নিহত হয়েছেন পাকিস্তানি তালেবান কমান্ডার ফজল সাঈদ হাক্কানি
-
সশস্ত্র তালেবান যোদ্ধা (ফাইল ফটো)
পাকিস্তানের উর্ধ্বতন তালেবান নেতা ফজল সাঈদ হাক্কানি তার এক প্রহরীর গুলিতে নিহত হয়েছেন। কয়েকটি সূত্রের খবর অনুযায়ী, গতকাল (বৃহস্পতিবার) পাকিস্তানের কুররম পার্বত্য এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হাকিমুল্লাহ মেহসুদের নেতৃত্বাধীন নিষিদ্ধ ঘোষিত তেহরিকে তালেবান পাকিস্তান বা টিটিপি’র কুররম এজেন্সির প্রধান হিসেবে একসময় দায়িত্ব পালন করতেন হাক্কানি। মেহসুদ ২০১৩ সালে মিরামশাহের কাছেই মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত হন।
হাক্কানি পরবর্তী সময়ে টিটিপি থেকে আলাদা হয়ে মসজিদ ও বেসামরিক নাগরিকদের ওপর বোমা হামলার বিরুদ্ধে নিজে তেহরিক-ই-তালেবান ইসলামি নামে একটি দল গঠন করেন। তবে, ওই এলাকার সরকারি সূত্র জানায়, পারাচিনারের কিছু ধারাবাহিক হামলা ও হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন হাক্কানি।
তালেবান সূত্র জানায়, ফজল সাঈদ হাক্কানির বাড়ির কাছেই অন্য জঙ্গিদের সঙ্গে অবস্থানকালে এক প্রহরী তাকে কয়েকবার গুলি করে। গুলিবর্ষণে আরেক কমাণ্ডার শের জামানও নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, খাইবার এজেন্সি থেকে আগত ইদ্রিস আফ্রিদি নামে চিহ্নিত সেই হামলাকারী ঘটনার পর পালিয়ে যায়। দলটির ঘনিষ্ঠ এক সূত্র জানায়, ইদ্রিস তিন বছর ধরে হাক্কানির প্রহরী হিসেবে কাজ করত।
হামলার উদ্দেশ্য পরিষ্কার নয় এবং কোনো গোষ্ঠী এর দায় স্বীকার করে নি। তবে মনে করা হচ্ছে- তালেবান গোষ্ঠীগুলার মধ্যে অভ্যন্তরীণ মত-ভিন্নতার কারণে হাক্কানিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
ওরাকজাই এজেন্সির কাছেই টর গড়ে হাক্কানি তার বিশাল আস্তানা গড়ে তুলেছিলেন। টিটিপি’র সদস্য থাকাকালীন কয়েকজন প্রভাবশালী তালেবান কমাণ্ডারদের একজন ছিলেন তিনি। পার্বত্যাঞ্চল ও উত্তর ওয়াজিরিস্তানের জার্ব-ই-আযব নামে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের পর টিটিপি এবং অন্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো ছত্রভঙ্গ হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাক সামরিক বাহিনী জোর দিয়ে বলছে, সব পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী এখন সীমান্তের আফগান অংশে থেকে কাজ করছে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৯