আফগানিস্তানে ফের রাজনৈতিক বিরোধ: সিনেট প্রধানের হুঁশিয়ারি
আফগানিস্তানের সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটের প্রধান ফজেল হাদি মুসলেম ইয়ার সরকারের প্রভাবশালী দুই নেতার মধ্যে চলমান বিরোধের পরিণতির বিষয়ে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন। আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি এবং জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের নির্বাহী পরিষদের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর মধ্যে তীব্র মতবিরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ প্রধান এ হুঁশিয়ারি দিলেন। তিনি ব্যক্তিগত বিরোধের অবসান ঘটানো এবং বহু বছর ধরে অর্জিত সাফল্যকে ধরে রাখার স্বার্থে আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ এবং আশরাফ গণির প্রতি আহবান জানিয়েছেন।
আফগান সংসদের উচ্চকক্ষ সিনেটের প্রধান সংসদের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বলেছেন, জনগণ গত ৪০ বছর ধরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর যে সাফল্য অর্জন করেছে তাকে ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচানোর দায়িত্ব ক্ষমতাসীন ব্যক্তির ওপর। আফগান জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের নির্বাহী পরিষদের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর উপস্থিতি ছাড়াই শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে সংসদ প্রধান আরো বলেছেন, একটি রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার প্রতিষ্ঠিত হলেও প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি ওই সমঝোতা বাস্তবায়ন করতে গড়িমসি করছেন।
অন্যদিকে আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণিও আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সাম্প্রতিক মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন। আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ বলেছেন, তার সঙ্গে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির বিরোধ কেবল ব্যক্তিগত কিংবা দ্বিপক্ষীয় নয়। তিনি অভিযোগ করেন, প্রেসিডেন্ট আগেকার সমঝোতাকে উপেক্ষা করে চলেছেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট সমঝোতাকে মেনে নেয়ার কথা জানালেও তা বাস্তবায়নে খুব একটা আন্তরিক নন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী আশরাফ গণি ও আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর মধ্যে ক্ষমতার ভাগাভাগি হওয়ার কথা রয়েছে।
সংবিধান সংশোধনের পর জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের নির্বাহী পরিষদের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর দেশটির প্রধানমন্ত্রী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের দুই বছর অতিক্রান্ত হয়ে গেলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি এবং আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি ওই সমঝোতা তো বাস্তবায়ন করেননি এমনকি তার দল সংসদে উত্থাপিত নির্বাচনী ব্যবস্থা সংশোধনের বিষয়ে আমাদের প্রস্তাব পাশেও বাধা সৃষ্টি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত দুই বছরে আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ আশা করেছিলেন, নিজেদের মধ্যে আলোচনা ও শান্তিপূর্ণভাবে এবং দেশ পরিচালনার ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণি ও তার দলের নীতি অবস্থান চাপা রেখে হয়তো একটা সমাধানে পৌঁছা সম্ভব হবে। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ওই সমঝোতা এখনো বাস্তবায়ন না করায় আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহ ও তার দলের প্রতিবাদ, ক্ষমতার কাঠামো থেকে আব্দুল্লাহকে কৌশলে সরিয়ে দেয়ার গুঞ্জন এবং তাকে বিরোধী দলে পরিণত করার জন্য প্রেসিডেন্ট গণির প্রচেষ্টার কারণে তিনি প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণিকে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি সরকারকে সহযোগিতা না করারও হুমকি দিয়েছেন।
জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের নির্বাহী পরিষদের প্রধান আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহর সহযোগীরা মনে করেন, গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তারাই ছিল বিজয়ী। কিন্তু তাদের বিরোধীরা জালিয়াতির মাধ্যমে আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহকে বিজয়ী হতে দেয়নি। শেষ পর্যন্ত অনেক দেন দরবার ও আলোচনা এবং জাতিসংঘের হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ওই সমঝোতা মেনে নিতে সম্মত হয়েছিলেন এবং তিনি জাতীয় ঐকমত্যের সরকারের নির্বাহী পরিষদের প্রধানের দায়িত্ব নেন। তার অনুসারীরা মনে করেন, আব্দুল্লাহ আব্দুল্লাহই সরকারের প্রধান।
তবে বিশ্লেষকরা আফগানিস্তানে শুরু হওয়া ফের রাজনৈতিক অচলাবস্থাকে সেদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য বিপদজনক বলে মনে করছেন।#
পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/১৫