গুরুত্বপূর্ণ সফরে ইরান আসছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
-
মেহদি হোনারদুস্ত (বামে) ও জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া
পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান সফর করবেন। তেহরান ও রিয়াদের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার জন্য তিনি এ সফরে আসছেন। কয়েকদিন আগে সৌদি আরবে গোপন সফরের পর পাক সেনাপ্রধান তেহরান সফর করতে যাচ্ছেন।
পাকিস্তানে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূত মেহদি হোনারদুস্ত পাক সেনাপ্রধান জেনারেল কামার জাভেদের আসন্ন তেহরান সফর উপলক্ষে মঙ্গলবার রাওয়ালপিণ্ডির সেনা সদরদপ্তর পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি পাক সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
পরে পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর বা আইএসপিআর এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরানি রাষ্ট্রদূত ও সেনাপ্রধান তাদের বৈঠকে আঞ্চলিক শান্তি এবং পাক-ইরান সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন। পাশাপাশি ইরানি রাষ্ট্রদূত সেনা সদরদপ্তর ঘুরে দেখেন।
এ সময় মেহদি হোনারদুস্ত আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন এবং ভ্রাতৃপ্রতীম দু দেশের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
তেহরানে পাক সেনাপ্রধানের আসন্ন সফরে যে বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে তা হলো- সৌদি নেতৃত্বাধীন কথিত ইসলামি সামরিক জোটে পাকিস্তানের ভূমিকা কী হবে। সৌদি সামরিক জোটে যোগ দেয়ার বিষয়ে যখন পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছিল তখন ইরান মোটেই খুশি হয় নি। পাকিস্তান বার বার বলছে- এ জোটে তার যোগ দেয়ার প্রধান উদ্দেশ্য হলো সন্ত্রাসবাদ-বিরোধী লড়াই। তবে ইরান সবসময় আশংকা করছে- এ জোটের মাধ্যমে মুসলিম বিশ্বে সাম্প্রদায়িক বিভেদ উসকে দেয়া হবে।
গত রোববার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে দিনব্যাপী একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই সম্মেলনে দেয়া বক্তৃতায় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবায়ের তার ভাষায় বলেছেন, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ করে ইয়েমেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ইরান বাধা দিচ্ছে। ওই সম্মেলনে পাক সেনাপ্রধানের পাশাপাশি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী খাজা মুহাম্মাদ আসিফ ও চিফ অব জেনারেল স্টাফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল বিলাল আকবর যোগ দেন। তবে, মজার বিষয় হলো- এ ব্যাপারে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা আইএসপিআর কোনো বিবৃতি প্রকাশ করে নি।
জেনারেল কামার জাভেদ বাজওয়ার আসন্ন তেহরান সফর আরেকটি দিক থেকেও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। সেটা হচ্ছে- সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগান নীতি ঘোষণা করেছেন যা পাকিস্তানের জন্য সংকটের কারণ বলে বিচেনা করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইরানসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে শলাপরামর্শ করছে পাকিস্তান। পাকিস্তান চাইছে ১৬ বছরের পুরনো এ সমস্যা আঞ্চলিকভাবেই সমাধান করা হোক। ইসলামাবাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি এরইমধ্যে ইরান, রাশিয়া, চীন ও তুরস্ক বিবৃতি দিয়ে সমর্থন জানিয়েছে।#
পার্সটুডে/সিরাজুল ইসলাম/৩১