ইয়েমেনে সৌদি আগ্রাসনে মদদ বন্ধে কংগ্রেসের বিল! টিকবে কী?!
ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের আগ্রাসন একটানা পঞ্চম বছরের মত অব্যাহত থাকার প্রেক্ষাপটে এ আগ্রাসনে সৌদি জোটকে মার্কিন সরকারের সহায়তা বন্ধ করতে বলেছে মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু কংগ্রেসের এ সংক্রান্ত প্রস্তাবকে নাকচ করে দিতে পারে হোয়াইট হাউস।
ইয়েমেনে সৌদি-আমিরাতি আগ্রাসনে সর্বাত্মক মদদ যোগাচ্ছে দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেন। সৌদি আরবকে সামরিক, লজিস্টিক, রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা তথ্যসহ সর্বাত্মক সমর্থন, সাহায্য ও সহযোগিতা করছে নব্য-উপনিবেশবাদী এই সরকারগুলো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইয়েমেন যুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন আগ্রাসী জোটের পক্ষে প্রত্যক্ষভাবেও অংশগ্রহণ করছে।
সম্প্রতি মার্কিন দৈনিক নিউ ইয়র্ক টাইমস ইয়েমেনের নিরীহ জনগণকে হত্যায় আমেরিকার সরাসরি ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেছে। দৈনিকটি সৌদি আরবের কাছে আমেরিকার বিপুল পরিমাণ সমরাস্ত্র বিক্রির কথা উল্লেখ করে লিখেছে, ইয়েমেনে চালানো গণহত্যায় আমেরিকার হাত থাকার বিষয়টি এখন সুস্পষ্ট।
নিউ ইয়র্ক থেকে প্রকাশিত দৈনিকটি এক নিবন্ধে আরো লিখেছে, আমেরিকার পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া ইয়েমেনে সামরিক আগ্রাসন চালানো সৌদি আরবের পক্ষে সম্ভব নয়। ইয়েমেনে হামলাকারী সৌদি ও আমিরাতি জঙ্গি বিমানগুলোকে জ্বালানী দিয়ে আসছিল আমেরিকা। অবশ্য গত নভেম্বর মাসের পর থেকে ওই বিমানগুলোকে আর জ্বালানি দিচ্ছে না বলে দাবি করছে ওয়াশিংটন। কিন্তু ইয়েমেনের বিরুদ্ধে সৌদি জোটকে অন্য সব ধরনের সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা এখনও দিয়ে যাচ্ছে মার্কিন সরকার।
ইস্তাম্বুলে সৌদি কন্সুলেটে সংঘটিত সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে নৃশংসভাবে হত্যার কেলেঙ্কারি ফাঁস হওয়ার পর সৌদি সরকারকে শাস্তি দিতে মার্কিন সরকারের ওপর বিশ্ব জনমতের চাপ বাড়ে। এ অবস্থায় ইয়েমেনের ওপর অমানবিক সৌদি আগ্রাসনের প্রতি সহায়তা ও সমর্থন বন্ধ করার দাবিও জোরদার হয়ে ওঠে। সৌদি যুবরাজের ইঙ্গিতেই খাশোগিকে হত্যা করে হয় বলে নানা প্রমাণ ও লক্ষণ দেখা গেছে।
এরই প্রেক্ষাপটে গতকাল (বৃহস্পতিবার) মার্কিন প্রতিনিধি-পরিষদ ইয়েমেনে সৌদি জোটের যুদ্ধে মার্কিন সহায়তা বন্ধের এক প্রস্তাব পাস করেছে। এই বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ২৪৭টি এবং বিপক্ষে ভোট পড়ে ১৭৫টি। আগামী ত্রিশ দিনের মধ্যে ইয়েমেন যুদ্ধে জড়িত বা এ যুদ্ধে পরোক্ষ ভূমিকা পালনকারী সব মার্কিন সেনাকে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
এর আগে গত ১৯ মার্চ একই প্রস্তাব সিনেটেও পাস হয়। সিনেটে এ প্রস্তাবের পক্ষে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দলের ৭ জন সিনেটরসহ ৫৪ জন সিনেটর এবং বিপক্ষে ৪৬ জন সিনেটর ভোট দেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স ইয়েমেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে মার্কিন অংশগ্রহণকে আমেরিকার সংবিধান লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।
মার্কিন কংগ্রেসের এই বিলের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেটো দিতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হোয়াইট হাউজ এই বিলকে ত্রুটিপূর্ণ বলে অভিহিত করেছে এবং এই বিল সৌদি সরকারসহ পশ্চিম এশিয়ার মার্কিন মিত্র সরকারগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
মার্কিন সরকার এখন সৌদি সরকারের কাছে নানা ধরনের গণ-বিধ্বংসী অস্ত্রের প্রধান যোগানদাতা। এসব অস্ত্র প্রায়ই দরিদ্র ইয়েমেনের বেসামরিক জনগণ ও বেসামরিক অবস্থানে ব্যবহার করছে রিয়াদ। ফলে প্রাণ হারাচ্ছে নারী ও শিশুসহ হাজার হাজার ইয়েমেনি নাগরিক এবং ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে ইয়েমেনের বেসামরিক নানা কাঠামো। এসব হামলার কারণে ইয়েমেনিদের কাছে মানবিক ত্রাণ সাহায্য পাঠানোও সম্ভব হচ্ছে না। ইয়েমেনের এ পরিস্থিতিকে জাতিসংঘ বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবীয় বিপর্যয় বলে উল্লেখ করেছে।
বারবারা ভ্যালির মত অস্ট্রিয়ান বিশেষজ্ঞের মতে ইয়েমেনে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী যুদ্ধ ও যুদ্ধ অপরাধের দায় এড়াতে পারে না মার্কিন ও ব্রিটেন সরকার।
কিন্তু মার্কিন সরকার চায় কংগ্রেস যেন খাশোগী হত্যার ঘটনা এড়িয়ে যায় এবং সৌদির সঙ্গে স্বাক্ষরিত বিপুল অর্থের অস্ত্র চুক্তিসহ নানা ধরনের আঞ্চলিক মার্কিন স্বার্থ রক্ষার্থে সৌদি সরকার বিরোধী কোনো পদক্ষেপ না নেয়। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, খাসোগি হত্যা অগ্রহণযোগ্য ও সমর্থনযোগ্য নয়, কিন্তু সৌদি সরকার মধ্যপ্রাচ্যের খুব বড় শক্তি হওয়ায় রিয়াদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া ঠিক হবে না। #
পার্সটুডে/এমএএইচ/৫