ভারতের আচরণ বলে দিচ্ছে আফগান শান্তির বিষয়ে তারা কতটা আন্তরিক: পাকিস্তান
-
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়া
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হার্ট অব এশিয়া সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধির সঙ্গে ভারতের নেতিবাচক আচরণই বলে দিচ্ছে আফগানিস্তানে শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য তারা কতটা ‘আন্তরিক’। আজ (বৃহস্পতিবার) পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র নাফিস জাকারিয়ার বরাত দিয়ে রেডিও পাকিস্তান এ খবর দিয়েছে। তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশে শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে যে প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছিল তার অপব্যবহার করেছে ভারত।
সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে নাফিস দাবি করেন, অমৃতসরে মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলনে পাকিস্তানের প্রতিনিধির সঙ্গে ভারত যে দুর্ব্যবহার করেছে তা আলোচনার পরিবেশ নষ্ট করেছে এবং প্রমাণ করেছে যে, দেশটি কাশ্মিরে ভারতীয় ‘নৃশংসতা’ থেকে মনোযোগ সরানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, “ভারতের সঙ্গে কাশ্মির সমস্যাসহ সব বিষয়ে অর্থবহ ও ফলপ্রসূ সংলাপ চায় পাকিস্তান।”
হার্ট অব এশিয়া সম্মেলনের সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা সারতাজ আজিজকে সংবাদ সম্মেলন করতে দেয়া হয় নি এবং মিডিয়ার সঙ্গে কথা বলতে বাধা দেয়া হয়েছে বলে ইসলামাবাদ অভিযোগ করেছে।
হার্ট অব এশিয়া সম্মেলনের সময় আফগান প্রেসিডেন্ট আশরাফ গণির বিবৃতির বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন জাকারিয়া। সম্মেলনটির কেন্দ্রবিন্দু ছিল যোগাযোগের উন্নয়ন ও নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলার জন্য আফগানিস্তান এবং এর প্রতিবেশীদের মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা। অথচ আশরাফ গণি বলেছিলেন, “গত বছর আফগানিস্তানেই সর্বোচ্চ সংখ্যক হতাহত হয়েছে। এটি অগ্রহণযোগ্য। এখনও অনেক দেশই সন্ত্রাসীদের আশ্রয় দিচ্ছে। সম্প্রতি এক তালেবান কমান্ডার বলেছে, যদি তারা পাকিস্তানে কোনো আশ্রয় না পেত তাহলে তারা একমাসও টিকতে পারত না। আমি কোনো দোষারোপের খেলা খেলতে চাই না, সন্ত্রাসী রপ্তানি প্রতিরোধ করতে তারা কী কী করেছেন আমি তার ব্যাখ্যা চাই”।
ব্রিফিংয়ের সময় নাফিস জাকারিয়া বলেন, আফগানিস্তান বিষয়ে পাকিস্তানের নীতি পরিষ্কার। আফগানিস্তানে উন্নয়ন ও শিক্ষার জন্য পাকিস্তান ৫০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে।” পররাষ্ট্র দপ্তরের এ কর্মকর্তা আফগানিস্তানে কার্যক্রম চালানো আল-কায়েদা, হাক্কানি নেটওয়ার্ক, তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান ও জামাতুল আহরারকে অভিযুক্ত করেছেন এবং সেই ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ আফগানিস্তানের মাটি থেকে পাকিস্তানে আসছে বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, “আফগানিস্তানে হাক্কানি নেটওয়ার্কের আট শীর্ষ কমাণ্ডারের হত্যাকাণ্ড প্রমাণ করে যে, সন্ত্রাসীরা আফগানিস্তানের মাটিতেই রয়েছে, পাকিস্তানে নয়।”
তিনি জানান, পররাষ্ট্র বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী তারিক ফাতেমি সম্প্রতি মার্কিন নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কাশ্মির বিষয়ে মধ্যস্থতা করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিজয়ী ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবকে পাকিস্তান স্বাগত জানিয়েছে বলেও জানান তিনি।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৮