিটিশ প্রতিরক্ষা প্রতিমন্ত্রী লুক পোলার্ড জানিয়েছেন, সাইপ্রাসে অবস্থিত ব্রিটিশ ঘাঁটি থেকে পরিচালিত RAF Voyager বিমানটি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ‘এয়ার-টু-এয়ার রিফুয়েলিং’ বা আকাশে অন্য বিমানে জ্বালানি সরবরাহের কার্যক্রম শুরু করবে। সৌদি আরবের অনুরোধের পর ব্রিটেন এই সহায়তায় সম্মত হয়েছে।

তিনি বলেন, এই সহায়তা হবে সৌদি আরবের সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক অভিযানের জন্য এবং এর মেয়াদ হবে সীমিত—‘কয়েক দিনের পরিবর্তে কয়েক সপ্তাহ’।

ব্রিটিশ সহায়তার ধরন ব্যাখ্যা করে পোলার্ড বিবিসি রেডিও-৪-এর ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে বলেন, সৌদি আরবের অনুরোধে ব্রিটেন আকাশে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করতে সম্মত হয়েছে। এর ফলে সৌদি যুদ্ধবিমান আরও দীর্ঘ সময় আকাশে অবস্থান করতে পারবে।

তিনি বলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামূলক কর্মকাণ্ডের মধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার মতো বিভিন্ন কার্যক্রম থাকবে।

পোলার্ড দাবি করেন, ব্রিটেনের এই সহায়তা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং এটি মিত্রদের প্রতি ব্রিটেনের দায়িত্ব পালনের অংশ।

একটি RAF Voyager বিমান মোতায়েন করা হবে। এটি ব্রিটিশ রয়্যাল এয়ার ফোর্সের মূল নয়টি ভয়েজার বিমানের বহরের অংশ। এর মধ্যে আটটি সামরিক নিবন্ধিত এবং একটি বেসামরিক নিবন্ধিত। প্রয়োজনে আরও পাঁচটি বিমান সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যাওয়ার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপের সঙ্গেও এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ব্রিটেনের স্বার্থ এবং বৃহত্তর অঞ্চলের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। সৌদি আরব হামলার মুখে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক ও জ্বালানি সরবরাহের পথগুলো সচল রাখা প্রয়োজন।

পোলার্ড বলেন, ব্রিটিশ সহায়তার লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরে পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকানো, কারণ এর ফলে ব্রিটেনে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ব্রিটেনের জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশটিতে পেট্রোলের দাম প্রায় চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ডিজেলের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছিল।

লোহিত সাগর দিয়ে চলাচলকারী নৌপথ বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বাণিজ্যিক করিডোর।

আনসারুল্লাহ নেতৃত্বাধীন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সম্প্রতি কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা এবং লোহিত সাগরের প্রবেশপথ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ পেরিম দ্বীপের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের এই নৌপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সৌদি আরব ইয়েমেনের হুথিদের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় চাপের মধ্যে রয়েছে।

ব্রিটেনের জন্য সরাসরি ঝুঁকি আপাতদৃষ্টিতে সীমিত হলেও যুদ্ধের ক্ষেত্রে একটি দেশের সীমিত সম্পৃক্ততা ধীরে ধীরে আরও বড় ধরনের সামরিক অংশগ্রহণে রূপ নিতে পারে। সৌদি আরবের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে, তবে ব্রিটেনে এই পদক্ষেপের বিষয়ে জনমত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।#

পার্সটুডে/এমএআর/২২