গোপনে ইয়েমেনে কমান্ডো পাঠাচ্ছে আমেরিকা
https://parstoday.ir/bn/news/world-i33952-গোপনে_ইয়েমেনে_কমান্ডো_পাঠাচ্ছে_আমেরিকা
যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে কমান্ডো সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে মার্কিন সেনা সদরদপ্তর পেন্টাগন। এসব সেনাকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে মোতায়েন করা হবে এবং তারা ‘বিশেষ অভিযানের’ জন্য খুবই পারদর্শী।
(last modified 2026-07-21T05:57:31+00:00 )
মার্চ ০৪, ২০১৭ ২১:৫০ Asia/Dhaka
  • ইয়েমেনে নিহত সিল-এর পেটি অফিসার রাইয়ান ওয়েন্সের লাশ বহন করছে নৌবাহিনী
    ইয়েমেনে নিহত সিল-এর পেটি অফিসার রাইয়ান ওয়েন্সের লাশ বহন করছে নৌবাহিনী

যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেনে কমান্ডো সেনা পাঠানোর প্রক্রিয়া জোরদার করেছে মার্কিন সেনা সদরদপ্তর পেন্টাগন। এসব সেনাকে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে মোতায়েন করা হবে এবং তারা ‘বিশেষ অভিযানের’ জন্য খুবই পারদর্শী।

মার্কিন সরকারের এ পদক্ষেপের কারণে ধারণা করা হচ্ছে- ইয়েমেনে তারা খুবই জোরদারভাবে সামরিক অভিযান চালাতে যাচ্ছে। আল-কায়েদা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানের জন্য কমান্ডো পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে বলে দাবি করছে পেন্টাগন। এছাড়া, সিরিয়া ও আঞ্চলিক কয়েকটি দেশে তৎপর উগ্র দায়েশ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধেও মার্কিন সেনারা অভিযান চালাবে বলে মার্কিন টেলিভিশন চ্যানেল এবিসি’র কাছে দাবি করেছেন আমেরিকার সাবেক ও বর্তমান কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।

জানুয়ারি মাসের শেষ দিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী গত দুই বছরের মধ্যে প্রথম স্থল অভিযান চালায়। এরপর চলতি সপ্তাহে কয়েক দফা বিমান হামলা চালিয়েছে আমেরিকা। ইয়েমেনে আল-কায়েদার বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কথা বলা হলেও ইয়েমেনে মার্কিন গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ রক্ষার জন্য সেখানে সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়ছে বলে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।

মার্কিন সেনাঘাঁটি পরিদর্শনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প

এডেন সাগরের বাবুল মান্দাব প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন বিশ্বের জ্বালানি তেলের উল্লেখযোগ্য একটা অংশ পার হয়। ইয়েমেন যুদ্ধে আনসারুল্লাহ যোদ্ধারা সৌদি আরব ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এ যুদ্ধে তারা বিজয়ী হলে বাবুল মান্দাব ও এডেন উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ অংশের নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের হাতে। ইয়েমেনের এ যোদ্ধারা তীব্রভাবে সৌদি রাজতন্ত্র ও মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী। ফলে এ অঞ্চলে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান হারাবে আমেরিকা ও তার মিত্ররা; পাশাপাশি আনসারুল্লাহ যোদ্ধাদের সঙ্গে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান এবং তার মিত্রদের সম্পর্ক গভীর হওয়ার একান্তই সম্ভাবনা রয়েছে। এসব বিষয় চিন্তা করে ইয়েমেনের ভেতরে কিংবা আশাপাশে সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর পরিকল্পনা নিচ্ছে। সিরিয়া কিংবা ইরাকেও দায়েশের বিরুদ্ধে মার্কিন অভিযান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের অভিযানে কত দায়েশ সন্ত্রাসী মারা গেছে তা নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বেসামরিক মানুষ মারার খবর মাঝেমধ্যেই পাওয়া যায়। অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র তত্ত্বাবধানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে নানা নামে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে তোলা হয়েছে আমেরিকার স্বার্থ রক্ষার জন্য।

চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি মার্কিন স্থলবাহিনী ইয়েমেনে যে সামরিক অভিযান চালিয়েছে তাতে ২৫ জন বেসামরিক নিরীহ মানুষ মারা গেছে। সে সময় মার্কিন নৌবাহিনীর কমান্ডো ‘সিল’র একজন সদস্য মারা যায়। এছাড়া, যে এলাকায় মার্কিন সেনারা অভিযান চালায় সেখানে সাড়ে সাত কোটি ডলারের সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর গোপন অভিযান পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে -এমন এক সেনা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বিদেশে এ ধরনের আরো অভিযান পরিচালনার কর্তৃত্ব দিয়েছে পেন্টাগনকে।#   

পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৪