আজারবাইজানে ইসলামপন্থীদের ওপর চলছে ব্যাপক দমন-পীড়ন
https://parstoday.ir/bn/news/world-i27454-আজারবাইজানে_ইসলামপন্থীদের_ওপর_চলছে_ব্যাপক_দমন_পীড়ন
আজারবাইজানের জেলখানায় আটক সেদেশের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ইসলামী দলের নেতা ড. মোহসেন সামাদাফের ওপর অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। ইসলামী দলের ওই নেতাকে আবারো নির্যাতন সেলে পাঠানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, বিভিন্ন ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো।
(last modified 2026-04-19T07:31:14+00:00 )
ডিসেম্বর ০৪, ২০১৬ ১৫:৫৮ Asia/Dhaka

আজারবাইজানের জেলখানায় আটক সেদেশের জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী ইসলামী দলের নেতা ড. মোহসেন সামাদাফের ওপর অত্যাচার নির্যাতন অব্যাহত রয়েছে। ইসলামী দলের ওই নেতাকে আবারো নির্যাতন সেলে পাঠানোর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে, বিভিন্ন ইসলামী ও জাতীয়তাবাদী সংগঠনগুলো।

'কারাবাগ মুক্তির জন্য ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন এবং জেলখানায় আটক বন্দীদের অধিকার রক্ষা বিষয়ক কমিটি'র ওয়েব সাইটে ড. মোহসেন সামাদাফকে আবারো নির্যাতন সেলে পাঠানোর তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। 'কারাবাগ মুক্তির জন্য ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন' এক বিবৃতিতে বলেছে, সংবিধানে নাগরিকদের যেসব অধিকার দেয়া হয়েছে তা ড. মোহসেন সামাদাফের ক্ষেত্রে মানা হচ্ছে না। বিবৃতিতে ইসলামী দলের নেতা ড. মোহসেন সামাদাফকে নির্যাতন সেলে পাঠানোর ঘটনাকে নিকৃষ্টতম প্রতিহিংসামূলক আচরণ বলে অভিহিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে এ অবস্থা থেকে তার মুক্তির জন্য পদক্ষেপ নিতে কারাবন্দীদের অধিকার ও মানবাধিকার রক্ষা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতিও আহ্বান জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, আজারবাইজানের জেলখানায় আটক ড. মোহসেন সামাদাফের ওপর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলন আগামীতে আরো বেগবান হবে। বলা যায়, ইসলামী দলের এ নেতা এবারই  প্রথম জেলখানায় নির্যাতনের স্বীকার হননি। এর আগেও তিনি ধর্মীয় আহকাম মেনে চলায় এবং রোজা রাখায় নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন এবং তখনও তাকে বিশেষ নির্যাতন সেলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

আজারবাইজান সরকার মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অজুহাতে ২০১১ সালের জানুয়ারিতে ড. মোহসেন সামাদাফকে গ্রেফতার করে এবং বর্তমানে তিনি দীর্ঘ মেয়াদে কারাভোগ করছেন। মাদক বিক্রি ও সরকারের বিরোধিতার অভিযোগ তুলে ড. মোহসেন সামাদাফ ও ইসলামপন্থী তার বহু অনুসারীকে দীর্ঘ মেয়াদে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।

গত এপ্রিলে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সে সময় আজারবাইজানের ইসলামপন্থী দলগুলোর অনুসারীরা যুদ্ধে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট এলহাম আলিয়েভ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল। এলহাম আলিয়েভ সরকার কেন ইসলামপন্থীদের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে তার কারণ এখনো স্পষ্ট নয়। কিন্তু ধারণা করা হচ্ছে, ইসলামপন্থীদের জনপ্রিয়তা ক্রমেই বাড়তে থাকায় আজারবাইজান সরকার আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।

আজারবাইজানের সরকার এমন সময় ইসলামপন্থীদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে যখন দেশটির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের আসল শত্রু অর্থাৎ সৌদি ঘেঁষা ওহাবিদের তৎপরতা বেড়েছে। ওহাবিরা আজারবাইজানে প্রকাশ্যে ও বিনা বাধায় তৎপরতা চালাচ্ছে। এমনকি তাদের হাতে অস্ত্রও রয়েছে এবং ইচ্ছেমতো ব্যবহার করতে পারবে। ওহাবিরা আলিয়েভ সরকারের জন্যও হুমকি। কিন্তু তারপরও সরকার খাঁটি ইসলামপন্থী বিশেষ করে শিয়া মুসলমানদের ওপর জুলুম নির্যাতন চালাচ্ছে। আজারবাইজানে মোট মুসলিম জনসংখ্যার ৮৭ শতাংশই হচ্ছে শিয়া মুসলিম সম্প্রদায়। #   

পার্সটুডে/মোঃ রেজওয়ান হোসেন/৪