তুরস্কে সৌদি সাংবাদিকের সম্ভাব্য মৃত্যুর ঘটনা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিচ তুরস্কে সৌদি সরকার বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগের সম্ভাব্য নিহত হওয়ার খবরের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, জাতিসংঘ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিষয়টির ওপর নজর রাখছে।
এই সাংবাদিক গত মঙ্গলবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করার পর তাকে আর বের হতে দেখা যায়নি। ফলে তাকে হত্যা করে লাশ অন্যত্র সরিয়ে ফেলা হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তুরস্ক সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তিনি যদি সত্যিই নিহত হয়ে থাকেন তাহলে তার মৃত দেহ এখনো পাওয়া যায়নি। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে সেদেশের সরকার বিরোধী সাংবাদিক নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা থেকে বোঝা যায় সরকারের সমালোচনাকারীদের জীবন এমনকি দেশের বাইরেও নিরাপদ নয়।
সৌদি আরবে মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসব ক্ষেত্রে সৌদি আরবে পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটেছে। সৌদি সাংবাদিক জামাল খাশোগির নিখোঁজের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এর আগেও গত কয়েক বছরে সৌদি সরকারের কট্টর সমালোচনাকারী রাজ পরিবারের তিন সদস্য ইউরোপে অপহৃত হয়েছিলেন। বিদেশের মাটিতে অনেককেই হত্যা করা হয়েছে। এ প্রসঙ্গে সৌদি নাগরিক নাসের আল সাঈদের কথা উল্লেখ করা যায়। প্রিন্স সুলতান বিন তুর্কি সরকারের অন্যতম সমালোচনাকারী হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছেন। তিনি ২০০৩ সালে জেনেভায় এবং এরপর ২০১৬ সালে কায়রোয় যাওয়ার পথে ফের অপহৃত হয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবে কারাভোগ করছেন। এ ছাড়া, সাবেক সৌদি নিরাপত্তা কর্মকর্তা প্রিন্স তুর্কি বিন বান্দার আলে সৌদকে ২০১২ সালে মরোক্ক যাওয়ার সময় আটক করা হয়। তিনিও সৌদি সরকারের সমালোচনা করে সংস্কারের দাবি তুলেছিলেন।
যাইহোক, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পূর্ণ সমর্থন নিয়ে সৌদি কর্মকর্তাদের অপরাধযজ্ঞ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে মোহাম্মদ বিন সালমান যুবরাজের পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার পর তিনি মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের সহযোগীতে পরিণত হয়েছেন। তার নির্দেশে এ পর্যন্ত বহু ব্যবসায়ী, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, রাজ পরিবারের একাধিক সদস্য, কবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও মানবাধিকার কর্মীকে গ্রেফতার ও কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে যাদের মধ্যে অনেক নারীও রয়েছেন।
নিখোঁজ সৌদি সরকার বিরোধী সাংবাদিক জামাল খাশোগির আমেরিকায় ফিরে যাওয়ার কথা ছিল এবং ধারণা করা হচ্ছে, তার অদৃশ্য হওয়ার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে অথবা মার্কিন কর্মকর্তারা আগে থেকেই সব কিছু জানতেন। এ কারণে এ ঘটনায় আমেরিকার সবুজ সংকেত থাকার বিষয়ে সন্দেহ আরো জোরালো হয়েছে।
নিখোঁজ সাংবাদিকের সঙ্গে তুর্কি কর্মকর্তা বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক ছিল এবং সম্ভাব্য হত্যার ঘটনা তুরস্কে সংঘটিত হওয়ায় নিঃসন্দেহে আঞ্চলিক অঙ্গনে এর ব্যাপক প্রভাব পড়বে। এ অবস্থায় হত্যার ঘটনা যদি প্রমাণিত হয় তাহলে সৌদি-তুরস্ক সম্পর্ক আরো তিক্ত হয়ে উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১০
- খবরসহ আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সব লেখা ফেসবুকে পেতে এখানে ক্লিক করুন এবং নোটিফিকেশনের জন্য লাইক দিন