কিমের সৎভাইকে হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পেলেন দ্বিতীয় নারী
মালয়েশিয়ার সরকারি কৌঁসুলিরা ভিয়েতনামের এক নারীর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উনের সৎ ভাইকে হত্যার অভিযোগ প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা এর চেয়ে কম মাত্রার অপরাধের অভিযোগ এনেছেন যার ফলে ওই নারী শিগগিরই মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরে নাকেমুখে রাসায়নিক গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত হন কিম জং-ন্যাম। তার মুখে রাসায়নিক দ্রব্য মেখে দেয়ার অভিযোগ স্বীকার করেছেন ভিয়েতনামি নারী ডোয়ান থি হুয়ং। ৩০ বছর বয়সি এই নারীকে ঘটনার দিনই মালয়েশিয়ার পুলিশ আটক করে। তাকে সে সময় যে তিন বছর চার মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল এরইমধ্যে তার দুই বছরের জেল খাটা শেষ হয়েছে।
ওই নারীর আইনজীবী জানিয়েছেন, আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে তিনি মালয়েশিয়ার আইনে থাকা সুবিধা নিয়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন।
এর আগে গতমাসে কিম জং-ন্যামের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত অপর নারী ২৬ বছর বয়সি সিতি আইসিয়ার ওপর থেকেও হত্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়। এর ফলে তিনি গত মাসেই মুক্ত হয়ে নিজ দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ফিরে গেছেন।
গত বছর আদালতে প্রদর্শন করা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ওই দুই নারী ন্যামের মুখে রাসায়নিক গ্যাস প্রয়োগ করে দ্রুত আলাদা দু’টি বাথরুমে প্রবেশ করেন। পরে তারা নিরাপদে বিমানবন্দর ত্যাগ করে চলে যান। সরকারি কৌঁসুলিরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছিলেন, এই দুই নারী পেশাদার খুনি এবং উত্তর কোরিয়া সরকার তাদেরকে নিয়োগ দিয়েছে।
কিন্তু তাদের আইনজীবীরা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, মূলত উত্তর কোরিয়ার চার এজেন্ট এই হত্যাকারণ্ডের পরিকল্পনা করে এবং আলোচিত দুই নারীকে ভাড়া করে। হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত হলে ভিয়েতনাম ও ইন্দোনেশিয়ার এই দুই নারীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হতো।#
পার্সটুডে/মুজাহিদুল ইসলাম/আশরাফুর রহমান/১